উচ্চকক্ষ গঠনের পক্ষে-বিপক্ষে কমিশনের বৈঠকে উত্তেজনা

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক

ভোটের ভিত্তিতে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের পক্ষে-বিপক্ষে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পরেন জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন ও বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা। এ সময় সাময়িক উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে এহসানুল হুদা দুঃখ প্রকাশ করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে  রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় দফায় ২৩তম দিনের বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে।  অবশ্য বিরতির সময় দুই নেতা কোলাকুলি করেন।

জানা গেছে, প্রথমে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়ে কমিশনের প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন। তখন তাকে উদ্দেশ্য করে  তীর্যক মন্তব্য করেন জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা। তিনি বলেন, ২০২৩ সালে আপনারা কোথায় ছিলেন। এ সময় মৃদু উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে।

প্রথমে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ পিআর ও উচ্চ কক্ষ নিয়ে  বিএনপির অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, দলটি সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা উচ্চকক্ষের হাতে দিতে চায় না। কারণ পৃথিবীর কোনও দেশেই অনির্বাচিতদের দিয়ে আইন করার নজির নেই।

তার বক্তব্যের পরপরই জাভেদ রাসিন বলেন, ‘ভোটের সংখ্যানুপাতিকে উচ্চকক্ষ গঠিত হলে, সেটি তো জনগণের প্রতিনিধিত্বের প্রতিফলন হয়।’ তখন সালাহ উদ্দিন আবার ব্যাখ্যা দেন।

এ সময় সৈয়দ এহসানুল হুদা জাবেদ রাসিনকে লক্ষ্য করে বলেন, ২০২৩ সালে আন্দোলনের সময় আপনারা কোথায় ছিলেন। এ সময় জাবেদ রাসিন দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেন।

তাদের বাগ-বিতণ্ডার সময় কমিশনের সহ-সভাপতি আলী রীয়াজ বলেন, ‘হুদা ভাই, এর আগেও আপনারা একজনের বক্তব্য নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তখন আমরা থামিয়েছিলাম। এখানে আমরা কে কেন এসেছি, সে প্রশ্ন তুললে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টি হবে। কারণ, আজ সে প্রশ্ন করলে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আমাকেও সে প্রশ্ন করতে পারেন। তবে আমরা সে আলোচনায় যাচ্ছি না

এ সময় এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, সৈয়দ এহসানুল হুদা এমন কথা বলতে পারেন না।

তখন সালাহউদ্দিন আহমেদ পিঠ চাপড়ে থামতে অনুরোধ করেন। আখতার থামেননি। তিনি বলেন, আমরা বাচ্চাকাল থেকে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়ছি।

এ সময় অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, প্রত্যেকের লোকাস স্ট্যান্ডার্ড আছে বলেই আমরা এ জায়গায় আসতে পেরেছি। তখন আখতার বলেন, গায়ের জোরে এসব অযাচিত প্রশ্ন আমরা মানবো না। জবাবে আলী রীয়াজ বলেন, আমি তো হস্তক্ষেপ করলাম।

আখতার বলেন, সবাইকে নিয়ে আমরা গণঅভ্যুত্থান করেছি। গোটা অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা মাঠে নেমে আসলো, সেটার অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে। এর জন্য ওনার ক্ষমা চাওয়া উচিত।

এ সময় সালাহউদ্দিন আহমেদকে বলতে শোনা যায়— হুদা ভাই, আপনি স্যরি বলেন। তখন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জেনায়েদ সাকী এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে, আলী রীয়াজ তাকে অনুরোধ করে বসিয়ে দেন।

এরপর এহসানুল হুদা মাইক নিয়ে বলেন, আমি বলতে চেয়েছিলাম, ২০২৩ সালে আমরা উচ্চকক্ষের প্রস্তাব দিয়েছিলাম, তখন সে প্রস্তাবটি পিআর কোথায় ছিলো, তারপরও কেউ  আঘাত পেয়ে থাকলে আমি দুঃখিত।

এরপরই মধ্যাহ্ন বিরতি দেন কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ। তখন এহসানুল হুদা আখতারের দিকে এগিয়ে গিয়ে আবারও তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে দুঃখপ্রকাশ করেন। এ সময় দুই জন কোলাকুলি করেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) এ দৃশ্য দেখা যায়।