প্রাইভেটকারের ওপর কনটেইনার, যেভাবে বেঁচে গেল ৫ আরোহী

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

চট্টগ্রাম:- চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রাইভেটকারের ওপর ৩৫ টন ওজনের একটি কনটেইনার লরি থেকে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রাইভেটকারে থাকা পাঁচ যাত্রী অলৌকিকভাবে বেঁচে যান।

শনিবার (৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে বেলা ১১টার দিকে প্রাইভেটকারের ভেতরে আটকা পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা। উদ্ধারকারী দলের নেতৃত্ব দেন কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ।

বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা হলেন, ফটিকছড়ি উপজেলার শাহনগর মাইজভান্ডার এলাকার বাসিন্দা মুসা আহাম্মেদ (৬২), তার মেয়ের স্বামী আবু বক্কর (৪২), দুই নাতনি আদিবা হোসেন ও আদিলা হোসেন।

জানা গেছে, শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে বিদেশ ফেরা জামাতাকে নিয়ে প্রাইভেটকারে করে বাড়ি ফিরছিলেন মুসা। তার সঙ্গে ছিল দুই নাতনিও। পরে ওই মহাসড়ক ইউটার্ন করার সময় হঠাৎ প্রায় ৩৫ টন ওজনের একটি কনটেইনার লরি থেকে প্রাইভেটকারের ওপর পড়ে যায়। এতে গাড়ির ভেতরেই আটকা পড়েন তারা।এদিকে সংবাদ পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারে অভিযান শুরু করেন।

স্টেশন কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, শনিবার সকালে খবর পেয়ে দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি কনটেইনারের নিচে একটি প্রাইভেটকার চাপা পড়ে আছে। আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করি, একজনও হয়তো বেঁচে নেই। তখন আমরা উদ্ধার কাজ কীভাবে করব, সে রকম একটা পরিকল্পনা করছিলাম। এ সময় ভেতর থেকে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার শুনতে পাই। ওই সময় নিশ্চিত হই ভেতরে থাকা লোকজন এখনও জীবিত আছেন। কিন্তু পুলিশের যে রেকার সেটি ৩৫ টন ওজনের কনটেইনারটি তুলে ধরার ক্ষমতা ছিল না। এ সময় পরিকল্পনা করি, কনটেইনারের একপ্রান্ত রেকার দিয়ে তুলে ধরা হবে, যাতে চাপা পড়ে থাকা প্রাইভেটকারটি থেকে আটকে পড়াদের বের করে আনা যায়। তবে সেখানেও ঝুঁকি ছিল। কিন্তু তাৎক্ষণিক এ রকম পরিকল্পনা করা ছাড়া আর কোনো উপায়ও ছিল না। তখন পুলিশকে দ্রুত বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন ক্রেনের ব্যবস্থা করতে বলা হয়।

তিনি আরও বলেন, ১৫ মিনিট পর বড় ক্রেন নিয়ে এলে কনটেইনারের যে অংশ আগে থেকে তোলা ছিল, সে অংশকে ক্রেন দিয়ে টেনে ধরা হয় ও রেকারভ্যান দিয়ে প্রাইভেটকারটি টেনে বের করে আনা হয়। এরপর আরোহীদের জীবিত উদ্ধার করা হয়। তবে প্রাইভেটকারে থাকা এক শিশু দুর্ঘটনার আগমুহূর্তে কোনোভাবে জীবিত বের হয়ে গেছে। এ ঘটনায় সবাই সুস্থ আছেন।