রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত ইউক্রেনে রুশ হামলায় ১৩৭ জনের মৃত্যু অভিযোগ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

আন্তর্জাতিক সংবাদ:- ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর হামলায় সেনা ও বেসামরিকসহ কমপক্ষে ১৩৭ জন নিহত হয়েছে দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। আহত হয়েছে তিনশর বেশি সেনা।

বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও বার্তায় দেশটির প্রেসিডেন্ট এ অভিযোগ করেন।তিনি বলেন, বিদেশি নেতাদের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। এই সময়ে আমি কিছু বিষয় শুনেছি। এর মধ্যে প্রথম হলো আমরা সমর্থন পেয়েছি। যারা আমাদের শুধু কথায় নয়, দৃঢ়ভাবে সাহায্য করেছে তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তবে আরেকটি বিষয় হলো প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য আমাদের একা করে দেয়া হয়েছে। কারা আমাদের সঙ্গে লড়াই করতে প্রস্তুত? সত্যি বলতে কাউকে দেখছি না।তিনি বলেন, আজকে আমি ইউরোপের ২৭ জন নেতার সঙ্গে কথা বলেছি যে ইউক্রেন ন্যাটোতে থাকবে কি না। তাদের সবাই ভয় পেয়েছে, কোনো জবাব দেননি। তবে আমরা ভীত নই, যে কোনো কিছু করতে আমরা ভীত নই।

হামলার প্রথম দিনেই পরিত্যক্ত চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দখলে নিয়েছে রুশ বাহিনী। ইউক্রেনীয় এক্সক্লুসন জোন ম্যানেজমেন্টের মুখপাত্র ইয়েভজেনিয়া কুজনেতসোভা বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে যখন আমি কিয়েভে অফিসে আসি, তখন দেখতে পাই চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কেউ নেই, সবাই চলে গেছে। অর্থাৎ সেখানে নির্দেশনা দেয়া বা এটি রক্ষা করার কেউ নেই।এর আগে সকালে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক টুইট বার্তায় বলেন, রুশ বাহিনী চেরনোবিল বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে। আমাদের রক্ষকরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করছেন যেন ১৯৮৬ সালের ট্র্যাজেডি ফিরে না আসে।

এটি সমগ্র ইউরোপের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা।এরইমধ্যে ইউক্রেন ছেড়ে গেছে এক লাখের বেশি মানুষ। দেশটির রাজধানী কিয়েভের আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশনগুলোতে শহরের মানুষ আশ্রয় নিতে জড়ো হয়। অনেকে বাসে করে শহর ছেড়ে যেতে উদ্যত হন। এছাড়া মহাসড়কে শহর ছাড়তে চাওয়া গাড়ির লম্বা লাইনও দেখা গেছে।সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই আতঙ্ক প্রকাশ করে মন্তব্য করেছেন যে, তারা বোমা থেকে সুরক্ষা পেতে আশ্রয়কেন্দ্র এবং বেজমেন্টে আশ্রয় নিচ্ছেন।

রাস্তায় অপেক্ষাকৃত কম মানুষ দেখা যাচ্ছে এবং মানুষকে এটিএম বুথের সামনে লাইন দিতে দেখা যাচ্ছে।এদিকে, ইউক্রেনে রুশ হামলার কঠোর জবাব দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন মাক্রিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এছাড়া, রাশিয়াকে চাপে রাখতে আরও কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রুশ সেনাদের ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। এছাড়া ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ বিরোধী সমাবেশ করছেন সাধারণ মানুষ।