Jashore , Thursday, 22 October 2026
সর্বশেষ:

শেখ হাসিনাসহ ৮৪ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার মোহাম্মদপুরে গুলিতে স্ত্রী নিহত হওয়ার অভিযোগ তুলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৮৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন মো. সুমন নামে এক ব্যক্তি। তবে তদন্ত শেষে পুলিশ জানিয়েছে, এমন কোনো হত্যাকাণ্ডের ঘটনাই ঘটেনি।

এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট গুলিতে স্ত্রী নিহত হওয়ার দাবি করে ২০২৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে মামলাটি করেন সুমন। পরে তদন্ত শেষে গত ২৭ এপ্রিল আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন মোহাম্মদপুর থানার এসআই শাহাদাত হোসেন।

প্রতিবেদনে মামলার সব আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাদী সুমনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদনও করা হয়েছে।

মামলায় আসামি করা হয়েছিল সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুর কাদের, সাবেক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, সাবেক আইজিপি চৌধুরি আব্দুল্লাহ আর মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ মোট ৮৪ জনকে।

তদন্তে নেমে পুলিশ মামলার এজাহারে নাম থাকা ছয়জন এবং আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে কয়েকজন এখনো কারাগারে রয়েছেন।

পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, মামলায় উল্লেখ করা ‘ফাতেমা’ নামে নারীর সঙ্গে বাদী সুমনের কোনো সম্পর্ক নেই। এমনকি তিনি ওই নারীকে চিনতেনও না বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ফাতেমাকে আশুলিয়ার ইয়ারপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। কিন্তু তদন্তে কবরস্থান কর্তৃপক্ষ জানায়, সেখানে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত কোনো ব্যক্তির দাফনের তথ্য নেই। এছাড়া হত্যা বা আত্মহত্যার লাশও সেখানে দাফন করা হয় না।

তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, ফাতেমার মৃত্যুর কোনো সনদ, হাসপাতালের কাগজপত্র বা দাফনের প্রমাণ দিতে পারেননি সুমন। মোহাম্মদপুর এলাকায় আন্দোলনে ২৩ জন নিহত হলেও কোনো নারী নিহত হওয়ার তথ্যও পাওয়া যায়নি।

জিজ্ঞাসাবাদে সুমন পুলিশকে বলেন, কিছু ব্যক্তির প্ররোচনা ও আর্থিক প্রলোভনে পড়ে তিনি মামলাটি করেছিলেন। পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি ভয় পেয়ে আত্মগোপনে চলে যান।

মামলার শুনানির পরবর্তী তারিখ আগামী ২৪ জুন নির্ধারণ করেছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম।

এ বিষয়ে গ্রেপ্তার হওয়া এক আসামির আইনজীবী মোস্তফা আল বলেন, এ ধরনের মামলা এখন অহরহ হচ্ছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে বিরোধীদের হয়রানির অভিযোগও বাড়ছে। অযথা কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটাই প্রত্যাশা।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 03:38 pm, Saturday, 16 May 2026
60 Time View

শেখ হাসিনাসহ ৮৪ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ

Update Time : 03:38 pm, Saturday, 16 May 2026

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার মোহাম্মদপুরে গুলিতে স্ত্রী নিহত হওয়ার অভিযোগ তুলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৮৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন মো. সুমন নামে এক ব্যক্তি। তবে তদন্ত শেষে পুলিশ জানিয়েছে, এমন কোনো হত্যাকাণ্ডের ঘটনাই ঘটেনি।

এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট গুলিতে স্ত্রী নিহত হওয়ার দাবি করে ২০২৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে মামলাটি করেন সুমন। পরে তদন্ত শেষে গত ২৭ এপ্রিল আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন মোহাম্মদপুর থানার এসআই শাহাদাত হোসেন।

প্রতিবেদনে মামলার সব আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাদী সুমনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদনও করা হয়েছে।

মামলায় আসামি করা হয়েছিল সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুর কাদের, সাবেক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, সাবেক আইজিপি চৌধুরি আব্দুল্লাহ আর মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ মোট ৮৪ জনকে।

তদন্তে নেমে পুলিশ মামলার এজাহারে নাম থাকা ছয়জন এবং আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে কয়েকজন এখনো কারাগারে রয়েছেন।

পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, মামলায় উল্লেখ করা ‘ফাতেমা’ নামে নারীর সঙ্গে বাদী সুমনের কোনো সম্পর্ক নেই। এমনকি তিনি ওই নারীকে চিনতেনও না বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ফাতেমাকে আশুলিয়ার ইয়ারপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। কিন্তু তদন্তে কবরস্থান কর্তৃপক্ষ জানায়, সেখানে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত কোনো ব্যক্তির দাফনের তথ্য নেই। এছাড়া হত্যা বা আত্মহত্যার লাশও সেখানে দাফন করা হয় না।

তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, ফাতেমার মৃত্যুর কোনো সনদ, হাসপাতালের কাগজপত্র বা দাফনের প্রমাণ দিতে পারেননি সুমন। মোহাম্মদপুর এলাকায় আন্দোলনে ২৩ জন নিহত হলেও কোনো নারী নিহত হওয়ার তথ্যও পাওয়া যায়নি।

জিজ্ঞাসাবাদে সুমন পুলিশকে বলেন, কিছু ব্যক্তির প্ররোচনা ও আর্থিক প্রলোভনে পড়ে তিনি মামলাটি করেছিলেন। পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি ভয় পেয়ে আত্মগোপনে চলে যান।

মামলার শুনানির পরবর্তী তারিখ আগামী ২৪ জুন নির্ধারণ করেছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম।

এ বিষয়ে গ্রেপ্তার হওয়া এক আসামির আইনজীবী মোস্তফা আল বলেন, এ ধরনের মামলা এখন অহরহ হচ্ছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে বিরোধীদের হয়রানির অভিযোগও বাড়ছে। অযথা কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটাই প্রত্যাশা।