কাউন্সিলর সোহেল হত্যা কুমিল্লায় আ.লীগ নেতার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

মোতাহার হোসেন কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি:- কুমিল্লায় ওয়ার্ড কাউন্সিলর সোহেল হত্যার ঘটনায় পাশের ওর্য়াডের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও তার সমর্থিত লোকজনের বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধরা।

এদিকে, এ ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র, গুলি, ককটেল ও পোশাক উদ্ধার করেছে পুলিশ।গতকাল সোমবার কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ মোহাম্মদ সোহেল ও তার সহযোগী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হরিপদ সাহাকে কার্যালয়ে ঢুকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এসময় গুলিবিদ্ধ হন আরও চারজন।

এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে বিক্ষুব্ধ লোকজন নিহত সোহেলের কথিত প্রতিপক্ষ আমির হোসেনের সমর্থক নবগ্রামের সোহেলের বাড়িতেও অগ্নিসংযোগ করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এর আগে, সোমবার রাতে নগরীর ১৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেনের বাড়িতে বিক্ষুব্ধরা হামলা চালায়। এসময় তার অফিসসহ বাসায় ভাঙচুর চালায় তারা।

একই সময়ে তার সমর্থিত শাহ আলমের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।এদিকে, মঙ্গলবার বিকেলে কুমিল্লা মহানগরের ১৬ নং ওয়ার্ডের সংরাইশ বেলাল মিয়ার বাড়ির সীমানা প্রাচীরের পাশ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ২টি এলজি, একটি পাইপগান, ১২ রাউন্ড গুলি, ৮টি ককটেল, দুইটি কালো পোশাক ও তিনটি স্কুলব্যাগ।কুমিল্লা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সোহান সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ৯৯৯-এ কল পেয়ে আমরা সংরাইশ বেলাল মিয়ার বাড়িতে উপস্থিত হই।

পরে তার সীমানা প্রাচীরের সঙ্গে পড়ে থাকা তিনটি স্কুলব্যাগ তল্লাশি করে ২টি এলজি, একটি পাইপগান, ১২ রাউন্ড গুলি, ৮টি ককটেল, দুটি কালো পোশাক উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, কাউন্সিলর সোহেল হত্যাকাণ্ডে এসব অস্ত্র ব্যবহার করা হতে পারে। তবে বিষয়টি এখনই পরিস্কারভাবে বলা যাচ্ছে না। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিষয়টি জানানো হবে।অন্যদিকে, এ ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও গ্রেপ্তার হয়নি কেউ। সিআইডি, র‌্যাবসহ একাধিক টিম ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে। নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।হত্যায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুর রহিম। তিনি বলেন, ঘটনা ঘটার পরপরই আমরা দুষ্কৃতকারীদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছি। আমাদের বেশ কয়েকটি টিম কাজ করছে। তদন্ত কীভাবে এগোচ্ছে তদন্তের স্বার্থেই এখন বলা যাচ্ছে না।এদিকে, নিহত ওয়ার্ড কাউন্সিলর সোহেলের ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ নেয়া হয় তার নিজ বাড়িতে।

তাকে শেষবারের মতো দেখতে সেখানে হাজির হন সমর্থক ও স্থানীয়রা। বাদ জোহর পাথুরিয়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে দাফন করা হয় পারিবারিক কবরস্থানে।উল্লেখ্য, মো. সোহেল কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য এবং ১৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়রও ছিলেন। ২০১২ ও ২০১৭ সালে তিনি কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হন। দ্বিতীয় মেয়াদে প্যানেল মেয়র ছিলেন সোহেল।