যশোরে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদ্বোধন; সেরা ৪ মাছ চাষি পুরস্কৃত

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
‘অভয়াশ্রম গড়ে তুলি, দেশি মাছে দেশ ভরি’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে যশোরে শুরু হয়েছে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৫। এ উপলক্ষে সোমবার সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এক উদ্বোধনী ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা মাছ চাষের বিভিন্ন সমস্যা এবং সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, যশোর মাছ চাষের ক্ষেত্রে দেশের দ্বিতীয় এবং খুলনা বিভাগের মধ্যে প্রথম উৎপাদনশীল জেলা। জেলার ৩৩ লক্ষ পরিবারের কোনো না কোনো সদস্য মৎস্য চাষের সাথে জড়িত।


তিনি মাছ চাষকে রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলার সাথে সম্পর্কিত করে বলেন, যশোরের কই কৌশের জোই প্রবাদটি আজও সত্য। রাজনৈতিক নেতারা মাছের ঘের ও সমিতির নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে তাদের ভোটব্যাংক ঠিক থাকবে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, মাছ চাষে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের বিষয়টি তিনি মন্ত্রণালয়ে জানাবেন। ভবহদ এলাকায় বিল জটিলতা ছিলো। এখন কৃষিখাতে প্রযোজ্য হারে বিল নেওয়া হচ্ছে। তিনি বাওড় ও ঘেরগুলোতে অভয়াশ্রম গড়ে তোলার উপর জোর দেন। চায়না দুয়ারি জালের মতো ক্ষতিকর জালের ব্যবহার বন্ধ করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, কিছু মানুষ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য মাছের ঘেরকে আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করে। যা মৎস্য খাতের উন্নয়নের পথে বাধা। এসব অপরাধীদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা গেলে যশোরের ৯০ শতাংশ অপরাধ কমে যাবে।

তিনি আরও বলেন, দেশি মাছের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং ইকোসিস্টেম ঠিক রেখে মাছ চাষ করা জরুরি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার রওনক জাহান এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার। আরও উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, মৎস্য মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি সাইফুজ্জামান মজু, মৎস্যচাষী জাহিদুল ইসলাম।

এসময় বক্তারা বলেন, মাছ চাষকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আদায় করা হচ্ছে। যা চাষীদের ক্ষতির মুখে ফেলছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা মৎস্য অফিসার মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠান শেষে, মৎস্য খাতে বিশেষ অবদানের জন্য ৪ জন মৎস্যচাষীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননা পাওয়া ৩ জন হলেন, মাতৃ ফিশ হ্যাচারি এন্ড ইন্ট্রিগ্রেটেড ফার্ম এর মালিক জাহিদুর রহমান, এ আর জয়েন্ট এন্টারপ্রাইজের আনিস উর রহমান, সুমি এন্টারপ্রাইজের শহিদুল ইসলাম। কনা এগ্রো ফার্মের মালিক আসাদুজ্জামান জনি তালিকায় থাকলেও তিনি অনুউপস্থিত ছিলেন।

পরে, যশোর পৌরপার্কের পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। এর আগে, কালেক্টরেট ভবন চত্বর থেকে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এসে শেষ হয়।