Jashore , Friday, 23 October 2026
সর্বশেষ:
যশোরে ঢাক-কাঁসরের শব্দে প্রতিমা বিসর্জন রংপুর মেডিকেলে শর্টসার্কিট থেকে আগুন; আহত ৪০ হেফাজতে ইসলামের মধ্যস্থতায় ৭ কওমি দলের নতুন রাজনৈতিক জোট ‘সমমনা ইসলামি দল’ সৌদিতে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতার অভিযোগে সিপিবির বিক্ষোভ সাত দশকের ঐতিহ্যবাহী ‘জামাই মেলা’! কোটি টাকার মাছ কেনাবেচার উৎসব যশোরে সার ডিলার নিয়োগে চরম দলীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগ বিরোধী দলের ৫ এমপির অস্ত্র নিয়ে হামলা ও জমি দখলের হুমকি; যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন জামায়াত জুলাইকে ধারণ করে না, বিএনপির এমন অভিযোগ হাস্যকর: গোলাম পরওয়ার সরকার চায় ঐক্য, কিন্তু একটি মহল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি : প্রধানমন্ত্রী যশোরে চিহ্নিত চোর ও চাঁদাবাজ মনিরুল ইসলাম সাগর আটক

জুলাই বিপ্লবে গণহত্যা: ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড, সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
জুলাই বিপ্লবে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের অর্ধেকাংশ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ‘জুলাই ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে শহীদ ও আহতদের পরিবারের মাঝে বণ্টনের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই বিচারক হলেন—বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

মামলার বিবরণ ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক থেকে জানা যায়, ‘জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ’ নীতি অনুযায়ী আসামিরা যৌথ উদ্দেশ্যে এসব অপরাধ সংঘটন করেন। আন্দোলনকারীদের দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ এবং ছাত্রলীগ-যুবলীগকে মাঠে নামিয়ে দেশজুড়ে হামলা ও হত্যার ষড়যন্ত্রে সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রমাণের ভিত্তিতেই আদালত এ সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করেছেন। বিচারে আসামিদের কথোপকথনের ফরেনসিক পরীক্ষাকৃত অডিও রেকর্ড ও ভিডিও প্রমাণাদিসহ মোট ২৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

শুনানি চলাকালে আসামিপক্ষের আইনজীবী এম হাসান ইমাম দাবি করেছিলেন, আসামিরা কোনো কমান্ডিং পজিশনে ছিলেন না এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। অপরদিকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাদের আইনজীবী ইশরাত জাহান দাবি করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন দমনে তাদের প্রত্যক্ষ ভূমিকার প্রমাণ মেলেনি। তবে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম সফলভাবে এসব যুক্তি খণ্ডন করে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করেন।

উল্লেখ্য, মামলাটি প্রথমে ৫/২০২৫ নম্বর মিস কেস হিসেবে নিবন্ধিত হয়। গত বছরের ১৮ জুন তদন্ত শুরু হয়ে ৭ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ে। ১৮ ডিসেম্বর অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি শুরু হয় আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ। ২৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও গত ১৭ আগস্ট যুক্তিতর্ক সমাপ্তির পর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল, যা আজ চূড়ান্ত রূপ পেল।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 06:36 pm, Tuesday, 15 September 2026
46 Time View

জুলাই বিপ্লবে গণহত্যা: ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড, সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ

Update Time : 06:36 pm, Tuesday, 15 September 2026

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
জুলাই বিপ্লবে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের অর্ধেকাংশ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ‘জুলাই ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে শহীদ ও আহতদের পরিবারের মাঝে বণ্টনের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই বিচারক হলেন—বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

মামলার বিবরণ ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক থেকে জানা যায়, ‘জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ’ নীতি অনুযায়ী আসামিরা যৌথ উদ্দেশ্যে এসব অপরাধ সংঘটন করেন। আন্দোলনকারীদের দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ এবং ছাত্রলীগ-যুবলীগকে মাঠে নামিয়ে দেশজুড়ে হামলা ও হত্যার ষড়যন্ত্রে সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রমাণের ভিত্তিতেই আদালত এ সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করেছেন। বিচারে আসামিদের কথোপকথনের ফরেনসিক পরীক্ষাকৃত অডিও রেকর্ড ও ভিডিও প্রমাণাদিসহ মোট ২৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

শুনানি চলাকালে আসামিপক্ষের আইনজীবী এম হাসান ইমাম দাবি করেছিলেন, আসামিরা কোনো কমান্ডিং পজিশনে ছিলেন না এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। অপরদিকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাদের আইনজীবী ইশরাত জাহান দাবি করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন দমনে তাদের প্রত্যক্ষ ভূমিকার প্রমাণ মেলেনি। তবে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম সফলভাবে এসব যুক্তি খণ্ডন করে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করেন।

উল্লেখ্য, মামলাটি প্রথমে ৫/২০২৫ নম্বর মিস কেস হিসেবে নিবন্ধিত হয়। গত বছরের ১৮ জুন তদন্ত শুরু হয়ে ৭ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ে। ১৮ ডিসেম্বর অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি শুরু হয় আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ। ২৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও গত ১৭ আগস্ট যুক্তিতর্ক সমাপ্তির পর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল, যা আজ চূড়ান্ত রূপ পেল।