ঈদে অসহায়-নিম্নবিত্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতি

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

মেহেদী হাসান বিশেষ প্রতিনিধি:– কোনো মানুষ যেন ঈদের আনন্দ হতে বঞ্চিত না হয় সে লক্ষ্যে অসহায় ও নিম্নবিত্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেশের বিত্তবান ও স্বচ্ছল ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।রবিবার (১০ জুলাই) বঙ্গভবনে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় শেষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যা মোকাবিলায় বন্যাদুর্গত, অস্বচ্ছল ও নিম্নআয়ের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে চলমান বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রমে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়েও উদ্যোগ নিতে হবে।তিনি বলেন, সব সংকট মোকাবিলা করে নতুন সম্ভাবনায় এগিয়ে যেতে দরকার সবার সম্মিলিত প্রয়াস। বিশেষত করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে যথাযথ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। সঠিকভাবে মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে। বৈশ্বিক নানামুখী সংকটের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিগত দুই বছরের করোনা মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই এর সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট। এসব যুদ্ধ-সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি চাপের মুখে পড়েছে, বেড়েছে মূল্যস্ফীতির চাপ।আবদুল হামিদ বলেন, সরকার এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বিভিন্ন প্যাকেজ প্রণোদনা প্রদানসহ বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। কৃষি ও শিল্পসহ উৎপাদনশীল প্রতিটি খাতের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতেও সরকার সর্বাত্মক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

গৌরবের নিদর্শন পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবারের ঈদের আগেই দেশবাসীর কাছে মহাখুশির উপলক্ষ্য হয়ে এসেছে এই সেতুর উদ্বোধন। এর মাধ্যমে ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের ২১ জেলার তিন কোটি মানুষের বহুমুখী যোগাযোগের অপার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আগামী বছর সেতুতে রেল সংযোগ স্থাপিত হলে দেশের সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন মাত্রা যোগ হবে।তিনি দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলিমদের পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান।রাষ্ট্রপতি বলেন, মহান আল্লাহর প্রতি গভীর আনুগত্য ও সর্বোচ্চ ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর পবিত্র কোরবানি ত্যাগের শিক্ষা আমাদের ব্যক্তি জীবনে প্রতিফলিত হলেই সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে শান্তি ও সৌহার্দ্য।তিনি সবাইকে ঈদুল আজহার মর্মার্থ অনুধাবন করে সমাজে শান্তি ও কল্যাণের পথ রচনা করতে সবাইকে সংযম ও ত্যাগের মানসিকতায় উজ্জীবিত হওয়ার পরামর্শ দেন।

সবাই সরকার নির্ধারিত স্থানে কোরবানি সম্পন্ন করে যথাসময়ে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে সচেষ্ট থাকবেন বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপ্রধান।