রংপুর কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিকে পিটিয়ে হত্যা, সংঘর্ষে আহত ১০

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

দুই কারারক্ষী বরখাস্ত, তদন্ত কমিটি গঠন

অনলাইন ডেস্ক:- রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গাছ থেকে আমড়া পেড়ে খাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক কয়েদিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

এনিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

পরে সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এই ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুই কারারক্ষী মোতালেব হোসেন ও শাহজাহান আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কারাগার ও জেলা প্রশাসক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে কারাগারের ভেতরের গাছ থেকে আমড়া পেড়ে খাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুজন কয়েদির মধ্যে ঝগড়া বাধে।

এই দুই কয়েদি হলেন বাহারাম বাদশা ও রফিকুল ইসলাম। ঝগড়ার এক পর্যায়ে রফিকুল বাহারাম বাদশাকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। তাকে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক বাহারকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই খবর কারাগারে পোঁছালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায।প্রথমে কারারক্ষীরা পরিস্থিতি নিয়ন্থণ আনতে ব্যর্থ হন। কারা কর্তৃপক্ষ সেনাবাহিনীর সহায়তা কামনা করেন। পরে সেনাবাহিনীর, র‌্যাব, পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে কারাগারের ভিতরে প্রবেশ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।

বর্তমানে কারাগারের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। জানাগেছে, বাহারাম বাদশা রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার কুমেদপুর ইউনিয়নের বাগবাড়ি এলাকার বাহাদুর মিয়ার ছেলে।দুলা মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি তিনি। বাহারাম বাদশার আরও তিন ভাই যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হয়ে রংপুর কারাগারে রয়েছেন। তিন ভাই হলেন, আলমাস মিয়া, মাহ আলম ও ওসমান গনি। বাহারাম বাদশা মৃত্যুর খবর কারাগারে পৌঁছালে ভাইয়েরা সংগঠিত হয়ে প্রতিপক্ষের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। এসময় কমপেক্ষ ১০ জন আহত হন।

আহতদের কারাগারের হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান বলেন, কয়েদিদের দুপক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুই কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। বাহরাম বাদশার হত্যার সাথে জড়িত রফিকুলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। দুই পক্ষের সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছে। তাদের কারা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।