যশোরে গোফরান বাহিনির প্রধান নাসির শেখ গ্রেফতার
স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
যশোর ও আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০টির বেশি মামলার আসামি বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ও কথিত ‘গোফরান বাহিনীর’ প্রধান নাসির শেখ ওরফে গোফরান (৪০) এবং তার সহযোগী সোহেল রানা (২৮)কে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া একটি মোটরসাইকেল ও একটি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার যশোর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, গত ১ মার্চ রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে যশোরের অভয়নগর উপজেলার ৭ নম্বর শুভরাডা ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামে সোহেল শিকদারের বাড়িতে হামলা চালায় একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। এ সময় তারা ধারালো অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে ঢুকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা ঘরের ড্রয়ার থেকে ২০ হাজার টাকা, একটি ইয়ামাহা আর১৫ ভি৩ মোটরসাইকেল, একটি এইচপি ল্যাপটপ এবং একটি ভিভো ভি২৯ মডেলের মোবাইল ফোন নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় অভয়নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি তদন্ত করছিলেন থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জুয়েল হোসেন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ সুপার যশোর মামলাটির ছায়া তদন্তের দায়িত্ব দেন ডিবির এসআই মো. কামরুজ্জামানকে।
পরে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খুলনার রূপসা উপজেলার জাবুসা গ্রামে গ্লোরিপলস লিমিটেডের সামনে পাকা রাস্তা থেকে নাসির শেখ ও সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের সময় নাসির শেখের কাছ থেকে মামলার আলামত একটি ইয়ামাহা আর১৫ মোটরসাইকেল ও একটি এইচপি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া সোহেল রানার কাছ থেকে একটি জিক্সার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, নাসির শেখ ওরফে গোফরান যশোরের অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুরসহ খুলনার ফুলতলা, ডুমুরিয়া, রূপসা, তেরখাদা এবং নড়াইলের কালিয়া এলাকায় বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির নাম ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও বিস্ফোরক আইনে বিভিন্ন থানায় ২০টিরও বেশি মামলা রয়েছে এবং ১১টি গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর ছিল।
অপরদিকে সোহেল রানার নামেও বিভিন্ন থানায় সাতটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে, আটকের পর ছবি তুলতে গেলে গোফরান সাংবাদিকদের দেখে বলেন, তার মত গোফরান তৈরি করা হয়েছে অভয়নগরে। বিএনপি নেতা মতিয়ার ফারাজির শেল্টারে ওই এলাকায় চাঁদাবাজি হচ্ছে। তাদের হাতিয়ার বিএনপি। এই আসামি আরও বলেন, জীবনে প্রথম ধরা পড়েছি। আমার নামের উপর চাঁদা উঠে। আমি এক জায়গা থেকে চাঁদা নিলে অন্য লোকজন ৫ জায়গা থেকে নিচ্ছে। তিনি ওই এলাকার বেশ কিছু মানুষের নাম পুলিশকে জানিয়েছেন।
গ্রেফতার দুই আসামিকে সোমবার আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।























