অনলাইন ডেস্ক:- কোনো ভাড়া দিয়ে নয়, শুধুমাত্র দুপুরে বিনাপয়সায় খাবার খাইয়ে এক যুগের বেশি হলো জেলার হরিরামপুর উপজেলা ডাকঘরের পোস্টমাস্টারের সরকারি কোয়ার্টার দখল করে রেখেছেন অবসরপ্রাপ্ত এক ব্যাংক ম্যানেজার।
সাবেক এক পোস্টমাস্টারের পরিচিত হওয়ার সুবাদে ডাকঘর সংশ্লিষ্ট কেউ না হয়েও বিনা ভাড়ায় তিনি ওই কোয়ার্টারে পরিবার নিয়ে থাকছেন ১৩ বছর ধরে। দখলকারী অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তার সোজাসাপটা কথা- ভাড়া দিয়ে নয়, কোয়ার্টারে থাকেন পোস্টমাস্টারকে মাঝে-মধ্যে দুপুরের খাবার খাওয়ানোর বিনিময়ে।
দখলকারী অবসরপ্রাপ্ত ওই ব্যাংক কর্মকর্তার নাম এনামুল কবির। তিনি সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক ছিলেন। কয়েক বছর আগে তিনি চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডাকঘরের দুইতলা ভবনের নিচতলায় ডাকঘরের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। উপরের তলায় পোস্টমাস্টারের থাকার কোয়ার্টার। সেখানে রয়েছে তিনটি কক্ষ, টয়লেট ও বারান্দা। সেখানে স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে বাস করেন এনামুল কবির।
গত মঙ্গলবার ডাকঘরের পোস্টমাস্টারের ওই কোয়ার্টারে গিয়ে দেখা যায়, সাবেক ব্যাংক ম্যানেজার এনামুল কবির স্ত্রী আর এক ছেলে নিয়ে আছেন। পুরো তিন রুমের বেহাল দশা। সব রুমের রং চটে গেছে, দেয়ালে নোনা ধরে গেছে।
ডাক বিভাগের কেউ নন- কিভাবে এখানে টানা ১৩ বছর ধরে থাকছেন? এর জবাবে তিনি জানান, সাবেক এক পোস্টমাস্টারের আত্মীয়তার সূত্র ধরে এখানে বসবাস। তবে তিনি অকপটে স্বীকার করলেন, ভাড়া দিয়ে থাকেন না তিনি। যে পোস্টমাস্টারই এখানে আসেন তাকে তার আত্মীয় রেফারেন্সেই বহাল থাকেন। এর বিনিময়ে তিনি শুধু মাঝে মাঝে দুপুরের খাবার খাওয়ান। তিনি বলেন, আর বেশিদিন নয়, ছেলেকে ঢাকায় কলেজে ভর্তি করব। তখন কোয়ার্টার ছেড়ে দিয়ে পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকব।
ডাকঘরের পোস্টম্যান সাহেব আলী বলেন, আমি প্রায় তিন বছর হলো এই ডাকঘরে এসেছি। শুনেছি আগের এক পোস্টমাস্টার ওনার পরিচিত ছিলেন। তখন তিনি এই কোয়ার্টারে উঠেছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা ডাকঘরের পোস্টমাস্টার নরেশ চন্দ্র ঘোষ যুগান্তরকে জানান, আমি গত ফেব্রুয়ারিতে এসেছি। আমি আসার আগে থেকেই তিনি ওই কোয়ার্টারে থাকেন। মাঝে মাঝে দুপুরে খাবার খাওয়ানোর কথা সত্য। আমি আসার পরে ওনাকে চলে যেতে বলেছি। কিছুদিনের মধ্যেই উনি চলে যাবেন।
হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার রহমান সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি জানা ছিল না। তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে বলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।







