বিশ্বকে মহামারি থেকে বাঁচাতে পারেন বিজ্ঞানীরাই, রাজনীতিকরা নয়, এমনটাই মত বিশেষজ্ঞ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

নিজস্ব প্রতিবেদন// বিশ্বকে মহামারি থেকে বাঁচাতে পারেন বিজ্ঞানীরাই, রাজনীতিকরা নয়, এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের। করোনার উৎস নিয়ে বিশ্বশক্তিগুলোর পারস্পরিক অভিযোগের মধ্যে তারা এমনটা বললেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক মতবিরোধ কমানো গেলে হয়তো জানা যাবে করোনাভাইরাসের সত্যিকারের উৎস।মহামারি শুরু পর থেকেই চলছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আর দোষারোপের খেলা। শুরু থেকেই মার্কিন প্রশাসন বলতে থাকে, করোনাভাইরাসের জন্য চীনই দায়ী। ইচ্ছা কিংবা অনিচ্ছায় হোক, প্রাণঘাতী ভাইরাসটির উৎপত্তি কমিউনিস্ট দেশটিতেও।এমনকি ট্রাম্প প্রশাসনের পর বাইডেন প্রশাসন আসলেও, ভাইরাস ইস্যুতে চীনের প্রতি মনোভাব একটুও বদলায়নি যুক্তরাষ্ট্রের। আর শনিবার (২৯ মে) ট্রাম্প আমলের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও অভিযোগ করলেন, উহানের গবেষণাগারের সাথে চীনা সামরিক বাহিনীর সম্পৃক্ততা রয়েছে।তবে বরাবরই মার্কিন অভিযোগ অস্বীকার করেছে বেইজিং। পাশাপাশি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বলছে, গবেষণাগার থেকেই নভেল করোনা ছড়ানো হয়েছে, এমন কোন প্রমাণ পায়নি তাদের বিজ্ঞানীরা।কিন্তু তাতেও সন্দেহের তীর একটুও সরে যায়নি চীনের ওপর থেকে। সম্প্রতি মার্কিন গোয়েন্দাদের বরাতে ওয়াশিংটন পোস্টের খবর প্রকাশ করে, ২০১৯ এর নভেম্বরেই উহান ভাইরোলজি ইনস্টিটিউটের তিন গবেষক করোনার লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এ খবরের পর, তার গোয়েন্দাদের আরো তৎপর হতে নির্দেশ দিয়েছেন বাইডেন। এমনকি, উহানে দ্বিতীয়বারের মত তদন্ত দল পাঠাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতি আহ্বান তার। সব মিলিয়ে গেল এক বছরেরও বেশি মহামারিকালে বিশ্বনেতাদের দোষারোপের রাজনীতিই বেশি দেখা গেছে।এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক বিরোধ মেটানো গেলে, হয়তো জানা যাবে, কিভাবে এবং কোথায় উৎপত্তি ভয়াবহ এই ভাইরাসের।সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির রিসার্চ ফেলো কিশোর মাহবুবানি বলেন, রাজনৈতিকভাবে তদন্ত না করে, আমাদের উচিত বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে বিষয়টাকে দেখা। দয়া করে, সিদ্ধান্ত নেয়ার ভারটা বিজ্ঞানীদের ওপর ছেড়ে দিন। তারাই বলুক, কোথা থেকে এলো করোনা।সাবেক এই কূটনীতিক আরো বললেন, মানবজাতিকে এই দুর্যোগ থেকে বিজ্ঞানীরাই রক্ষা করতে পারেন, রাজনীতিকরা নয়। কিশোর মাহবুবানি আরো জানান, গবেষকদের নিজেদের মধ্যে বিশ্বাস ও যোগাযোগ বাড়াতে হবে। কারণ কেবল তারাই বিজ্ঞানের ভাষা বোঝেন। সেটাই এই মুহুর্তে সবচেয়ে জরুরি। একমাত্র তারাই সত্য উদঘাটন করতে চান।