আনন্দ হাসি গানে বৃদ্ধ মায়েদের কাটলো একবেলা

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক

দীপ্তি রানী স্বাস্থ্য বিভাগে চাকরি করতেন। অবসর গ্রহণের পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। একমাত্র ছেলে সন্তানটি অসুস্থ হয়ে মারা যায়। পাঁচটি মেয়ে সন্তানকে একে একে বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন। মাঝেমধ্যে মেয়েদের বাড়িতে বেড়াতে যান। ষাটোর্ধ্ব এই বৃদ্ধ মায়ের আশ্রয়স্থল এখন বৃদ্ধাশ্রমে।

দীপ্তি রানীর মত জাহানারা বেগমেরও চারটি ছেলে-মেয়ে রয়েছে। দুই ছেলেকে বিয়ে দিয়েছেন। তারা দিনমজুরের কাজ করেন। কিন্তু মায়ের তেমন খোঁজখবর নেন না। যে কারণে জাহানারা বেগম এখন বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দা।

দীপ্তি রানী ও জাহানারা বেগমের মত ১৯ জন বৃদ্ধ মা যশোর সদর উপজেলার সমসপুর গ্রামে ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা বৃদ্ধাশ্রমে থাকেন। আজ শনিবার ওই বৃদ্ধাশ্রমের মায়েদের চিকিৎসা সেবাসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ ও তাদের গায়ে শীতের চাদর জড়িয়ে প্রথম আলোর যশোর বন্ধুসভার বন্ধুরা। একই সাথে বন্ধুরা মানসম্মত খাবার রান্না করে ওই বৃদ্ধ মায়েদের সঙ্গে বসে এক বেলার আহার গ্রহণ করেছে । এতে মায়েরা এক বেলা হাসি আনন্দ গানে অতিবাহিত করেছেন। ‌

প্রথম আলো প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ‘একটি ভাল কাজ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে যশোর বন্ধুসভা আজ শনিবার এই আয়োজন করে।

বেলা ১১টা থেকে বৃদ্ধাশ্রমে মেডিকেল ক্যাম্প বসানো হয়। তিনজন চিকিৎসক বৃদ্ধ মায়েদের রোগ নির্ণয় করে ব্যবস্থাপত্র দেন। বন্ধুসভার বন্ধুরা ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী মায়েদের হাতে প্রয়োজনীয় ওষুধ তুলে দেন। ‌

চিকিৎসা দিয়েছেন যশোর বন্ধুসভার উপদেষ্টা ও যশোর মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মামুন, বন্ধুসভার সদস্য চিকিৎসক মাসুদুর রহমান ও চিকিৎসক বুশরা।

একদিকে মেডিকেল ক্যাম্প চলে অন্যদিকে বৃদ্ধ মায়েদের জন্য দুপুরে মানসম্মত খাবার রান্নার আয়োজন চলতে থাকে। ভৈরব নদীর তীরে অবস্থিত বৃদ্ধাশ্রমটি ক্ষণিকের জন্য হলেও আনন্দ হাসি গানে ভরে ওঠে।

বৃদ্ধ মায়েদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের পর আশ্রম আঙ্গিনায় বারোমাসি দুইটি আমের চারা রোপন করা হয়। এরপর উপহার হিসেবে মায়েদের গায়ে চাদর জড়িয়ে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসাবে তিনজন চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মামুন, মাসুদুর রহমান ও বুসরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অন্যান্য মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বন্ধুসভার উপদেষ্টা যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহজাহান করীর, উদ্যোক্তা শাহেদ চৌধুরী, বৃদ্ধাশ্রমের উদ্যোক্তা জোসনা মুখার্জি, পাঁচবাড়িয়া বালিয়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাদিয়া শারমিন, বন্ধুসভার সাবেক সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন ও লাকি রানী কাপুরিয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইদুর লিটন, সাধারণ সম্পাদক রাইয়াদ ফেরদৌস হামিম, মনিরা খাতুন, নুরুন্নবী হৃদয়, খন্দকার রুবাইয়া, জাহানারা জ্যোতি, ইসরাত শাহেদ টিপ, মো. নুরুন্নবী, বিপ্লব অধিকারী, রাশেদ, কুসুম, উর্মি‌ প্রমুখ।