Jashore , Saturday, 24 October 2026
সর্বশেষ:
যশোরে জাতীয় পার্টির বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ যশোরে ইয়াবাসহ ‘আইনজীবী সহকারী’ ও আলোচিত লাবনী গ্রেপ্তার যশোরে সার ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে হাটসভা জাতীয় নাগরিক পার্টির পুনর্গঠিত কমিটির আহ্বায়ক নাহিদ, সদস্যসচিব আখতার মণিরামপুরে পাঁচ শহীদ বিপ্লবীর ৫৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত যশোর জেনারেল হাসপাতালে ৪০ লাখ টাকার চিকিৎসাসামগ্রী বিতরণ বিশ্ব পোলিও দিবস উপলক্ষে যশোরে রোটারির সচেতনতামূলক র‍্যালি কাল যশোরে ঢাক-কাঁসরের শব্দে প্রতিমা বিসর্জন রংপুর মেডিকেলে শর্টসার্কিট থেকে আগুন; আহত ৪০ হেফাজতে ইসলামের মধ্যস্থতায় ৭ কওমি দলের নতুন রাজনৈতিক জোট ‘সমমনা ইসলামি দল’

যশোরে রানা প্রতাপ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন

অস্ত্রসহ মূল আসামি গ্রেপ্তার

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
যশোরের মনিরামপুরে আলোচিত বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির নেতা রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যা মামলার ক্লুলেস রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত অন্যতম মূল আসামি রাজীব মোল্লাকে নড়াইল জেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পিস্তল, গুলি, চাকু ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

গত ৫ জানুয়ারি বিকেলে মনিরামপুর থানাধীন কপালিয়া বাজারের ঝুম বিউটি পার্লারের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় রানা প্রতাপ বৈরাগীকে গুলি করে ও গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পর যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখা তদন্তের দায়িত্ব নেন। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রথমে বাগেরহাট জেলা থেকে সাদ্দাম নামের এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে নড়াইল থেকে রাজীব মোল্লাকে আটক করা হয়।

ডিবি সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারের পর রাজীব মোল্লা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি জানান, চাঁদাবাজি ও ঘের দখলকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, রানা প্রতাপ বৈরাগী ‘পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি’র নেতা শিপন আহমেদ মুন্নার নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন মৎস্য ঘের ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদা আদায় করতেন। একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা বন্ধ না করায় তাকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ঘটনার দিন হৃদয়, সূর্য ও রাজীব মোল্লা একটি পালসার মোটরসাইকেলে করে কপালিয়া বাজারে যান। আগে থেকেই শামীম ও সেলিম রানার অবস্থান পর্যবেক্ষণ করছিলেন। সুযোগ বুঝে রাজীব, সূর্য ও হৃদয় পিস্তল দিয়ে রানার মাথা ও বুকে গুলি করেন। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে সূর্য তার কাছে থাকা চাকু দিয়ে রানার গলা কেটে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

পুলিশ রাজীব মোল্লার কাছ থেকে একটি ৭.৬৫ এমএম পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড তাজা গুলি, একটি ফোল্ডিং চাকু, একটি পালসার মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে

যশোর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার শুক্রবার বিকেলে এক প্রেস কনভারেন্স এ জানান, মূলত পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি ও কমিউনিস্ট পার্টির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং চাঁদাবাজি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। রানা প্রতাপ মনিরামপুর-কেশবপুর এলাকার একজন প্রভাবশালী নেতা ছিলেন।

তিনি আরও জানান, নিহতের বান্ধবীর বিরুদ্ধে কোনো সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তবে রাজনৈতিক সহিংসতা ও চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 04:33 pm, Friday, 20 February 2026
85 Time View

যশোরে রানা প্রতাপ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন

Update Time : 04:33 pm, Friday, 20 February 2026

অস্ত্রসহ মূল আসামি গ্রেপ্তার

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
যশোরের মনিরামপুরে আলোচিত বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির নেতা রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যা মামলার ক্লুলেস রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত অন্যতম মূল আসামি রাজীব মোল্লাকে নড়াইল জেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পিস্তল, গুলি, চাকু ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

গত ৫ জানুয়ারি বিকেলে মনিরামপুর থানাধীন কপালিয়া বাজারের ঝুম বিউটি পার্লারের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় রানা প্রতাপ বৈরাগীকে গুলি করে ও গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পর যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখা তদন্তের দায়িত্ব নেন। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রথমে বাগেরহাট জেলা থেকে সাদ্দাম নামের এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে নড়াইল থেকে রাজীব মোল্লাকে আটক করা হয়।

ডিবি সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারের পর রাজীব মোল্লা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি জানান, চাঁদাবাজি ও ঘের দখলকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, রানা প্রতাপ বৈরাগী ‘পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি’র নেতা শিপন আহমেদ মুন্নার নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন মৎস্য ঘের ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদা আদায় করতেন। একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা বন্ধ না করায় তাকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ঘটনার দিন হৃদয়, সূর্য ও রাজীব মোল্লা একটি পালসার মোটরসাইকেলে করে কপালিয়া বাজারে যান। আগে থেকেই শামীম ও সেলিম রানার অবস্থান পর্যবেক্ষণ করছিলেন। সুযোগ বুঝে রাজীব, সূর্য ও হৃদয় পিস্তল দিয়ে রানার মাথা ও বুকে গুলি করেন। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে সূর্য তার কাছে থাকা চাকু দিয়ে রানার গলা কেটে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

পুলিশ রাজীব মোল্লার কাছ থেকে একটি ৭.৬৫ এমএম পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড তাজা গুলি, একটি ফোল্ডিং চাকু, একটি পালসার মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে

যশোর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার শুক্রবার বিকেলে এক প্রেস কনভারেন্স এ জানান, মূলত পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি ও কমিউনিস্ট পার্টির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং চাঁদাবাজি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। রানা প্রতাপ মনিরামপুর-কেশবপুর এলাকার একজন প্রভাবশালী নেতা ছিলেন।

তিনি আরও জানান, নিহতের বান্ধবীর বিরুদ্ধে কোনো সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তবে রাজনৈতিক সহিংসতা ও চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।