ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ক্রমেই ঘরে ফেরা মানুষ সংখ্যা বাড়ছে

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

রুবেল হোসেন// ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ক্রমেই ঘরে ফেরা মানুষ সংখ্যা বাড়ছে। বৃদ্ধি পেয়েছে যানবাহনের চাপও।যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় মহাসড়কের বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার সড়কে গাড়ি ধীর গতিতে চলাচল করছে। এদিকে গণপরিবহণ বন্ধ থাকায় মহাসড়কের বিভিন্নসস্থানে ঘন্টার পর ঘন্টা গন্তব্যের অপেক্ষায় শতশত মানুষ। যাদের অধিকাংশই নিম্ন আয়ের।রবিবার সকাল সাড়ে ১১টা। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিহাতীর বিরোতি রিসোর্ট এলাকার সড়কের দুই পাশে গন্তব্যের অপেক্ষায় কয়েক’শ মানুষ দেখা গেছে। যাদের অধিকাংশ ধানকাটা শ্রমিকসহ নিম্ন আয়ের মানুষ। তাদেরই একজন আমেনা বেগম। পঞ্চগড়ের ভারত সীমান্তবর্তী এলাকার একটি গ্রামের বাসিন্দা। স্বামীসহ কাজ করেন ময়মনসিংহের ভালুকার এলাকার একটি পোল্টি ফার্মে। এক বছর ধরে বাড়ি যান না তারা। তাই ছুটি পেয়ে বাড়ি যাবার লক্ষে মধ্যরাতে ভালুকা থেকে বিভিন্ন পন্থায় স্বামী ও ছয় বছরের শিশু সন্তানসহ সকাল ছয়টায় এসে পৌঁছান এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। পায় সাড়ে পাঁচঘন্টা অতিবাহিত হলেও কোন যানবাহন ব্যবস্থা করতে পারেনি স্বামী! কারণ মাইক্রোবাসে জনপ্রতি ভাড়া হাকাচ্ছেন চার হাজার টাকা আর ট্রাকে এক হাজার টাকা! এই টাকা দিয়ে বাড়ি যাওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয় বলে জানান আমিনা বেগম। এখন তার চোখেমুখে ক্লান্তি আর হতাশা।পঞ্চগড়ের কাজলদিঘী একলাকার সুকমার রায়, মফিদুল, জুলহাসরা পনের দিন আগে এসেছিলেন ধানকাটা শ্রমিক হিসাবে। এখন কাজ নেই তাই বাড়ি ফিরে যাবেন কিন্তু গাড়ি না পেয়ে তারাও পড়েছেন চরম বিপাকে। ট্রাক ও অন্যান্যে যানবাহনের হাকানো ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যাবার সাধ্য তাদের নেই। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, “বড়লোকরা অনেক টাকা দিয়ে গাড়ি ভাড়া করে যেতে পারছে। আমরা কিভাবে যাবো। আমরা এখানে কোথায় থাকবো, কী খাবো? তাদের দাবী বাস চললে কম টাকায় তারা বাড়ি যেতে পারতাম। এখন কী হবে জানিনা।”এ‌দি‌কে সকালের দিকে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে যানবাহনের চাপ কয়েকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। গেল ২৪ ঘন্টায় বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে প্রায় ৩২ হাজার যানবাহন পারাপার করা হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে প্রায় দুই কোটি বিশ লাখ টাকা। যা গত ২৪ ঘন্টার তুলনায় ৬ হাজার যানবাহন পারাপার ও ৩৫ লাখ টাকা বেশি আদায় হয়েছে। ফলে এই অতিরিক্ত চাপের বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থেকে থেকে কালিহাতির এলেঙ্গায় পর্যন্ত প্রায় ১৬ কিলোমিটার দুই লেনের সড়কে যানবাহনকে ধীরগতিতে চলাচল করতে হচ্ছে।অপরদিকে আন্তঃজেলায় গণপরিবহন চলাচলের নির্দেশ দিলেও তা মানা হচ্ছেনা। কিছু কিছু দূরপাল্লার গণপরিবহন রাতের অন্ধকারে চলাচলের অভিযোগ রয়েছে। আর আন্তঃজেলায় চলাচলরত গণপরিবহণেও মানা হচ্ছেনা স্বাস্থ্যবিধি। দাঁড়িয়ে ও গাদাগাদি করে যাত্রী পরিবহণ করছে তারাযানজট নিরসনসহ বিধি মানাতে মহাসড়কে জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু সেতুতে টোল আদায়ে গতি বাড়াতে মোটরসাইকেলের আলাদা দুটি লেন চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ।এ বিষয়ে এ‌লেঙ্গা হাইও‌য়ে পু‌লিশ ফা‌ড়ির ইনচার্জ ইয়া‌সির আরাফাত জানান, মহাসড়‌কে কোন গণপ‌রিবহন চলাচল কর‌ছে না। ত‌বে সকাল থে‌কে মহাসড়‌কে গা‌ড়ির চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।