Jashore , Wednesday, 21 October 2026
সর্বশেষ:

যশোরে কয়লা আমদানির নামে ১০ কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা আমদানির জন্য এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খুলে দেওয়ার কথা বলে ১০ কোটির বেশি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ফারজানা ইয়াসমিন নিলা নামের এক নারীর বিরুদ্ধে। শনিবার সকালে প্রেসক্লাব যশোর-এ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা এ অভিযোগ করেন। তাঁদের দাবি, অভিযুক্ত নিলা বর্তমানে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার-এ আটক রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মেসার্স এ টু জেড ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আনিসুর রহমান খান। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ব্যবসায়িক অচলাবস্থার সুযোগ নিয়ে নিলা ‘ব্রড কান্ট্রি এলসি’ খোলার প্রস্তাব দেন। পরে যশোরের নয়জন ব্যবসায়ী যৌথভাবে এলসি খোলার সিদ্ধান্ত নেন। ৩০ শতাংশ মার্জিনের শর্তে তাঁদের কাছ থেকে নিলার হিসাবে ১০ কোটি ৯ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা জমা দেওয়া হয়।

আনিসুর রহমানের অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পর নিলা বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। ইন্দোনেশিয়ায় কয়লাবাহী জাহাজ প্রস্তুত হওয়ার কথা জানিয়ে এলসির কপি চাইলে একটি ভুয়া এলসি সরবরাহ করা হয়। পরে টাকা ফেরতের চাপ দিলে ৫০ লাখ টাকার একটি জাল বিএফটিএন (BFTN) কপি এবং একটি ভুয়া এফডিআর (FDR) কাগজ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, নিলা নিজেকে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিতেন। তাঁদের মধ্যে সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, বাহাউদ্দিন নাছিম ও শিল্পগোষ্ঠী-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমান-এর নাম উল্লেখ করা হয়। এমনকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর নামও ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রথমে ঢাকার গুলশান থানায় মামলা হলে নিলা গ্রেপ্তার হন। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে টাকা ফেরত না দিয়ে উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নেন। পরবর্তীতে যশোরে নতুন মামলা হলে পুলিশ তাঁকে আবার গ্রেপ্তার করে।

আনিসুর রহমান বলেন, নিলার বিরুদ্ধে আগেও একাধিক প্রতারণার মামলা ছিল। ব্যাংকঋণ নিয়ে এলসির টাকা দেওয়ায় এখন অনেক ব্যবসায়ী দেউলিয়ার পথে। আমরা প্রশাসনের কাছে কঠোর শাস্তি ও দ্রুত টাকা উদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি।

তবে অভিযুক্ত নিলার মেয়ে নন্দিতা মেহজাবিন বলেন, অর্থ লেনদেনসংক্রান্ত বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। এ নিয়ে ‘অনৈতিক প্রচার’ চালানো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আলম ট্রেডিংয়ের নুর আলম বাবু, তালতলা স্টোন হাউজের মাহমুদ হাসান লিপু, জনি এন্টারপ্রাইজের কামরুজ্জামান, জিয়া ট্রেডিংয়ের জিয়া বিশ্বাস, বৃষ্টি এন্টারপ্রাইজের ইউসুফ আলী, মদিনা এন্টারপ্রাইজের গোলাম সরোয়ার, মেসার্স হাফিজুর রহমানের হাফিজুর রহমানসহ আরও অনেকে।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 05:17 pm, Saturday, 28 February 2026
49 Time View

যশোরে কয়লা আমদানির নামে ১০ কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ

Update Time : 05:17 pm, Saturday, 28 February 2026

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা আমদানির জন্য এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খুলে দেওয়ার কথা বলে ১০ কোটির বেশি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ফারজানা ইয়াসমিন নিলা নামের এক নারীর বিরুদ্ধে। শনিবার সকালে প্রেসক্লাব যশোর-এ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা এ অভিযোগ করেন। তাঁদের দাবি, অভিযুক্ত নিলা বর্তমানে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার-এ আটক রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মেসার্স এ টু জেড ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আনিসুর রহমান খান। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ব্যবসায়িক অচলাবস্থার সুযোগ নিয়ে নিলা ‘ব্রড কান্ট্রি এলসি’ খোলার প্রস্তাব দেন। পরে যশোরের নয়জন ব্যবসায়ী যৌথভাবে এলসি খোলার সিদ্ধান্ত নেন। ৩০ শতাংশ মার্জিনের শর্তে তাঁদের কাছ থেকে নিলার হিসাবে ১০ কোটি ৯ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা জমা দেওয়া হয়।

আনিসুর রহমানের অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পর নিলা বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। ইন্দোনেশিয়ায় কয়লাবাহী জাহাজ প্রস্তুত হওয়ার কথা জানিয়ে এলসির কপি চাইলে একটি ভুয়া এলসি সরবরাহ করা হয়। পরে টাকা ফেরতের চাপ দিলে ৫০ লাখ টাকার একটি জাল বিএফটিএন (BFTN) কপি এবং একটি ভুয়া এফডিআর (FDR) কাগজ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, নিলা নিজেকে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিতেন। তাঁদের মধ্যে সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, বাহাউদ্দিন নাছিম ও শিল্পগোষ্ঠী-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমান-এর নাম উল্লেখ করা হয়। এমনকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর নামও ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রথমে ঢাকার গুলশান থানায় মামলা হলে নিলা গ্রেপ্তার হন। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে টাকা ফেরত না দিয়ে উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নেন। পরবর্তীতে যশোরে নতুন মামলা হলে পুলিশ তাঁকে আবার গ্রেপ্তার করে।

আনিসুর রহমান বলেন, নিলার বিরুদ্ধে আগেও একাধিক প্রতারণার মামলা ছিল। ব্যাংকঋণ নিয়ে এলসির টাকা দেওয়ায় এখন অনেক ব্যবসায়ী দেউলিয়ার পথে। আমরা প্রশাসনের কাছে কঠোর শাস্তি ও দ্রুত টাকা উদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি।

তবে অভিযুক্ত নিলার মেয়ে নন্দিতা মেহজাবিন বলেন, অর্থ লেনদেনসংক্রান্ত বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। এ নিয়ে ‘অনৈতিক প্রচার’ চালানো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আলম ট্রেডিংয়ের নুর আলম বাবু, তালতলা স্টোন হাউজের মাহমুদ হাসান লিপু, জনি এন্টারপ্রাইজের কামরুজ্জামান, জিয়া ট্রেডিংয়ের জিয়া বিশ্বাস, বৃষ্টি এন্টারপ্রাইজের ইউসুফ আলী, মদিনা এন্টারপ্রাইজের গোলাম সরোয়ার, মেসার্স হাফিজুর রহমানের হাফিজুর রহমানসহ আরও অনেকে।