Jashore , Friday, 23 October 2026
সর্বশেষ:
যশোরে ঢাক-কাঁসরের শব্দে প্রতিমা বিসর্জন রংপুর মেডিকেলে শর্টসার্কিট থেকে আগুন; আহত ৪০ হেফাজতে ইসলামের মধ্যস্থতায় ৭ কওমি দলের নতুন রাজনৈতিক জোট ‘সমমনা ইসলামি দল’ সৌদিতে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতার অভিযোগে সিপিবির বিক্ষোভ সাত দশকের ঐতিহ্যবাহী ‘জামাই মেলা’! কোটি টাকার মাছ কেনাবেচার উৎসব যশোরে সার ডিলার নিয়োগে চরম দলীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগ বিরোধী দলের ৫ এমপির অস্ত্র নিয়ে হামলা ও জমি দখলের হুমকি; যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন জামায়াত জুলাইকে ধারণ করে না, বিএনপির এমন অভিযোগ হাস্যকর: গোলাম পরওয়ার সরকার চায় ঐক্য, কিন্তু একটি মহল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি : প্রধানমন্ত্রী যশোরে চিহ্নিত চোর ও চাঁদাবাজ মনিরুল ইসলাম সাগর আটক

শনিবারের মধ্যে ইরানে হামলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে আলোচনা করেছেন। উচ্চপর্যায়ের জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী চাইলে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) থেকেই সম্ভাব্য হামলার জন্য প্রস্তুত থাকবে। তবে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

সিবিএস নিউজকে আলোচনার সঙ্গে পরিচিত সূত্রগুলো জানিয়েছে, হোয়াইট হাউজ এখনো উত্তেজনা বাড়ানোর ঝুঁকি এবং সংযম দেখানোর রাজনৈতিক ও সামরিক পরিণতি- দুই দিকই বিবেচনা করে দেখছে। তাই আলোচনা চলবে ও সিদ্ধান্তে ‘পরিবর্তন’ ঘটতে পারে। তবে চলতি বছরের মার্চের মধ্যে মোতায়েন সব মার্কিন বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অবস্থান নেবে।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান যদি পাল্টা হামলা চালায়, তাহলে পরবর্তী তিন দিনে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে কিছু সামরিক কর্মীকে সাময়িকভাবে সরিয়ে ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান শুরু করলে ইরানের প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

একাধিক কর্মকর্তা জানান, এমন স্থানান্তর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমের আগে নিয়মমাফিক করা হয়। এর মানে এই নয় যে ইরানে হামলা আসন্ন।

বুধবার সিবিএস নিউজ পেন্টাগনের মন্তব্য চাইলে মুখপাত্র জানান, এ বিষয়ে দেওয়ার মতো কোনো তথ্য নেই। সূত্রগুলো বলছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রায় দুই সপ্তাহ পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের জন্য ইসরায়েল সফর করবেন।

বুধবার হোয়াইট হাউজের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ইরানে হামলার পক্ষে ‘অনেক কারণ ও যুক্তি’ আছে, তবে কূটনীতিই প্রেসিডেন্টের প্রথম পছন্দ। সম্ভাব্য হামলা ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বিত হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে চাননি।

লেভিট বলেন, জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে একটি অত্যন্ত সফল অভিযান পরিচালনা করেছিল। ইরানের উচিত হবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের সঙ্গে একটি চুক্তিতে আসা।

ট্রাম্প এরই মধ্যে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ও তার সঙ্গে আরও কয়েকটি যুদ্ধজাহাজের বহর ইরানের কাছাকাছি মোতায়েন করেছেন। আরেকটি রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড মধ্যপ্রাচ্যের পথে রয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত ফোর্ড পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলে অবস্থান করছিল।

এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ছবি পোস্ট করেছেন, যেখানে ওই রণতরীকে সমুদ্রতলের তলায় ডুবে থাকা অবস্থায় দেখানো হয়েছে। তিনি এক্সে লেখেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার বলেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দিকে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে। অবশ্যই, যুদ্ধজাহাজ বিপজ্জনক অস্ত্র। কিন্তু এর চেয়েও বিপজ্জনক হলো সেই অস্ত্র, যা ওই যুদ্ধজাহাজকে সাগরের তলানিতে পাঠাতে পারে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে মধ্যস্থতাপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। বৈঠক কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তবে বুধবার লেভিট জানান, “অন্য কিছু বিষয়ে আমরা এখনও অনেক দূরে অবস্থান করছি।

তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস, ইরান আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আরও কিছু বিস্তারিত প্রস্তাব নিয়ে ফিরে আসবে। প্রেসিডেন্ট পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। পরবর্তী বৈঠকের জন্য কোনো তারিখ এখনো ঠিক হয়নি।

গত বছরের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এই যুদ্ধের আগে যুক্তরাষ্ট্র ২০১৪ সালের চুক্তি থেকে সরে আসায় ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি দ্রুত এগিয়ে নেয়। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা জানায়, ইরান তখন ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতা পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছিল, যা অস্ত্রে রুপান্তরের খুব কাছাকাছি। সংস্থাটি বলে, বিশ্বে একমাত্র দেশ হিসেবে ইরানই এত উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধকরণ চালিয়েছে, যার হাতে পারমাণবিক বোমা নেই।

তথ্যসূত্র : সিবিএস

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 04:56 pm, Thursday, 19 February 2026
63 Time View

শনিবারের মধ্যে ইরানে হামলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

Update Time : 04:56 pm, Thursday, 19 February 2026

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে আলোচনা করেছেন। উচ্চপর্যায়ের জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী চাইলে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) থেকেই সম্ভাব্য হামলার জন্য প্রস্তুত থাকবে। তবে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

সিবিএস নিউজকে আলোচনার সঙ্গে পরিচিত সূত্রগুলো জানিয়েছে, হোয়াইট হাউজ এখনো উত্তেজনা বাড়ানোর ঝুঁকি এবং সংযম দেখানোর রাজনৈতিক ও সামরিক পরিণতি- দুই দিকই বিবেচনা করে দেখছে। তাই আলোচনা চলবে ও সিদ্ধান্তে ‘পরিবর্তন’ ঘটতে পারে। তবে চলতি বছরের মার্চের মধ্যে মোতায়েন সব মার্কিন বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অবস্থান নেবে।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান যদি পাল্টা হামলা চালায়, তাহলে পরবর্তী তিন দিনে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে কিছু সামরিক কর্মীকে সাময়িকভাবে সরিয়ে ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান শুরু করলে ইরানের প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

একাধিক কর্মকর্তা জানান, এমন স্থানান্তর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমের আগে নিয়মমাফিক করা হয়। এর মানে এই নয় যে ইরানে হামলা আসন্ন।

বুধবার সিবিএস নিউজ পেন্টাগনের মন্তব্য চাইলে মুখপাত্র জানান, এ বিষয়ে দেওয়ার মতো কোনো তথ্য নেই। সূত্রগুলো বলছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রায় দুই সপ্তাহ পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের জন্য ইসরায়েল সফর করবেন।

বুধবার হোয়াইট হাউজের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ইরানে হামলার পক্ষে ‘অনেক কারণ ও যুক্তি’ আছে, তবে কূটনীতিই প্রেসিডেন্টের প্রথম পছন্দ। সম্ভাব্য হামলা ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বিত হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে চাননি।

লেভিট বলেন, জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে একটি অত্যন্ত সফল অভিযান পরিচালনা করেছিল। ইরানের উচিত হবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের সঙ্গে একটি চুক্তিতে আসা।

ট্রাম্প এরই মধ্যে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ও তার সঙ্গে আরও কয়েকটি যুদ্ধজাহাজের বহর ইরানের কাছাকাছি মোতায়েন করেছেন। আরেকটি রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড মধ্যপ্রাচ্যের পথে রয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত ফোর্ড পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলে অবস্থান করছিল।

এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ছবি পোস্ট করেছেন, যেখানে ওই রণতরীকে সমুদ্রতলের তলায় ডুবে থাকা অবস্থায় দেখানো হয়েছে। তিনি এক্সে লেখেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার বলেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দিকে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে। অবশ্যই, যুদ্ধজাহাজ বিপজ্জনক অস্ত্র। কিন্তু এর চেয়েও বিপজ্জনক হলো সেই অস্ত্র, যা ওই যুদ্ধজাহাজকে সাগরের তলানিতে পাঠাতে পারে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে মধ্যস্থতাপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। বৈঠক কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তবে বুধবার লেভিট জানান, “অন্য কিছু বিষয়ে আমরা এখনও অনেক দূরে অবস্থান করছি।

তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস, ইরান আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আরও কিছু বিস্তারিত প্রস্তাব নিয়ে ফিরে আসবে। প্রেসিডেন্ট পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। পরবর্তী বৈঠকের জন্য কোনো তারিখ এখনো ঠিক হয়নি।

গত বছরের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এই যুদ্ধের আগে যুক্তরাষ্ট্র ২০১৪ সালের চুক্তি থেকে সরে আসায় ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি দ্রুত এগিয়ে নেয়। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা জানায়, ইরান তখন ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতা পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছিল, যা অস্ত্রে রুপান্তরের খুব কাছাকাছি। সংস্থাটি বলে, বিশ্বে একমাত্র দেশ হিসেবে ইরানই এত উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধকরণ চালিয়েছে, যার হাতে পারমাণবিক বোমা নেই।

তথ্যসূত্র : সিবিএস