Jashore , Friday, 23 October 2026
সর্বশেষ:
যশোরে ঢাক-কাঁসরের শব্দে প্রতিমা বিসর্জন রংপুর মেডিকেলে শর্টসার্কিট থেকে আগুন; আহত ৪০ হেফাজতে ইসলামের মধ্যস্থতায় ৭ কওমি দলের নতুন রাজনৈতিক জোট ‘সমমনা ইসলামি দল’ সৌদিতে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতার অভিযোগে সিপিবির বিক্ষোভ সাত দশকের ঐতিহ্যবাহী ‘জামাই মেলা’! কোটি টাকার মাছ কেনাবেচার উৎসব যশোরে সার ডিলার নিয়োগে চরম দলীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগ বিরোধী দলের ৫ এমপির অস্ত্র নিয়ে হামলা ও জমি দখলের হুমকি; যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন জামায়াত জুলাইকে ধারণ করে না, বিএনপির এমন অভিযোগ হাস্যকর: গোলাম পরওয়ার সরকার চায় ঐক্য, কিন্তু একটি মহল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি : প্রধানমন্ত্রী যশোরে চিহ্নিত চোর ও চাঁদাবাজ মনিরুল ইসলাম সাগর আটক

যশোরে মাদক ও সন্ত্রাসের অভিযোগে সাজু বদ্দি গ্রেপ্তার, সমর্থকদের উত্তেজনা

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
যশোরের শার্শা ও বেনাপোল সীমান্ত এলাকার মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির অন্যতম হোতা হিসেবে পরিচিত মো. সাজু বদ্দিকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে তাকে গ্রেপ্তারের পর শার্শা থানায় নেওয়া হলে তার সমর্থকরা থানার সামনে জড়ো হয়ে তাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে রাতেই কড়া নিরাপত্তায় তাকে যশোর জেলা সদরে স্থানান্তর করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শার্শা উপজেলার পাঁচভুলট গ্রামের বাসিন্দা মো. সাজু বদ্দির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক, অস্ত্র, মাদক ও সহিংসতার অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সীমান্ত এলাকায় মাদক চক্র ও স্থানীয় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে নানা কারণে এতদিন তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছিল না।

পুলিশের নথি অনুযায়ী, সাজু বদ্দির বিরুদ্ধে অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০১৮ সালে শার্শা থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলার এফআইআর নম্বর যথাক্রমে ৫৫/৪৯১ (৩১ অক্টোবর ২০১৮), ৩০/৪৬৬ (১৫ অক্টোবর ২০১৮) এবং ১৫/৪০৩ (৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮)। এসব মামলায় বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪-এর ধারা ১৫(৩) ও ২৫-ডি এবং ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৪, ৫ ও ৬ ধারায় তাকে অভিযুক্ত করা হয়।

এ ছাড়া ২০১৭ সালের ২২ মে শার্শা থানায় অস্ত্র আইনের ১৯(f)/১৯-৪ ধারায় দায়ের করা একটি মামলায়ও তিনি এজাহারভুক্ত আসামি। ২০১৪ সালে একই থানায় দণ্ডবিধির ৪৪৭, ৩২৩, ৩২৬, ৩০৭, ৪২৭ ও ৫০৬ ধারায় একটি এবং ৩২৬, ৩০৭ ও ৫০৬ ধারায় আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এসব মামলার বেশিরভাগই সহিংসতা, বিস্ফোরক ব্যবহার ও অস্ত্র সংক্রান্ত অভিযোগের সঙ্গে জড়িত।

এর আগে ২০১৭ সালের ২২ মে পাঁচভুলট গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে অস্ত্র আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে আবার এলাকায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশি নথিতে দেখা গেছে, সাজু বদ্দির নাম মাদকসংক্রান্ত মামলাতেও রয়েছে। ২০১৯ সালের ৪ জুলাই শার্শা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারায় দায়ের করা একটি মামলায় তাকে অভিযুক্ত করা হয়। এ ছাড়া ২০১৭ সালের ২৯ ডিসেম্বর বেনাপোল পোর্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯০-এর ১৯(১) ধারার ৩(খ) অনুযায়ী দায়ের করা আরেকটি মামলাতেও তার নাম রয়েছে।

গ্রেপ্তারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তার সমর্থক ও ঘনিষ্ঠ কয়েকজন থানার সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে উত্তেজিত কয়েকজন তাকে জোর করে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে যশোরে স্থানান্তর করা হয়।

পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “গ্রেপ্তারের পর কিছু লোক থানায় ভিড় করেছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে আতঙ্ক ছিল। সাজু বদ্দিকে গ্রেপ্তার করায় এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 07:10 pm, Saturday, 7 March 2026
80 Time View

যশোরে মাদক ও সন্ত্রাসের অভিযোগে সাজু বদ্দি গ্রেপ্তার, সমর্থকদের উত্তেজনা

Update Time : 07:10 pm, Saturday, 7 March 2026

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
যশোরের শার্শা ও বেনাপোল সীমান্ত এলাকার মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির অন্যতম হোতা হিসেবে পরিচিত মো. সাজু বদ্দিকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে তাকে গ্রেপ্তারের পর শার্শা থানায় নেওয়া হলে তার সমর্থকরা থানার সামনে জড়ো হয়ে তাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে রাতেই কড়া নিরাপত্তায় তাকে যশোর জেলা সদরে স্থানান্তর করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শার্শা উপজেলার পাঁচভুলট গ্রামের বাসিন্দা মো. সাজু বদ্দির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক, অস্ত্র, মাদক ও সহিংসতার অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সীমান্ত এলাকায় মাদক চক্র ও স্থানীয় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে নানা কারণে এতদিন তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছিল না।

পুলিশের নথি অনুযায়ী, সাজু বদ্দির বিরুদ্ধে অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০১৮ সালে শার্শা থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলার এফআইআর নম্বর যথাক্রমে ৫৫/৪৯১ (৩১ অক্টোবর ২০১৮), ৩০/৪৬৬ (১৫ অক্টোবর ২০১৮) এবং ১৫/৪০৩ (৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮)। এসব মামলায় বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪-এর ধারা ১৫(৩) ও ২৫-ডি এবং ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৪, ৫ ও ৬ ধারায় তাকে অভিযুক্ত করা হয়।

এ ছাড়া ২০১৭ সালের ২২ মে শার্শা থানায় অস্ত্র আইনের ১৯(f)/১৯-৪ ধারায় দায়ের করা একটি মামলায়ও তিনি এজাহারভুক্ত আসামি। ২০১৪ সালে একই থানায় দণ্ডবিধির ৪৪৭, ৩২৩, ৩২৬, ৩০৭, ৪২৭ ও ৫০৬ ধারায় একটি এবং ৩২৬, ৩০৭ ও ৫০৬ ধারায় আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এসব মামলার বেশিরভাগই সহিংসতা, বিস্ফোরক ব্যবহার ও অস্ত্র সংক্রান্ত অভিযোগের সঙ্গে জড়িত।

এর আগে ২০১৭ সালের ২২ মে পাঁচভুলট গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে অস্ত্র আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে আবার এলাকায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশি নথিতে দেখা গেছে, সাজু বদ্দির নাম মাদকসংক্রান্ত মামলাতেও রয়েছে। ২০১৯ সালের ৪ জুলাই শার্শা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারায় দায়ের করা একটি মামলায় তাকে অভিযুক্ত করা হয়। এ ছাড়া ২০১৭ সালের ২৯ ডিসেম্বর বেনাপোল পোর্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯০-এর ১৯(১) ধারার ৩(খ) অনুযায়ী দায়ের করা আরেকটি মামলাতেও তার নাম রয়েছে।

গ্রেপ্তারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তার সমর্থক ও ঘনিষ্ঠ কয়েকজন থানার সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে উত্তেজিত কয়েকজন তাকে জোর করে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে যশোরে স্থানান্তর করা হয়।

পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “গ্রেপ্তারের পর কিছু লোক থানায় ভিড় করেছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে আতঙ্ক ছিল। সাজু বদ্দিকে গ্রেপ্তার করায় এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।