Jashore , Thursday, 22 October 2026
সর্বশেষ:
যশোরে ঢাক-কাঁসরের শব্দে প্রতিমা বিসর্জন রংপুর মেডিকেলে শর্টসার্কিট থেকে আগুন; আহত ৪০ হেফাজতে ইসলামের মধ্যস্থতায় ৭ কওমি দলের নতুন রাজনৈতিক জোট ‘সমমনা ইসলামি দল’ সৌদিতে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতার অভিযোগে সিপিবির বিক্ষোভ সাত দশকের ঐতিহ্যবাহী ‘জামাই মেলা’! কোটি টাকার মাছ কেনাবেচার উৎসব যশোরে সার ডিলার নিয়োগে চরম দলীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগ বিরোধী দলের ৫ এমপির অস্ত্র নিয়ে হামলা ও জমি দখলের হুমকি; যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন জামায়াত জুলাইকে ধারণ করে না, বিএনপির এমন অভিযোগ হাস্যকর: গোলাম পরওয়ার সরকার চায় ঐক্য, কিন্তু একটি মহল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি : প্রধানমন্ত্রী যশোরে চিহ্নিত চোর ও চাঁদাবাজ মনিরুল ইসলাম সাগর আটক

যাচাই-বাছাইয়ের নামে তামাশা যুদ্ধকালীন কমান্ডার যাচাই-বাছাইয়ের কাঠগড়ায়!

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি:– কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলাতে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী যাচাই-বাছাই শুরু হয়েছে আজ।

আব্দুল খালেক যুদ্ধ কালীন কমান্ডার

উক্ত যাচাই-বাছাইয়ের অনুষ্ঠানে প্রায় ৫’শতাধিক মুক্তিযোদ্ধার যুদ্ধকালীন ব্রেভো কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক কেও করা হয়েছে যাচাই-বাছাই।

বাদ যায়নি সেই কমান্ডের সহকারী কমান্ডারের নামও। তাদের যাচাই-বাছাইও করেছে উপজেলা প্রশাসন এবং যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি ও সংসদ সদস্যের মনোনীত সদস্য।

তবে ২৮শে জানুয়ারী প্রকাশিত জামুকার এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ্য করা আছে ভারতীয় তালিকা এবং লালমুক্তিবার্তা থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ভূলবসত: যাচাই-বাছাই তালিকাতে অর্ন্তভূক্ত হলে সেসকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের’কে যাচাই-বাছাই এর আওতা বহির্ভূত রাখতে হবে।

স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে এমন যাচাই-বাছাইয়ে বিস্মিত প্রকাশ করেছে উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধাগন। ৩০শে জানুয়ারী দৌলতপুর উপজেলা মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের ব্যানারে সকাল ১০টায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট যাচাই-বাছাই কার্য্যক্রম শুরু হয়।

গত ৬জানুয়ারী এক বিজ্ঞপ্তিতে জামুকা জানায়, তাদের সুপারিশবিহীন যেসব বেসামরিক গেজেট প্রকাশ হয়েছে, প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রকাশের অংশ হিসেবে সেগুলো ৩০শে জানুয়ারী যাচাই-বাছাই করা হবে। ২৬ মার্চের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্নাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করবে জামুকা।

এজন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে দৌলতপুর উপজেলাতে পাঠানো ৯০জনের তালিকায় ১২নম্বরে যুদ্ধকালীন ব্রেভো কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক এর নাম আছে।

এছাড়াও প্রায় ৫০জনের উর্দ্ধে ভারতীয় ও লালমুক্তিবার্তা তালিকাভূক্ত মুক্তিযোদ্ধার নাম আছে। যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক আক্ষেপ করে বলেন, জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে যুদ্ধে গিয়েছি। নিজে এই এলাকার যুদ্ধকালীন কমান্ডারের দায়ীত্ব পালন করেছি।

আমার আন্ডারে শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা সরাসরি সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়েছে তাদের নেতৃত্ব দিয়েছি আমি। আর আজ দেশ স্বাধীন হওয়ার ৫০ বছর পরে আমি মুক্তিযোদ্ধা কিনা? সেটার প্রমানক দিতে হচ্ছে, তার চেয়ে মৃত্যু হলেও ভালো হতো বলে কেঁদে ফেলেন এই যুদ্ধকালীন কমান্ডার।

এব্যাপারে যাচাই-বাছাই কমিটির সকল সদস্যরা একই কথা বলেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এবং তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে সেই অনুযায়ী আমরা আমাদের যাচাই-বাছাই কার্য্যক্রম শুরু করেছি এখানে আমাদের কিছুই করার নেই।

এদিকে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য প্রেরন করা ৯০জনের তালিকার সবাইকে যাচাই-বাছাই একদিনে সম্ভব নয় বলে আগামীকাল বাকীদের যাচাই-বাছাই হবে বলে বিকেল ৪টার সময় শেষ করেন কার্য্যক্রম।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 06:24 pm, Saturday, 30 January 2021
23 Time View

যাচাই-বাছাইয়ের নামে তামাশা যুদ্ধকালীন কমান্ডার যাচাই-বাছাইয়ের কাঠগড়ায়!

Update Time : 06:24 pm, Saturday, 30 January 2021

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি:– কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলাতে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী যাচাই-বাছাই শুরু হয়েছে আজ।

আব্দুল খালেক যুদ্ধ কালীন কমান্ডার

উক্ত যাচাই-বাছাইয়ের অনুষ্ঠানে প্রায় ৫’শতাধিক মুক্তিযোদ্ধার যুদ্ধকালীন ব্রেভো কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক কেও করা হয়েছে যাচাই-বাছাই।

বাদ যায়নি সেই কমান্ডের সহকারী কমান্ডারের নামও। তাদের যাচাই-বাছাইও করেছে উপজেলা প্রশাসন এবং যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি ও সংসদ সদস্যের মনোনীত সদস্য।

তবে ২৮শে জানুয়ারী প্রকাশিত জামুকার এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ্য করা আছে ভারতীয় তালিকা এবং লালমুক্তিবার্তা থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ভূলবসত: যাচাই-বাছাই তালিকাতে অর্ন্তভূক্ত হলে সেসকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের’কে যাচাই-বাছাই এর আওতা বহির্ভূত রাখতে হবে।

স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে এমন যাচাই-বাছাইয়ে বিস্মিত প্রকাশ করেছে উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধাগন। ৩০শে জানুয়ারী দৌলতপুর উপজেলা মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের ব্যানারে সকাল ১০টায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট যাচাই-বাছাই কার্য্যক্রম শুরু হয়।

গত ৬জানুয়ারী এক বিজ্ঞপ্তিতে জামুকা জানায়, তাদের সুপারিশবিহীন যেসব বেসামরিক গেজেট প্রকাশ হয়েছে, প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রকাশের অংশ হিসেবে সেগুলো ৩০শে জানুয়ারী যাচাই-বাছাই করা হবে। ২৬ মার্চের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্নাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করবে জামুকা।

এজন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে দৌলতপুর উপজেলাতে পাঠানো ৯০জনের তালিকায় ১২নম্বরে যুদ্ধকালীন ব্রেভো কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক এর নাম আছে।

এছাড়াও প্রায় ৫০জনের উর্দ্ধে ভারতীয় ও লালমুক্তিবার্তা তালিকাভূক্ত মুক্তিযোদ্ধার নাম আছে। যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক আক্ষেপ করে বলেন, জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে যুদ্ধে গিয়েছি। নিজে এই এলাকার যুদ্ধকালীন কমান্ডারের দায়ীত্ব পালন করেছি।

আমার আন্ডারে শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা সরাসরি সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়েছে তাদের নেতৃত্ব দিয়েছি আমি। আর আজ দেশ স্বাধীন হওয়ার ৫০ বছর পরে আমি মুক্তিযোদ্ধা কিনা? সেটার প্রমানক দিতে হচ্ছে, তার চেয়ে মৃত্যু হলেও ভালো হতো বলে কেঁদে ফেলেন এই যুদ্ধকালীন কমান্ডার।

এব্যাপারে যাচাই-বাছাই কমিটির সকল সদস্যরা একই কথা বলেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এবং তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে সেই অনুযায়ী আমরা আমাদের যাচাই-বাছাই কার্য্যক্রম শুরু করেছি এখানে আমাদের কিছুই করার নেই।

এদিকে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য প্রেরন করা ৯০জনের তালিকার সবাইকে যাচাই-বাছাই একদিনে সম্ভব নয় বলে আগামীকাল বাকীদের যাচাই-বাছাই হবে বলে বিকেল ৪টার সময় শেষ করেন কার্য্যক্রম।