নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি// আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নরসিংদীর চর এলাকা। আধিপত্য নিয়ে বছরের পর বছর ধরে চলা সংঘাত- নির্বাচন এলেই যেন জেগে উঠেছে আরও হিংসাত্মক হয়ে।
নিজেদের অস্তিত্ব তুলে ধরতে সদলবলে জড়াচ্ছেন সংঘর্ষে, টেঁটা-গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাচ্ছে মানুষ।আগামী ১১ই নভেম্বর তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত হবে নরসিংদী সদর উপজেলার ২টি এবং রায়পুরা উপজেলার ১০টিসহ মোট ১২টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচনে অংশ নিতে দীর্ঘ সময় এলাকার বাইরে থাকা নেতাকর্মীরা ফিরতে শুরু করছিলেন নিজ নিজ এলাকায়। এতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পুরো চরাঞ্চল।বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় খোদ ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরাই একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াচ্ছে।
সহিংসতায় আলোকবালী ও পাড়াতলীতে গত ১৫ দিনেই ৬ জন নিহত এবং দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে।নির্বাচন কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে প্রার্থীদের এক মতবিনিময় সভায় পাড়াতলী ইউপি রায়পুরার বর্তমান চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী (আনারস) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ভোটকেন্দ্রের ভিতরের একটা বিষয় আছে, সে বিষয়টার ব্যাপারে বলবো এটা যেন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়।পাড়াতলী ইউপি রায়পুরার চেয়ারম্যান প্রার্থী (নৌকা) ফেরদৌস কামাল জানান, নির্বাচনের সময় সহিংসতার ঘটনা অপ্রত্যাশিত নয়।
এ কারণে আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো কঠোর হওয়ার আহ্বান জানাই।নরসিংদী সদরের আলোকবালী ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও প্রার্থী (নৌকা) দেলোয়ার হোসেন সরকার দিপ বলেন, প্রতিপক্ষরা বাড়ি-ঘরে হামলা করে। অতর্কিত গুলি চালায়। উপায়ন্তর না পেয়ে ঘরের ছাদে লুকালে চারপাশে আগুন লাগিয়ে দেয়।সাম্প্রতিক সংঘর্ষগুলোয় রায়পুরার বাঁশগাড়ী, নিলক্ষ্যা, পাড়াতলী, চরমধুয়া এবং সদর উপজেলার আলোকবালী ও চরদীঘলদিসহ ৬টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান-মেম্বার প্রার্থীর অন্তত কয়েক হাজার নেতা-কর্মী বাড়িঘর ছেড়েছেন।আলোকবালী ইউনিয়ন পরিষদের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আকরামুল ইসলাম সমির বলেন, বিভিন্ন গ্রামের অবস্থা ভাল না।
লোকজন বাড়িঘর থেকে বের হতে পারছেনা। আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে হুমকি পেয়েছি নির্বাচন ছেড়ে দেয়ার জন্য।রায়পুরার বাঁশগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী রাতুল হাসান জানান, প্রশাসনকে সম্পূর্ণ সজাগ থাকতে হবে। নতুবা ৪-৫টি ইউনিয়নে আবারও ঝামেলা হবে।পরিস্থিতি শান্ত আছে উল্লেখ করে সুষ্ঠু নির্বাচনে সবধরনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার।নরসিংদীর পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজিম বলেন, ইলেকশন হবে এবং জনগণ যেন ভোট দিতে পারে সেই পরিবেশ এখন পর্যন্ত আমার রেখেছি। আগামীতেও বজায় থাকবে।নরসিংদীর জেলা প্রশাসক আবু নঈম মোহাম্মদ মারুফ খান জানান, সুষ্ঠু, অবাধ ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচন যেন হয় তার জন্য আমরা কাজ করছি।
এ কাজে যারা আছেন তাদের সবারই ভূমিকা রয়েছে।এদিকে নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।নির্বাচন কমিশনার বেগম কবিতা খানম বলেন, চাকরির যদি মায়া থাকে নির্দলীয় ভূমিকা রাখবেন। কোন প্রকার অন্যায় হলে অ্যাকশন নিতে হলে অ্যাকশন নিবেন।







