শিক্ষা ও গবেষণায় যবিপ্রবির লক্ষ্য বিশ্বমান অর্জন: উপাচার্য

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উচ্চশিক্ষার প্রাণকেন্দ্র যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) শিক্ষা ও গবেষণার মান বিশ্ব পর্যায়ে উন্নীত করতে কাজ করছে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

​মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর ) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নের লক্ষ্যে সাংবাদিকবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভা’য় উপাচার্য এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, যবিপ্রবিকে শিক্ষা ও গবেষণায় বিশ্বমানে উন্নীতকরণ এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁর মূল লক্ষ্য।

​উপাচার্য জানান, বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে যবিপ্রবির অবস্থান দিন দিন সুসংহত হচ্ছে। টাইমস হায়ার এডুকেশন (টিএইচই) ‘ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিং-২০২৫’ এ বাংলাদেশের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টি যৌথভাবে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। একই সংস্থার ‘এশিয়া ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিং-২০২৫’ এ এটি দেশের সব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম। এছাড়াও, কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডসের (কিউএস) ‘এশিয়া ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিং-২০২৫’ এ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যবিপ্রবি দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে।

​তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্বের সেরা ২% বিজ্ঞানীর তালিকায় যবিপ্রবির আটজন শিক্ষক স্থান করে নিয়েছেন, যা দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

​বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা সমাধানে নতুন দুটি হল— মুন্সি মোহাম্মদ মেহেরুল্লাহ হল এবং বীরপ্রতীক তারামন বিবি হল চালু করা হয়েছে। এছাড়াও, সকল হলের ডাইনিং আধুনিকীকরণ ও নতুন ভবনগুলোর লিফট সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে বন্ধ থাকা কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া পুনরায় চালু করা হয়েছে।

​শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও শিক্ষামুখী করতে এবার বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও বৃত্তির পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। একইসাথে স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের জন্য চালু করা হয়েছে রিসার্চ ফেলোশিপ, যেখানে একজন শিক্ষার্থী প্রতি মাসে ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত ফেলোশিপ পাবে।

​তথ্য ও প্রযুক্তিতে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার লক্ষ্যে যবিপ্রবি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বুয়েটকে সাথে নিয়ে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে প্রায় ৩০৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় সিএসই বিভাগে নতুন একাডেমিক ভবন, ইনকিউবেশন সেন্টার এবং আধুনিক ল্যাব নির্মাণ করা হবে।

​শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে যাত্রা শুরু করেছে ‘সেন্টার ফর ট্রেইনিং অ্যান্ড স্কিল ডেভেলপমেন্ট (সিটিএসডি)’। এই সেন্টারে ইংরেজি, জাপানি, চীনা, জার্মানসহ মোট আটটি বিদেশি ভাষা এবং সফট স্কিল শেখার সুযোগ থাকবে। উদ্যোক্তা তৈরিতে উৎসাহিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সফল আইডিয়া প্রদানকারী শিক্ষার্থীদের দুই বছর বিনা মূল্যে অফিস পরিষেবা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম।

​যবিপ্রবিতে ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিল (বিভিসি) থেকে আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন লাভ করেছে, ফলে তারা এখন পেশাদার ভেটেরিনারিয়ান হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। এছাড়াও, উপকূলীয় অঞ্চলের সম্পদ রক্ষায় ‘কোস্টাল অ্যান্ড ব্রাকিশওয়াটার সেন্টার’ এবং যশোরের ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস সংরক্ষণে গবেষণা প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

​উপাচার্য জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রমবর্ধমান কার্যক্রমের জন্য নতুন ভূমি অধিগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে ইউজিসি-তে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, “যশোরের মানুষের কল্যাণে যবিপ্রবি কাজ করে যাবে।” তিনি ফিজিওথেরাপি ও নার্সিং কেয়ার সেন্টারসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন।

​তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা ও শিক্ষা উপদেষ্টা-সহ সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়টি সমাধানের অনুরোধ জানান। পরিশেষে, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা ও সমর্থন প্রত্যাশা করেন।