আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে, তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটবে: মাহমুদুর রহমান মান্না

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে এই পাঁচ মাসে দেশের রাজনীতিতে অনেক কিছু ঘটবে, যা এখন কল্পনাও করা যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে প্রতীক গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটি একমাত্র নির্ধারক নয়।

শনিবার ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে ‘ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফলাফল আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না’ শীর্ষক এক ছায়া সংসদে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি)-এ অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফলাফল জাতীয় নির্বাচনে কিছু প্রভাব ফেলবে, তবে তা নির্বাচনের ফলাফল বদলে দেওয়ার মতো নয়। তিনি আরও জানান, জুলাই সনদ নিয়ে একটি ঐকমত্যের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং ছোট ছোট দলগুলোর একীভূত হওয়ার উদ্যোগকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। নাগরিক ঐক্য ও গণঅধিকার পরিষদ জোটবদ্ধ হলে তিনি তার সমর্থন জানাবেন। তবে তিনি জাতিসংঘের অধিবেশনে অনিবন্ধিত দলের সদস্যের অন্তর্ভুক্তিকে সমর্থনযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন।

পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাস্তবসম্মত নয় বলে মন্তব্য করেন মান্না। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এই পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে জাতীয় পার্টির মাধ্যমে ‘পতিত আওয়ামী লীগ’ আবার ফিরে আসার চেষ্টা করতে পারে। তিনি বলেন, “বর্তমান প্রেক্ষাপটে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের লেজ নয়, মাথা।”

সভাপতির বক্তব্যে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, পতিত আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত। তিনি মনে করেন, বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্বশীল আচরণ করলে আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেবে। তিনি আরও বলেন, আদর্শবিহীন রাজনীতি অন্ধ এবং রাজনীতিবিদরা ব্যর্থ হলে দেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়।

হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, “বিগত আওয়ামী সরকার দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল এবং এক ব্যক্তির শাসন চলেছিল।” তিনি আরও মন্তব্য করেন যে জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্টের কবর রচিত হয়েছে এবং এই ঘটনা থেকে সবার শিক্ষা নেওয়া উচিত।

ছায়া সংসদে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকদের পরাজিত করে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বিতার্কিকরা জয়ী হন। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের মধ্যে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদ বিতরণ করা হয়। বিচারক হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, সাংবাদিক সাইদুর রহমান, মাইদুর রহমান রুবেল ও জাকির হোসেন লিটন।