Jashore , Friday, 23 October 2026
সর্বশেষ:
যশোরে ঢাক-কাঁসরের শব্দে প্রতিমা বিসর্জন রংপুর মেডিকেলে শর্টসার্কিট থেকে আগুন; আহত ৪০ হেফাজতে ইসলামের মধ্যস্থতায় ৭ কওমি দলের নতুন রাজনৈতিক জোট ‘সমমনা ইসলামি দল’ সৌদিতে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতার অভিযোগে সিপিবির বিক্ষোভ সাত দশকের ঐতিহ্যবাহী ‘জামাই মেলা’! কোটি টাকার মাছ কেনাবেচার উৎসব যশোরে সার ডিলার নিয়োগে চরম দলীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগ বিরোধী দলের ৫ এমপির অস্ত্র নিয়ে হামলা ও জমি দখলের হুমকি; যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন জামায়াত জুলাইকে ধারণ করে না, বিএনপির এমন অভিযোগ হাস্যকর: গোলাম পরওয়ার সরকার চায় ঐক্য, কিন্তু একটি মহল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি : প্রধানমন্ত্রী যশোরে চিহ্নিত চোর ও চাঁদাবাজ মনিরুল ইসলাম সাগর আটক

রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে গ্রেফতারের দাবি নাহিদের

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর অপসারণ ও তাকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এই রাষ্ট্রপতির বঙ্গভবনে থাকার বা সংসদে বক্তব্য দেওয়ার কোনও নৈতিক অধিকার নেই।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৫তম দিন বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির বক্তব্য আমি শুনিও নাই, পড়িও নাই। সেই বক্তব্য এবং বক্তব্য দেওয়ার সুযোগকে আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি—এই রাষ্ট্রপতির অপসারণ প্রয়োজন, তাকে গ্রেফতার করা প্রয়োজন। তার আর কোনও অধিকার নেই বঙ্গভবনে থাকার বা এখানে এসে বক্তব্য দেওয়ার।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর কিছু কর্মকাণ্ড হাউসের সামনে তুলে ধরছি। তিনি দুদকের কমিশনার ছিলেন। তাকে তিনটি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল—খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে শাস্তি নিশ্চিত করা, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ থেকে আওয়ামী লীগকে ক্লিনচিট দেওয়া এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো বাতিল করা।’

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘তিনি ফরমায়েশি রায় দিয়েছেন, ইসলামী ব্যাংক লুণ্ঠনের সঙ্গে জড়িত এবং জুলাই গণহত্যার সময় তার ভূমিকা রয়েছে। এমন একজন ব্যক্তিকে এখনো রাষ্ট্রপতি হিসেবে রাখা হয়েছে—এটা আমাদের দুর্ভাগ্য।’

তিনি বলেন, ‘এই দুর্নীতিবাজ, অপদার্থ ও মিথ্যুক রাষ্ট্রপতিকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।’

‘সাথে থাকলে সঙ্গী, না থাকলে জঙ্গি’

একই আলোচনায় নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি দীর্ঘদিন জামায়াতের সঙ্গে রাজনীতি করেছে। এখন অনেকে বলে—‘সাথে থাকলে সঙ্গী, না থাকলে জঙ্গি।’ এই বিভাজন নিরসনের দায়িত্ব বড় দলগুলোর ছিল।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও সংসদে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ বিভাজন থাকা কাম্য নয়। ‘আমরা এখনো কেন এই সমাধান করতে পারিনি? এর দায়ভার কে নেবে—বিএনপি, না যারা দীর্ঘদিন জামায়াতের সঙ্গে রাজনীতি করেছে?’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ আমাদের ফাউন্ডেশন—এ নিয়ে বিতর্কের সুযোগ নেই। তবে মুক্তিযুদ্ধের নামে লুটপাট ও ফ্যাসিবাদ কায়েমের বিষয়টিও ভোলা যাবে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল মুক্তিযুদ্ধেরই নবায়ন।’

তিনি বলেন, ইতিহাসের এই বিতর্ক একপাশে রেখে সবাইকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে এবং জনগণকে বিভক্ত করার রাজনীতি পরিহার করতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 06:17 pm, Thursday, 30 April 2026
76 Time View

রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে গ্রেফতারের দাবি নাহিদের

Update Time : 06:17 pm, Thursday, 30 April 2026

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর অপসারণ ও তাকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এই রাষ্ট্রপতির বঙ্গভবনে থাকার বা সংসদে বক্তব্য দেওয়ার কোনও নৈতিক অধিকার নেই।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৫তম দিন বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির বক্তব্য আমি শুনিও নাই, পড়িও নাই। সেই বক্তব্য এবং বক্তব্য দেওয়ার সুযোগকে আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি—এই রাষ্ট্রপতির অপসারণ প্রয়োজন, তাকে গ্রেফতার করা প্রয়োজন। তার আর কোনও অধিকার নেই বঙ্গভবনে থাকার বা এখানে এসে বক্তব্য দেওয়ার।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর কিছু কর্মকাণ্ড হাউসের সামনে তুলে ধরছি। তিনি দুদকের কমিশনার ছিলেন। তাকে তিনটি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল—খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে শাস্তি নিশ্চিত করা, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ থেকে আওয়ামী লীগকে ক্লিনচিট দেওয়া এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো বাতিল করা।’

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘তিনি ফরমায়েশি রায় দিয়েছেন, ইসলামী ব্যাংক লুণ্ঠনের সঙ্গে জড়িত এবং জুলাই গণহত্যার সময় তার ভূমিকা রয়েছে। এমন একজন ব্যক্তিকে এখনো রাষ্ট্রপতি হিসেবে রাখা হয়েছে—এটা আমাদের দুর্ভাগ্য।’

তিনি বলেন, ‘এই দুর্নীতিবাজ, অপদার্থ ও মিথ্যুক রাষ্ট্রপতিকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।’

‘সাথে থাকলে সঙ্গী, না থাকলে জঙ্গি’

একই আলোচনায় নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি দীর্ঘদিন জামায়াতের সঙ্গে রাজনীতি করেছে। এখন অনেকে বলে—‘সাথে থাকলে সঙ্গী, না থাকলে জঙ্গি।’ এই বিভাজন নিরসনের দায়িত্ব বড় দলগুলোর ছিল।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও সংসদে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ বিভাজন থাকা কাম্য নয়। ‘আমরা এখনো কেন এই সমাধান করতে পারিনি? এর দায়ভার কে নেবে—বিএনপি, না যারা দীর্ঘদিন জামায়াতের সঙ্গে রাজনীতি করেছে?’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ আমাদের ফাউন্ডেশন—এ নিয়ে বিতর্কের সুযোগ নেই। তবে মুক্তিযুদ্ধের নামে লুটপাট ও ফ্যাসিবাদ কায়েমের বিষয়টিও ভোলা যাবে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল মুক্তিযুদ্ধেরই নবায়ন।’

তিনি বলেন, ইতিহাসের এই বিতর্ক একপাশে রেখে সবাইকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে এবং জনগণকে বিভক্ত করার রাজনীতি পরিহার করতে হবে।