প্রভাতি ট্রেনের দাবিতে সোমবার যশোর স্টেশনে অবস্থান কর্মসূচির ডাক
প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ রেলওয়ে
নিজস্ব প্রতিবেদক
চলতি বছরের মার্চ বা এপ্রিল মাসের মধ্যে ঢাকা-যশোর রুটে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর বিষয়ে রেলওয়ের সর্বোচ্চ মহলের দেওয়া প্রতিশ্রুতি আমলনামায় রয়ে গেছে। শনিবার দুপুরে যশোর শহরের নীলরতন ধর রোডের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, সংগঠনের সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন। তিনি বলেন, জুলাই মাস চলমান হলেও সেই প্রতিশ্রুতির কোনো বাস্তবায়ন দেখেনি যশোরবাসী। এমনকী গত জুন মাসের মধ্যে ‘প্রভাতি ট্রেন’ চালুর আলটিমেটাম দেওয়া হলেও তা আমলে নেয়নি রেল কর্তৃপক্ষ। ফলশ্রুতিতে, প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের সুফল থেকে বঞ্চিত ও উপেক্ষিত ক্ষুব্ধ যশোরবাসী আগামী সোমবার (৬ জুলাই) থেকে রাজপথে নামার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে। ‘বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি’র পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৬ জুলাই সোমবার বেলা ১টায় যশোর রেলওয়ে জংশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগ্রাম কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, ঢাকা-যশোর পদ্মা সেতু রেল প্রকল্প চালুর পর থেকেই এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ ভোরের দিকে একটি ‘প্রভাতি ট্রেন’ এবং সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে ফিরতি ট্রেনের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে রেলওয়ের সচিব এবং মহাপরিচালক (ডিজি) স্বয়ং যশোরবাসীকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, ২০২৬ সালের মার্চ বা এপ্রিল মাসের মধ্যে এই রুটে আরও একটি নতুন আন্তঃনগর ট্রেন যুক্ত করা হবে।
নেতৃবৃন্দ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা অত্যন্ত ধৈর্য্যের সাথে কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতির ওপর ভরসা রেখেছিলাম। গত জুন মাস পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হলেও রেলের নীতিনির্ধারকরা সাধারণ মানুষের এই যৌক্তিক দাবিকে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দেননি। ফলে বাধ্য হয়েই আমাদের কঠোর কর্মসূচিতে যেতে হচ্ছে।
মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও দিনে মাত্র একটি ট্রেন দুইবার যাতায়াত করায় রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি এই অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে গণমাধ্যমগুলো এই বঞ্চনা ও বৈষম্যের চিত্র ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরায় সংহতি জানিয়েছে জেলার বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠন। বঞ্চনার কথা সাহসিকতার সাথে মিডিয়ায় তুলে ধরার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন আন্দোলনকারীরা।
৬ জুলাই সোমবার বেলা ১টায় যশোর রেলওয়ে জংশনে আয়োজিত এই অবস্থান কর্মসূচিকে সফল করতে এবং জেলার রেল যোগাযোগের নায্য অধিকার আদায়ে সর্বস্তরের সাধারণ জনতা, ব্যবসায়ী, ছাত্রসমাজ ও পেশাজীবীদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্ল্যাটফর্মে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছে বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি।
নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সোমবারের অবস্থান কর্মসূচি থেকে যদি রেল কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে নতুন ট্রেন চালুর সুনির্দিষ্ট ও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেয়, তবে পরবর্তীতে ট্রেন অবরোধসহ আরও কঠোর ও অনমনীয় কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের আহ্বায়ক কাওসার আলী, সদস্য নুরুল আমিন, মজিবুর রহমান মন্টু, হাবিবুর রহমান মিলনসহ কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।























