Jashore , Friday, 23 October 2026
সর্বশেষ:
যশোরে ঢাক-কাঁসরের শব্দে প্রতিমা বিসর্জন রংপুর মেডিকেলে শর্টসার্কিট থেকে আগুন; আহত ৪০ হেফাজতে ইসলামের মধ্যস্থতায় ৭ কওমি দলের নতুন রাজনৈতিক জোট ‘সমমনা ইসলামি দল’ সৌদিতে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতার অভিযোগে সিপিবির বিক্ষোভ সাত দশকের ঐতিহ্যবাহী ‘জামাই মেলা’! কোটি টাকার মাছ কেনাবেচার উৎসব যশোরে সার ডিলার নিয়োগে চরম দলীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগ বিরোধী দলের ৫ এমপির অস্ত্র নিয়ে হামলা ও জমি দখলের হুমকি; যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন জামায়াত জুলাইকে ধারণ করে না, বিএনপির এমন অভিযোগ হাস্যকর: গোলাম পরওয়ার সরকার চায় ঐক্য, কিন্তু একটি মহল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি : প্রধানমন্ত্রী যশোরে চিহ্নিত চোর ও চাঁদাবাজ মনিরুল ইসলাম সাগর আটক

যুক্তরাষ্ট্রের নাম মুখে না নিয়েই ইরানে হামলার নিন্দা জামায়াত আমিরের

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ না করেই ইরানে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। রবিবার (১ মার্চ) রাতে এক বিবৃতিতে ইরানের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করলেও, যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করেননি তিনি।

বিবৃতিতে জামায়াত আমির বলেন, “সম্প্রতি ইরানে সামরিক হামলা এবং এর পরবর্তী সময়ে প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সংঘাতের বিপজ্জনক বিস্তারকে নির্দেশ করে, যা সমগ্র অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তোলার আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে। জাতীয় সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন, বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন করা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী যেকোনো হামলার আমরা দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানাই।”

ইসরায়েলের অস্থিতিশীলতামূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এসব পদক্ষেপ উত্তেজনা বৃদ্ধি করছে, সংলাপের পথ রুদ্ধ করছে এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করছে। এ ধরনের আচরণ সমগ্র অঞ্চলের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। চলমান বিরোধগুলোর ন্যায্য ও আলোচনাভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে ক্ষুণ্ণ করছে।”

উপসাগরীয় ও আঞ্চলিক ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের পাল্টা হামলাকেও আমরা অকার্যকর ও পরিস্থিতি অবনতিকারী বলে মনে করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, “এ ধরনের পদক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। সংঘাতের বিস্তার নিরীহ মানুষের দুর্ভোগই কেবল বাড়াবে এবং মুসলিম বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা আরও গভীর করবে।”

জামায়াত আমির বলেন, “আন্তর্জাতিক আইন ও স্বীকৃত আইনি কাঠামোর তোয়াক্কা না করে জাতীয় নেতা এবং রাষ্ট্রপ্রধানদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে হত্যার যে প্রবণতা ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে উঠছে, তা আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিপজ্জনক নজির স্থাপন করে, বৈশ্বিক নীতিমালা দুর্বল করে এবং অঞ্চলকে দীর্ঘস্থায়ী বিশৃঙ্খলা ও আইনহীনতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

“মধ্যপ্রাচ্যের জনগণ এবং বৃহত্তর বিশ্ববাসী আরেকটি বিধ্বংসী যুদ্ধ কামনা করে না। তারা চায় শান্তি, নিরাপত্তা ও মর্যাদা। সংযম ও কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার না হলে বৃহত্তর অঞ্চল আরও বিস্তৃত সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছে। এটি কোনোভাবেই হতে দেওয়া যায় না।”

সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “অবিলম্বে সামরিক তৎপরতা বন্ধ করে সংলাপ ও কূটনীতির পথে ফিরে আসা উচিত। কারণ, টেকসই সমাধানের একমাত্র কার্যকর পথ সেটিই।”

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 01:02 pm, Monday, 2 March 2026
67 Time View

যুক্তরাষ্ট্রের নাম মুখে না নিয়েই ইরানে হামলার নিন্দা জামায়াত আমিরের

Update Time : 01:02 pm, Monday, 2 March 2026

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ না করেই ইরানে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। রবিবার (১ মার্চ) রাতে এক বিবৃতিতে ইরানের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করলেও, যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করেননি তিনি।

বিবৃতিতে জামায়াত আমির বলেন, “সম্প্রতি ইরানে সামরিক হামলা এবং এর পরবর্তী সময়ে প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সংঘাতের বিপজ্জনক বিস্তারকে নির্দেশ করে, যা সমগ্র অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তোলার আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে। জাতীয় সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন, বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন করা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী যেকোনো হামলার আমরা দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানাই।”

ইসরায়েলের অস্থিতিশীলতামূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এসব পদক্ষেপ উত্তেজনা বৃদ্ধি করছে, সংলাপের পথ রুদ্ধ করছে এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করছে। এ ধরনের আচরণ সমগ্র অঞ্চলের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। চলমান বিরোধগুলোর ন্যায্য ও আলোচনাভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে ক্ষুণ্ণ করছে।”

উপসাগরীয় ও আঞ্চলিক ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের পাল্টা হামলাকেও আমরা অকার্যকর ও পরিস্থিতি অবনতিকারী বলে মনে করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, “এ ধরনের পদক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। সংঘাতের বিস্তার নিরীহ মানুষের দুর্ভোগই কেবল বাড়াবে এবং মুসলিম বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা আরও গভীর করবে।”

জামায়াত আমির বলেন, “আন্তর্জাতিক আইন ও স্বীকৃত আইনি কাঠামোর তোয়াক্কা না করে জাতীয় নেতা এবং রাষ্ট্রপ্রধানদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে হত্যার যে প্রবণতা ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে উঠছে, তা আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিপজ্জনক নজির স্থাপন করে, বৈশ্বিক নীতিমালা দুর্বল করে এবং অঞ্চলকে দীর্ঘস্থায়ী বিশৃঙ্খলা ও আইনহীনতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

“মধ্যপ্রাচ্যের জনগণ এবং বৃহত্তর বিশ্ববাসী আরেকটি বিধ্বংসী যুদ্ধ কামনা করে না। তারা চায় শান্তি, নিরাপত্তা ও মর্যাদা। সংযম ও কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার না হলে বৃহত্তর অঞ্চল আরও বিস্তৃত সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছে। এটি কোনোভাবেই হতে দেওয়া যায় না।”

সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “অবিলম্বে সামরিক তৎপরতা বন্ধ করে সংলাপ ও কূটনীতির পথে ফিরে আসা উচিত। কারণ, টেকসই সমাধানের একমাত্র কার্যকর পথ সেটিই।”