এনআইডি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গেলে বড় সংকট তৈরি হবে : সাবেক ইসি সাখাওয়াত

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

মানিক মিয়া স্টাফ রিপোর্টার:- জাতীয় পরিচয়পত্রের দায়ভার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিবর্তে নির্বাচন কমিশনকে নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রি. জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, এনআইডির পেছনে এতোগুলো বছর সিস্টেম ডেভেলপ করেছে নির্বাচন কমিশন।

এটা যদি আলাদা হয়ে যায়, তাহলে কোনো একসময় ভোটার লিস্ট নিয়েই কথা উঠবে, যেটা করা ঠিক হবে না। এনআইডি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গেলে বড় সংকট তৈরি হবে।বুধবার (১৯ অক্টোবর) নির্বাচন ভবনে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন তিনি।

এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এনআইডি ঠিক, না ভোটার তালিকা ঠিক এই প্রশ্ন উঠবে। কারণ, কালকে আপনি বলবেন আমার বয়স ৩০ না, আমার বয়স ১৯; আর ভুল হয়েছে বলে সেটাই করে ফেলল। ভোটার লিস্টের কী হবে? আলটিমেটলি এটা নিয়ে একটা গণ্ডগোল হবে। অন্য দেশে যেখানে আলাদা আছে, সেখানে তারা এখন নির্বাচন কমিশনকে বলছে- ভোটার লিস্ট নিয়ে একটা গণ্ডগোল হচ্ছে। এই সরকারের আমলেই আমরা এটা করেছি, তো এখন কেন নিতে চাচ্ছে?সিসিটিভি ক্যামেরা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিসি ক্যামেরা নিয়ে বিতর্ক আছে। সেটা ভালো হোক, মন্দ হোক। ইভিএমে সূক্ষ্ম কারচুপি সম্ভব। বাইরে কোনো হইচই নেই, কিছু নেই, অথচ ভেতরে কী হচ্ছে, গাইবান্ধায় যেটা আমরা দেখলাম। তবে ইভিএম যেখানে ব্যবহার হচ্ছে, ব্যবহার করুন। অন্য সিস্টেমে হলে (ব্যালট পেপারে কারচুপি) বাইরেও হইচই হবে। কারণ, কেন্দ্র ক্যাপচার করতে তো লোকবল লাগবে।

সিসি টিভিতে তো কষ্ট করে দেখতে হয়।তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি মনে করে পরিবেশ ঠিক নেই, তাহলে নির্বাচন বন্ধ করতে পারেন। কোথাও কোনো বাধা নেই। কারণ, সংবিধানের ১১৯ ধারা বলে আপনার কাজ হলো অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা। বাকিটা আপনাদের চিন্তা-ভাবনা করতে হবে।সাবেক সিইসি বলেন, বরিশালে যেটা ভাইরাল হতে দেখেছি, এখানে নির্বাচন কমিশনের উচিত ইউএনওকে প্রটেকশন দেওয়া। সবচেয়ে বড় স্ট্রং হচ্ছে সাব কন্টিনেন্টে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সবচেয়ে বড়। আড়াই হাজার লোকবল ও অফিস নিয়ে আর কোনো নির্বাচন কমিশনের এটা নেই। তবে লোকগুলোর ব্যবহার করতে হবে।বর্তমান সিইসির সভাপতিত্বে এ সভায় নির্বাচন কমিশনার রাশেদা সুলতানা, আনিছুর রহমান ও মো. আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।

পাশাপাশি বৈঠকে অংশ নেন সাবেক সিইসি বিচারপতি আব্দুর রউফ, কে এম নূরুল হুদা, কাজী রকিব উদ্দীন আহমদ, সাবেক নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন, রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, সাবেক ইসি সচিব মোহাম্মাদ সাদিক, মোহাম্মাদ আবদুল্লাহ, সিরাজুল ইসলাম, হেলাল উদ্দীন আহমেদ এবং ইসির সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী ও মোখলেছুর রহমান।

উল্লেখ্য, গত ৮ অক্টোবর সকাল ১০টায় জেলা পরিষদ ও অন্যান্য নির্বাচন নিয়ে ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল নির্বাচন কমিশন। বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনার, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, অতিরিক্ত আইজিপিসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।