Jashore , Friday, 23 October 2026
সর্বশেষ:
যশোরে ঢাক-কাঁসরের শব্দে প্রতিমা বিসর্জন রংপুর মেডিকেলে শর্টসার্কিট থেকে আগুন; আহত ৪০ হেফাজতে ইসলামের মধ্যস্থতায় ৭ কওমি দলের নতুন রাজনৈতিক জোট ‘সমমনা ইসলামি দল’ সৌদিতে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতার অভিযোগে সিপিবির বিক্ষোভ সাত দশকের ঐতিহ্যবাহী ‘জামাই মেলা’! কোটি টাকার মাছ কেনাবেচার উৎসব যশোরে সার ডিলার নিয়োগে চরম দলীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগ বিরোধী দলের ৫ এমপির অস্ত্র নিয়ে হামলা ও জমি দখলের হুমকি; যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন জামায়াত জুলাইকে ধারণ করে না, বিএনপির এমন অভিযোগ হাস্যকর: গোলাম পরওয়ার সরকার চায় ঐক্য, কিন্তু একটি মহল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি : প্রধানমন্ত্রী যশোরে চিহ্নিত চোর ও চাঁদাবাজ মনিরুল ইসলাম সাগর আটক

রূপুরে নির্মাণাধীন এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশ করবে বাংলাদেশ

নাজমুল ইসলাম পাবনা জেলা প্রতিনিধি:- নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মত ৮০ শতাংশ শিক্ষিত মানুষের।রূপুরে নির্মাণাধীন এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশ করবে বাংলাদেশ।

২০১৬ সালে নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ারও অনেক আগে থেকে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের লাভ-ক্ষতি সম্পর্কে জানাশোনা শুরু হয়েছে দেশের মানুষের। কিন্তু, এতদিনে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে মানুষের কী ধারণা দাঁড়ালো?এর উত্তর খুঁজতে গবেষণা করেছেন, পরমাণু প্রকৌশলের অধ্যাপক মো. ড. শফিকুল ইসলাম।

তার গবেষণা জরিপে অংশ নিয়েছেন ৫৬৯ জন, এদের মধ্যে ১০২ জনই এই পরমাণু শিল্পে কর্মরত। মতামত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উত্তরদাতাদের ৭০ শতাংশই মনে করেন, পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। এছাড়া বেশিরভাগের মত সবার জন্য সাশ্রয়ী দামে বিদ্যুৎ মিলবে এখান থেকে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরমাণু প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম জানান, ৬৬ শতাংশ মানুষই চান দেশে পরমাণু বিদ্যুতের যুগ্র প্রবেশ করুক।

জনগণ কিন্তু সবসময়ই সুবিধা নেয়, যদি তাদেরকে সঠিকভাবে জানানো হয়। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হলে জনগণই সবচেয়ে বেশি সমর্থন করবে।বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ব্যবহার হবে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ভিভিআর ১২০০ জেনারেশন ত্রি প্লাস মডেলের পরমাণু চুল্লি। চুল্লির ৩০০ মিটারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে নিরাপদ মাত্রার বিকিরণ। কিন্তু, জরিপে অংশ নেওয়াদের ২৫ শতাংশই মনে করছেন, পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করবে।

৩৩ শতাংশ মানুষের বদ্ধ ধারণা, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিকিরণে বিকলাঙ্গ শিশু জন্ম নিতে পারে। পরমাণু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও ভুল ধারণা রয়েছে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পরমাণু শিল্পে যারা কাজ করেন তাদের মাঝেও।অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম জানান, স্বাভাবিকভাবে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র চললে কোনওভাবেই এখান থেকে বেশি পরিমাণে পারমাণবিক বিকিরিণের সুযোগ নেই। এজন্য এখান থেকে বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম নেয়া বা স্বাস্থ্যঝুঁকির কোনও অবকাশ নেই।পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে ভুল ধারণার প্রধান কারণ হিসেবে বিকিরণ সম্পর্কে শিক্ষণের ঘাটতিকেই দায়ী করছেন গবেষক। জনগণ যেন সঠিক তথ্য পায় সে বিষয়ে নজর দিতে হব।

তবে বিদ্যুৎ কেন্দ্র কৃর্তৃপক্ষ বলছে, এ ধারণা পাল্টানোর জন্য আন্তর্জাতিক পদ্ধতি মেনে অনেকদিন ধরেই কাজ চলছে।বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হওয়ার আগেই স্বয়ংক্রিয় বিকিরণ তদারকি যন্ত্র বসানো হবে, যা জনগণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলেও জানিয়েছে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 12:51 pm, Thursday, 25 November 2021
28 Time View

রূপুরে নির্মাণাধীন এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশ করবে বাংলাদেশ

Update Time : 12:51 pm, Thursday, 25 November 2021

নাজমুল ইসলাম পাবনা জেলা প্রতিনিধি:- নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মত ৮০ শতাংশ শিক্ষিত মানুষের।রূপুরে নির্মাণাধীন এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশ করবে বাংলাদেশ।

২০১৬ সালে নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ারও অনেক আগে থেকে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের লাভ-ক্ষতি সম্পর্কে জানাশোনা শুরু হয়েছে দেশের মানুষের। কিন্তু, এতদিনে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে মানুষের কী ধারণা দাঁড়ালো?এর উত্তর খুঁজতে গবেষণা করেছেন, পরমাণু প্রকৌশলের অধ্যাপক মো. ড. শফিকুল ইসলাম।

তার গবেষণা জরিপে অংশ নিয়েছেন ৫৬৯ জন, এদের মধ্যে ১০২ জনই এই পরমাণু শিল্পে কর্মরত। মতামত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উত্তরদাতাদের ৭০ শতাংশই মনে করেন, পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। এছাড়া বেশিরভাগের মত সবার জন্য সাশ্রয়ী দামে বিদ্যুৎ মিলবে এখান থেকে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরমাণু প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম জানান, ৬৬ শতাংশ মানুষই চান দেশে পরমাণু বিদ্যুতের যুগ্র প্রবেশ করুক।

জনগণ কিন্তু সবসময়ই সুবিধা নেয়, যদি তাদেরকে সঠিকভাবে জানানো হয়। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হলে জনগণই সবচেয়ে বেশি সমর্থন করবে।বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ব্যবহার হবে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ভিভিআর ১২০০ জেনারেশন ত্রি প্লাস মডেলের পরমাণু চুল্লি। চুল্লির ৩০০ মিটারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে নিরাপদ মাত্রার বিকিরণ। কিন্তু, জরিপে অংশ নেওয়াদের ২৫ শতাংশই মনে করছেন, পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করবে।

৩৩ শতাংশ মানুষের বদ্ধ ধারণা, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিকিরণে বিকলাঙ্গ শিশু জন্ম নিতে পারে। পরমাণু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও ভুল ধারণা রয়েছে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পরমাণু শিল্পে যারা কাজ করেন তাদের মাঝেও।অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম জানান, স্বাভাবিকভাবে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র চললে কোনওভাবেই এখান থেকে বেশি পরিমাণে পারমাণবিক বিকিরিণের সুযোগ নেই। এজন্য এখান থেকে বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম নেয়া বা স্বাস্থ্যঝুঁকির কোনও অবকাশ নেই।পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে ভুল ধারণার প্রধান কারণ হিসেবে বিকিরণ সম্পর্কে শিক্ষণের ঘাটতিকেই দায়ী করছেন গবেষক। জনগণ যেন সঠিক তথ্য পায় সে বিষয়ে নজর দিতে হব।

তবে বিদ্যুৎ কেন্দ্র কৃর্তৃপক্ষ বলছে, এ ধারণা পাল্টানোর জন্য আন্তর্জাতিক পদ্ধতি মেনে অনেকদিন ধরেই কাজ চলছে।বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হওয়ার আগেই স্বয়ংক্রিয় বিকিরণ তদারকি যন্ত্র বসানো হবে, যা জনগণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলেও জানিয়েছে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ।