ধর্মকে পুঁজি করে বিভাজন সৃষ্টির পাঁয়তারা করলে তা সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ করা হবে: অমিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
যারা ধর্মকে পুঁজি করে সস্তা রাজনীতির নামে দেশে বিভাজন কিংবা সমাজে অশান্তি সৃষ্টির পাঁয়তারা করবে, তারা যে ধর্মবিশ্বাস বা রাজনৈতিক দর্শনেরই হোক না কেন রাষ্ট্র ও সরকারের পাশাপাশি তাদের সম্মিলিতভাবে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) শহরের মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দানে শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে যশোর জেলা, সদর উপজেলা ও পৌর পূজা উদযাপন পরিষদ আয়োজিত প্রাক-র্যালি আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী।
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ধর্ম বিশ্বাসের ভিন্নতার কারণে কোনো মানুষ যাতে পিছিয়ে না পড়ে, বাড়তি সুবিধা না পায় কিংবা কোনো অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়—বর্তমান সরকার তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। আমরা মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখতে শিখেছি। এই শিক্ষাই আমাদের দল বিএনপি দিয়েছে। যে কারণে আমরা ক্ষমতায় থাকি বা না থাকি, সব সময় জনগণের পাশে থাকি।
তিনি আরও বলেন, ধর্ম নিছক বিশ্বাস ও চেতনার বিষয়; একে রাজনীতির মাঠে অনৈতিক সুবিধা লাভের অস্ত্র বানানো যাবে না। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান আমাদের সেই শিক্ষাই দিয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সংসদে বলেছিলেন কারো ধর্মবিশ্বাস বা রাজনৈতিক দর্শন যাই হোক, বাংলাদেশ ভূখণ্ডে বসবাসকারী আমাদের মূল পরিচয় আমরা বাংলাদেশি। তাই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিজেদের দুর্বল ভাবার কোনো কারণ নেই, দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকর দাস রতনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার ঘোষের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম ও পৌর প্রশাসক রফিকুল হাসান।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু ও সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি গোলাম রেজা দুলু, সাবেক পৌর মেয়র মারুফুল ইসলাম, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট জেলা শাখার আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট দেবাশীষ দাস, রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশন যশোরের অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দজী মহারাজ, সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রবিন পাল, সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার সরকার এবং পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উৎপল ঘোষসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।























