এনডিটিভি’র তথ্য প্রকাশ ইসরায়েল থেকে আড়িপাতার সরঞ্জাম কিনেছে ভারত

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

বাপ্পি বিশ্বাস (ভারত)পশ্চিমবঙ্গ প্রতিনিধি:- ইসরায়েলের সঙ্গে দুইশ’ কোটি মার্কিন ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে ২০১৭ সালে পেগাসাস স্পাইওয়্যার (গোয়েন্দা নজনদারি সরঞ্জাম) কেনে ভারত। নিউইয়র্ক টাইমসের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি এই তথ্য জানিয়েছে।

ওই চুক্তিতে অস্ত্রের পাশাপাশি ছিল গোয়েন্দা নজরদারির সরঞ্জামাদিও।এর আগে গত বছর ইসরায়েলি সফটওয়্যার পেগাসাসের মাধ্যমে দেশটির রাজনীতিবিদ, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিকসহ গুরৃত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ওপর নজরদারির তথ্য প্রকাশের পর উত্তাল হয়ে উঠে রাজনৈতিক অঙ্গন। সেসময় দেশটির পার্লামেন্টে এই নিয়ে মোদীকে প্রশ্ন করা হলেও বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি। তবে সেবছরই মোদীর ইসরায়েল সফরে এই সম্পর্কিত চুক্তি হয়ে থাকতে পারে বলে দাবি করেছে গণমাধ্যমটি।

নাগরিকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা জড়িত থাকায় বিষয়টি নিয়ে তদন্তও চলছে। এরমধ্যেই এধরনের বিস্ফোরক তথ্য সামনে এল। এই ঘটনায় মোদী সরকার দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন বলে টুইট করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। গত বছর পেগাসাস ইস্যুতে চরম বিতর্কে পড়তে হয়েছে মোদী সরকারকে। একাধিক ব্যক্তিত্বের ফোনে আড়ি পাতার অভিযোগ ওঠে সরকারের বিরুদ্ধে। সেই তালিকায় বিচারপতি থেকে শুরু করে খোদ মোদীর মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীরাও ছিলেন বলে ফাঁস হয় তথ্য।

এমনকি তালিকায় রাহুল গান্ধী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো তরুণ নেতারাও ছিলেন। বিশেষ করে বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন চলাকালীন অভিষেকের পাশাপাশি প্রশান্ত কিশোরের ফোন ট্যাপ করা হয়েছিল বলেও তথ্য সামনে আসে।যদিও এহেন অভিযোগ কেন্দ্রের তরফে সম্পূর্ণ ভাবে অস্বীকার করা হয়। আর এই বিতর্কের মধ্যে সাম্প্রতিক একটি রিপোর্ট ঘিরে নয়া বিতর্ক। প্রকাশিত সেই রিপোর্ট বলছে, ভারত সরকার ইজরায়েল থেকে ২০১৭ সালে একটি বড় সামরিক চুক্তিতে ক্ষেপণাস্ত্র ছাড়াও পেগাসাসও কিনেছিল।

আর এই ডিল ২ বিলিয়ন ডলারের ছিল বলেও বিস্ফোরক দাবি করা হয়েছে।সম্প্রতি নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে এমন তথ্য সামনে আনা হয়েছে। প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে যে, ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এই স্পাইওয়ার কিনেছিল।

শুধু তাই নয়, এর পরীক্ষাও করেছিল তাঁরা।প্রকাশিত খবরে এই স্পাইওয়্যার সফটওয়্যারকে কীভাবে গ্লোবালি ব্যবহার করা হয়েছে তা তুলে ধরা হয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রণালয় একটি চুক্তিতে এই পেগাসাস পোলান্ড, হাঙ্গেরি এবং ভারত সহ আরও বেশ কয়েকটি দেশকেও বিক্রি করেছে। এমনটাই দাবি নিউ ইয়র্ক টাইমসের ওই প্রতিবেদনে। ওই খবরে ২০১৭ সালের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীর ইসরায়েল সফরের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

আর সেই সময়ে ইজরায়েলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এবং নরেন্দ্র মোদী দুই বিলিয়ন ডলারের সমরাস্ত্র এবং ইন্টেলিজেন্স গিয়ার প্যাকেজ চুক্তি করতে সম্মত হয়েছিলেন। এতে মিসাইল ছাড়াও ছিল পেগাসাসের মতো স্পাই সফটওয়্যার। আর এই তথ্য সামনে আসার পরেই নতুন করে পেগাসাস ইস্যুতে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।তাহলে কি সত্যিই নজরদারি হয়েছে? রাজনৈতিকমহলের মতে, পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগে খেলা আরও একবার ঘুরতে চলেছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের তাঁদের প্রতিবেদনে লিখেছে, মোদীর ইসরায়েল সফর খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেসময় মোদী এবং ইসরায়েলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে সে দেশের একটি সমুদ্রতটে ঘুরতে দেখা যায়। আর সেই সময়ে এই চুক্তি দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে হয়েছিল বলে দাবি।যদিও এই চুক্তি নিয়ে ভারত এবং ইসরায়েল কোনও কথা বলতে চায় না বলেও দাবি করা হয়েছে প্রকাশিত ওই খবরে।

কারন এই ঘটনার পর ভারত সরকারের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এমন কোনও স্পাই সফটওয়্যার কখনও কেনেনি মোদী সরকার। কার্যত একই বক্তব্য শোনা গিয়েছে ইসরায়েল সরকারের তরফে।

প্রকাশিত খবরের দাবি, সম্ভবত নিরাপত্তার কারনেই এই বিষয়ে দুই দেশই মুখ খুলতে নারাজ। পেগাসাস ভয়ঙ্কর একটি স্পাই সফটওয়্যার। আর এটি বানিয়েছে ইজরায়েলের সংস্থা এনএসও গ্রুপ। এই সফটওয়্যার শুধু সরকারকেই বিক্রি করা যায়। কোনও সাধারণ মানুষ এটি কিনতে পারেন না।