যশোরে ঢাক-কাঁসরের শব্দে প্রতিমা বিসর্জন
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব
নিজস্ব প্রতিবেদক
সিঁদুরে রাঙা মুখ, ঢাকের বাদ্য, শঙ্খ আর উলুধ্বনি। একদিকে উৎসবের আনন্দ, অন্যদিকে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর অশ্রুসিক্ত আবেগ এমনই এক আবহে যশোরে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব।
গত বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল থেকে যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্র লালদীঘি পুকুরপাড়ে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ঢল নামে। সিঁদুর খেলা ও শেষ পূজার আনুষ্ঠানিকতা সেরে শহরের বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে একে একে প্রতিমা নিয়ে হাজির হন ভক্তরা। আবেগঘন পরিবেশে অশ্রুসজল চোখে আগামী শরতে আবার দেবী দুর্গার আগমনের ব্যাকুল প্রতীক্ষায় ভক্তরা দেবীকে জলে নিরঞ্জন দেন।
বিকেলে শহরের ঐতিহ্যবাহী লালদীঘি পাড়ে বিজয়া বিসর্জন অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, যশোরের লালদীঘি কেবল একটি জলাশয় নয়, এটি আমাদের শতবর্ষের ঐতিহ্য ও প্রগাঢ় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য প্রতীক। ধর্মীয় উৎসব পালনে প্রত্যেকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা আমাদের দায়িত্ব।
যশোর পৌরসভার তত্ত্বাবধানে শহরের ৫৪টি প্রতিমা লালদীঘিতে বিসর্জন দেওয়া হয়। উৎসবকে ঘিরে লালদীঘিসহ আশপাশের এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা জোরদার করে পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ যশোর জেলা শাখার সভাপতি দীপঙ্কর দাস রতনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক তপন ঘোষের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক ও যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন এবং যশোর পৌরসভার প্রশাসক রফিকুল হাসান। এছাড়া প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় সামাজিক-রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের মানুষ এতে অংশ নেন।
উল্লেখ্য, এ বছর যশোর জেলার আটটি উপজেলায় মোট ৭২৯টি মন্দির ও মণ্ডপে ধুমধামে দুর্গোৎসব উদযাপিত হয়। এর মধ্যে যশোর সদরে ১৩৫টি, অভয়নগরে ১৩৩টি, মনিরামপুরে ১৩১টি, কেশবপুরে ১০২টি, বাঘারপাড়ায় ৮২টি, ঝিকরগাছায় ৬১টি, চৌগাছায় ৫৩টি এবং শার্শায় ৩২টি মণ্ডপ রয়েছে। গত ১৫ অক্টোবর বোধন ও ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া পাঁচদিনব্যাপী এই উৎসব প্রতিমা নিরঞ্জনের মাধ্যমে মহাসমারোহে শেষ হলো।

























