সম্পদের হিসাব না দেওয়া কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চলছে শাস্তির প্রক্রিয়া

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

অনলাইন ডেস্ক:- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন ক্যাডার কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থা, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও মাঠ প্রশাসনের কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ৬৮ হাজার।

এর মধ্যে ৬ হাজার ৫৩৯ জন ক্যাডার কর্মকর্তা, এবং পাঁচ হাজারের বেশি কর্মকর্তা তাদের সম্পদের হিসাব জমা দিয়েছেন। যারা জমা দেননি, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর সরকারি কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেয়।

কয়েক দফা সময় বাড়ানোর পর, নির্ধারিত সময় ১৫ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়। তবে ১৬ দিন পার হলেও, কতজন কর্মচারী সম্পদের হিসাব জমা দিয়েছেন, তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। সর্বশেষ তথ্যমতে, মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৬৭ হাজার ৯৩১ কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন, এর মধ্যে ক্যাডার কর্মকর্তা ৬ হাজার ৫৩৯, মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ৫ হাজার ৯৫১, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও করপোরেশন ২ হাজার ১৯০, এবং বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসি অফিসে ৫৩ হাজার ২৫১ জন কর্মচারী আছেন।অন্যরা নিজ নিজ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সম্পদের হিসাব জমা দেওয়ার কথা।

উল্লিখিত বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোখলেস উর রহমান।তিনি বলেন, ‘জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে এ পর্যন্ত পাঁচ হাজারের বেশি সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তা তাদের সম্পদের হিসাব জমা দিয়েছেন। এ ছাড়া অন্যান্য মন্ত্রণালয়সহ বিভাগীয় কমিশনার অফিস, ডিসি অফিস ও দপ্তর-সংস্থায়ও অনেকেই তাদের সম্পদের হিসেব জমা দিয়েছেন।

যারা সম্পদের হিসাব জমা দেননি তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘বিভাগীয় কমিশনার অফিসের স্টাফ ও বিভিন্ন জেলা কার্যালয়ের কর্মচারীদের বেশির ভাগই তাদের সম্পদের হিসাব বিবরণী জমা দিয়েছেন। আমরা তা সংরক্ষণ করছি। তবে এখন পর্যন্ত এর পরিমাণ কত তা বলতে পারব না। এই পরিসংখ্যান পেতে হয়তো আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

প্রায় অভিন্ন কথা বলেছেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মো. ফিরোজ সরকার। তিনি বলেন, ‘আমাদের ক্যাডার কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব আমরা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি। নন-ক্যাডার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নথি আমাদের কাছেই রয়েছে। এগুলোর পরিমাণও অনেক বেশি। এখনো সেগুলোর হিসাব-নিকাশ করা হয়নি।

মনে হচ্ছে, সবাই হিসাব দিয়েছেন।’বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়গুলোর মতো জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অবস্থাও। বেশির ভাগ জেলা প্রশাসক (ডিসি) জানিয়েছেন, তাদের কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রায় সবাই সম্পদের হিসাব বিবরণী

এগুলোর পরিমাণও অনেক বেশি। এখনো সেগুলোর হিসাব-নিকাশ করা হয়নি। মনে হচ্ছে, সবাই হিসাব দিয়েছেন।’বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়গুলোর মতো জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অবস্থাও। বেশির ভাগ জেলা প্রশাসক (ডিসি) জানিয়েছেন, তাদের কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রায় সবাই সম্পদের হিসাব বিবরণী জমা দিয়েছেন।

কারা জমা দেননি তাদের বিষয়েও এখন খোঁজখবর নেওয়া শুরু হয়েছে।জানতে চাইলে পঞ্চগড়ের ডিসি মো. সাবেত আলী বলেন, ‘আমাদের কার্যালয়ের প্রায় সব কর্মচারী তাদের সম্পদের হিসাব সরকারের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দিয়েছেন। আমরা সেগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। তার পরও যদি কেউ না দিয়ে থাকেন তাহলে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনব এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেব।

শেরপুরের ডিসি অফিসের বেশির ভাগ সরকারি কর্মচারী সম্পদের হিসাব জমা দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন ডিসি তরফদার মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমাদের বেশির ভাগ স্টাফই সম্পদের হিসাব জমা দিয়েছেন। আমরা এখনো তা হিসাব করে দেখার সময় পাইনি।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কেউ সম্পদের হিসাব না দিলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: কালেরকণ্ঠ