দৌলতপুরের চরাঞ্চলে আতঙ্কের নাম সাত সন্ত্রাসী বাহীনি!

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ৪টি ইউনিয়ন চরাঞ্চল। আর সেই সেসকল ইউনিয়নে চর দখল থেকে শুরু করে পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন, অস্ত্র ব্যবসা, মাদক ব্যবসা সহ বিভিন্ন রকম অবৈধ ব্যবসা এবং নিজদের আধিপত্ব বিস্তারের জন্যই তৈরী হয়েছে সাতটি সন্ত্রাসী বাহিনী বলে জানাগেছে।

সূত্রমতে জানায়, প্রতিটি সশস্ত্র সন্ত্রসী বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ২৫-৩০ জন। তাদের প্রত্যেকের কাছেই থাকে দেশি-বিদেশি অত্যাধনিক অস্ত্র। চরাঞ্চলে এমন সশস্ত্র অন্তত সাতটি সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে এখন। সূত্র আরো বলছে, বিস্তীর্ণ চরে এসব বাহিনীর সদস্যদের জন্য খাওয়া-দাওয়া, বিনোদন, প্রশিক্ষণ, রাত্রিযাপন, মাদক, নারীসঙ্গসহ সবকিছুরই ব্যবস্থা আছে।

রাখালের গরুর পাল থেকে অস্ত্রের মুখে গরু ছিনতাই, বিভিন্ন বাণিজ্যিক ট্রলারে চাঁদাবাজি, অবৈধভাবে বালু ও মাটি কেটে বিক্রি, মাদক চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত এসব বাহিনীর সদস্যরা। অনেক সময় আধিপত্য বিস্তারসহ অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে র জের ধরে এক বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে অন্য বাহিনীর সদস্যদের গোলাগুলি, বোমা নিক্ষেপসহ সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। তবে এসব বাহিনীর সদস্যদের ভয়ে মুখ খোলা থেকে সর্বদা দুরে থাকেন চরাঞ্চলের সাধারন বাসিন্দারা।

এসব বাহিনীর বেশিরভাগ সদস্যদের নামে মারামারি, খুন, ডাকাতি, ধর্ষণ, চুরিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। সন্ত্রাসী বাহিনী গুলোর মধ্যে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া পান্না বাহিনী, লাল চাঁদ বাহিনী, পূর্ব বাংলা কমিউনিষ্ট পার্টি, গণবাহিনী ও লাল পতাকা বাহিনীর দু-একজন করে সদস্য এখনো সক্রিয় রয়েছে। সূত্রের তথ্যমতে জানাজায়, ঔ সকল বাহিনীতে জড়িয়ে পড়েছেন দৌলতপুরের অন্তত ২০০জন তরুণ-যুবক।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তি ও প্রভাবশালীরা তাদের ‘আশ্রয় প্রশ্রয়’ দেন বলে জানা গেছে। ভারত সীমান্তবর্তী ঘেঁষা ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই উপজেলার ৪৮কিলোমিটার এলাকাজুড়ে রয়েছে ভারত সীমান্ত। সীমান্তঘেঁষা এ উপজেলায় এখন অস্ত্র ও মাদকের ছড়াছড়ি।

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চরাঞ্চলে এসব বাহিনীর আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয়রা। চরাঞ্চলে সন্ত্রাসী বাহিনীর আনাগোনা ও অস্তিত্বের বিষয় স্বীকার করে ফিলিপনগর ইউপি চেয়ারম্যান নঈম উদ্দিন সেন্টু বলেন, তার ইউনিয়নে আগে একসময় এমন বাহিনী থাকলেও এখন নেই বলে জানান তিনি।

চিলমারী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, তিনি এ ধরনের সন্ত্রাসী বাহিনীর কথা শুনেছেন কিন্তু দেখেননি। তবে, অস্ত্রসহ বিভিন্ন কালোবাজারি ব্যবসা চলে বলে জানান তিনি। প্রাগপুর ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল বলেন, আমার ইউনিয়নের মানুষ এদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অভিযোগ দেন যে তারা অতিষ্ঠ। তবে এখনো কোনো সমাধান আসেনি বলে জানান তিনি। সীমান্ত সংলগ্ন রামকৃষ্ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল দাবি করে বলেন, তার ইউনিয়নে এমন কোনো বাহিনী নেই বলে এক কথায় জানিয়ে দেন তিনি।

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ওইসব অঞ্চলে এমন বাহিনীর কোনো তথ্য তার কাছে নেই বলে জানান।

এ বিষয়ে ফিলিপনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য আ.কা.ম সরওয়ার জাহান বাদশাহ বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে খোঁজখবর নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি জানাবো। তারা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিষয়টি সম্পর্কে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভেড়ামারা সার্কেল) মহসীন আল মুরাদ বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।