শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

ডা. ওমর আলী সিলেট বিভাগীয় সংবাদদাতা// অনির্দিষ্ট কালের জন্য সিলেট শাবিপ্রবির ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।

সন্ধ্যায় পুলিশ শিক্ষার্থীর মধ্যে সংঘর্ষের পর জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। আগামীকাল ( সোমবার) দুপুর বারোটার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এদিকে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশী নির্যাতনের প্রতিবাদে শাবিপ্রবির প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়েছে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। এদিকে বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রভোস্ট জাফরিন আহমেদ লিজা পদত্যাগ করেছেন, তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন অধ্যাপক ড. নাজিয়া চৌধুরী।

এর আগে, তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হাতে অবরুদ্ধ সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।রবিবার সন্ধ্যায় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে ও লাঠিচার্জ করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। প্রায় ৩ ঘন্টা পর পুলিশি অভিযানে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করা হয় শাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে।

এ সময় সংঘর্ষে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পুলিশসহ আহত হয় অর্ধশতাধিক। আহতদের মধ্যে অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থী।দাবী আদায় না হওয়ায় বিকেলে মিছিল থেকে উপাচার্যকে ধাওয়া করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। হামলা এড়াতে আইসিটি ভবনে আশ্রয় নেন উপাচার্য। এসময় সেই ভবনে তালা দিয়ে ভিসিকে অবরুদ্ধ করে চলে বিক্ষোভ । দফায় দফায় শিক্ষক প্রতিনিধিরা আলোচনার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়, পরে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় পুলিশ।

আলোচনায় ব্যর্থ হয় পুলিশও। এক পর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে লাঠিচার্জ করে পুলিশ।পুলিশের অভিযোগ, আন্দোলনকারীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে পুলিশ। সংঘর্ষ চলাকালে শিক্ষার্থী, পুলিশ, শিক্ষকসহ অর্ধশতাধিক আহত হন।ঘটনার পর উপাচার্যের বাসভবন ছাড়াও ক্যাম্পাসজুড়ে নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ।এর আগে, প্রভোস্ট জাফরিন আহমেদ লিজার পদত্যাগসহ অন্যান্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জণের ঘোষণা দেয় শিক্ষার্থীরা।

সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে অভ্যন্তরীণ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে ছাত্রীরা। অবরোধের কারণে রাস্তার দুইপাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে আন্দোলনে যোগ দেয় বিভিন্ন প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন।

গতকাল সন্ধ্যায় অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায় বলেও অভিযোগ করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।