স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
যশোরের মণিরামপুরে এক চাঞ্চল্যকর অভিযানে ‘সুপারস্টার মেডিকেল অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট’ নামে একটি মিনি মেডিকেল কলেজের প্রতারণার পর্দা ফাঁস হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক, কথিত ডাক্তার ডিএম মনিরুজ্জামান মনি, নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করে অবৈধভাবে মেডিকেল কোর্সের নামে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করছিলেন। এ অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং তার প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার মণিরামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়াজ মাখদুমের নেতৃত্বে পরিচালিত হয় এই অভিযান। জানা যায়, মনি ৬ মাস আগে কেশবপুরের ‘সুপারস্টার মেডিকেল অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট’ থেকে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি শাখা অফিস খোলার অনুমতি নেন। কিন্তু মজার বিষয় হলো, ২৫ মে কেশবপুরের মূল প্রতিষ্ঠানটিও প্রতারণার দায়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
এরপরও মনি হাল ছাড়েননি। তিনি ১৬ জুন বগুড়ার ‘সিট ফাউন্ডেশন’ নামে আরও একটি বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান থেকে নতুন অনুমতি নিয়ে একই ধরনের প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি ‘ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি’, ‘ডিপ্লোমা ইন নার্সিং’, ‘ডেন্টাল কেয়ার’সহ অন্তত ১০টি ভিন্ন ভিন্ন কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তি করছিলেন। অথচ ২০১০ সালের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই ধরনের কোর্স শুধুমাত্র ম্যাটস্-এর মতো অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানই করাতে পারে।
সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, মনি নিজে কোনো এমবিবিএস ডিগ্রিধারী ডাক্তার না হয়েও শিক্ষার্থীদের শিক্ষকতা করতেন এবং একই সাথে রোগীও দেখতেন। অভিযোগ রয়েছে, তার ভুল চিকিৎসার কারণে এক নারীর গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এছাড়া, তিনি নারী মাঠকর্মীদের দিয়ে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন, যারা তার জন্য শিক্ষার্থী ও রোগী সংগ্রহ করতো।
অভিযানের সময় আরও একটি বড় অসঙ্গতি ধরা পড়ে। প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডে ‘সুপারস্টার মেডিকেল অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট’ লেখা থাকলেও, অনুমোদনের কাগজপত্রে নাম ছিল ‘জামান মেডিকেল টেকনোলজি অ্যান্ড নার্সিং ইনস্টিটিউট’। নামের এই ভিন্নতাকেও আদালত প্রতারণার প্রমাণ হিসেবে চিহ্নিত করে।
মণিরামপুরের সহকারী কমিশনার নিয়াজ মাখদুম জানান, কথিত ডাক্তার মনি’র বিরুদ্ধে পাওয়া অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় তাকে জরিমানা করা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
একই দিনে রাজগঞ্জ বাজারে আরও কিছু অনিয়মের বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো হয়। লাইসেন্সবিহীন ‘তকী ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-কে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এছাড়া পলিথিন ও কারেন্ট জাল রাখার দায়ে এবং অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আরও কিছু দোকানিকে জরিমানা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, এই অভিযানে মোট ৭৫ হাজার ৫শ’ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এই অভিযানগুলি স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে ব্যাপক স্বস্তি এনেছে।







