স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
যশোরের ঐতিহ্যবাহী এবং বর্তমানে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃত খেজুর গুড়ের রস সংগ্রহের জন্য গাছ কা’টার (গাছ তোলা) আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে এই অঞ্চলে শীতকালীন রস ও গুড় উৎপাদনের কার্যক্রম শুরু হলো।
রবিবার (২ নভেম্বর) বেলা পৌনে ১২টায় চৌগাছা উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের হায়াতপুরে গাছ তোলা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনুর আক্তার।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এই উদ্বোধনী আয়োজনের মাধ্যমে জিআই পণ্য খেজুর গুড়ের ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও আগামীতে গুড়ের মেলা আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হলো।
অনুষ্ঠানে যারা ছিলেন: উদ্বোধনকালে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এসিল্যান্ড প্রকৌশলী তাসমিন জাহান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও হাকিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও পাতিবিলা ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান লাল, প্রেসক্লাব চৌগাছার সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমানসহ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন, প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম, মৎস্য কর্মকর্তা তাসলিমা জেবিন, সমাজসেবা কর্মকর্তা মেহেদী হাসান, শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আঞ্জুমান আরা মাহমুদা, সমবায় কর্মকর্তা ওয়াহিদুর রহমান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শামসুন্নাহার এবং খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম। এছাড়াও স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী কার্যক্রম পরিচালনা করেন হায়াতপুর গ্রামের গাছি আব্দুর রহমান গাজী। এসময় তার সাথে গাছি কামাল হোসেনসহ কয়েকজন গাছি ও স্থানীয় কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।
জিআই পণ্যের স্বীকৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষা: ২০২২ সালে চৌগাছার তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (বর্তমানে যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট) ইরুফা সুলতানা’র উদ্যোগে যশোরের ঐতিহ্যবাহী খেজুর গুড়ের ঐতিহ্য সংরক্ষণে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে খেজুরগুড়ের মেলা, গাছিদের প্রশিক্ষণ, গাছি সমাবেশ, সমবায় সমিতি গঠন এবং খেজুর গাছ রোপণ ও সংরক্ষণের কার্যক্রম শুরু হয়।
একই বছর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২৩ সালে যশোরের বিখ্যাত খেজুর গুড়কে সরকার জিআই পণ্যের স্বীকৃতি প্রদান করে। সেই বছর থেকে প্রতি বছর ১লা মাঘ থেকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে খাটি খেজুর গুড়ের মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। উপজেলা প্রশাসন নিশ্চিত করেছে, এবারও নির্ধারিত সময়ে ঐতিহ্যবাহী এই মেলা অনুষ্ঠিত হবে।







