স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
পিতা তার সন্তানকে আগলে রাখে। সন্তানের সুখের জন্য দীর্ঘত্যাগ স্বীকার করে। আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় এটাই প্রচলিত ।তবে মাঝে মাঝে আমরা এমন ঘটনার সাক্ষী হই যেটা মেনে নেওয়া কঠিন। এমনকি শুনতেও অবাক লাগে। ঠিক তেমনি এক ঘটনা ঘটেছে যশোরের চৌগাছা উপজেলা জাহাঙ্গিরপুর গ্রামে। এই গ্রামের রবিউল ইসলাম তার একমাত্র ছেলে সন্তান তরিকুল ইসলামকে(৩২) হত্যা করেছে। ছেলেকে নেশার জগৎ থেকে ফেরাতে ব্যর্থ হয়ে পিতা রাগে, অভিমানে তার সন্তানকে শাসন করতে গিয়ে ঘটে গেছে এমন মর্মান্তিক দূর্ঘটনা।
স্থানীয়রা বলছেন, ছেলের অবাধ্য জীবন যাপনে অতিষ্ঠ হয়ে গিয়েছিলো পিতা রবিউল ইসলাম। নেশার কারণে পিতার সম্পদও নষ্ট করেছে ছেলে। এমনকি একাধিক বিবাহের মত ঘটনাও রয়েছে তরিকুলের জীবনে। সে গাঁজা ও ইয়াবা সেবনে অভ্যস্থ ছিলো।
বৃহস্পতিবার সকালে জাহাঙ্গিরপুর দক্ষিণপাড়ায় তরিকুল ইসলামের বাড়ি গিয়ে দেখা গেছে বাড়িঘর জনমানবশূন্য। ঘরের দরজা তালাবদ্ধ। কোনো স্বজনের আহাজারি নেয়। লাশ আসার অপেক্ষায় রয়েছেন প্রতিবেশিরা।
একাধিক সুত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরে চলা পারিবারিক কলহ শেষমেষ মঙ্গলবার সকালে ভয়াবহ রুপ ধারণ করে। এদিন সকালে পিতা রবিউল ইসলাম কৃষি জমির ক্ষেত থেকে এসে তরিকুলকে দোকান ঘর খুলতে বলেন। নেশাগ্রস্থ ছেলে পিতার কথা কর্ণপাত করেননি। সে নিজ ঘরে শুয়ে ছিলো। পরে পিতা রাগের বশে হাতে থাকা কোদায় দিলে ছেলের মাথায় আঘাত করে। এরপর একের পর এক মেরুদন্ডে আঘাত করলে ছেলে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এঘটনার পর ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। যেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেলে। বুধবার রাত সাড়ে ১১ টা নাগাদ ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসারত অবস্থায় মৃতবরণ করে তরিকুল ইসলাম।
এঘটনায় তরিকুলের চাচা আব্দুল মান্নান ও আছাদুল ইসলাম আপন ভাই রবিউল ইসলামের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল করিম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।







