স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
যশোরে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রাক্কালে শহরের বিজয়স্তম্ভের বর্তমান দশা ও সেখানকার স্মারকফলক কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখায় স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, পরিকল্পিতভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম সম্বলিত স্মারকফলকটি আড়াল করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। জেলা প্রশাসক আশেক হাসানের পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু হলেও বিজয়স্তম্ভের মলিন ও জরাজীর্ণ অবস্থা উপস্থিত অনেকের মনেই বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
বিজয়স্তম্ভের এমন বেহাল দশা ও স্মারকফলক ঢেকে রাখার বিষয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
যশোর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি হারুন-অর-রশিদ বলেন, প্রতিবছর জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পৌরসভা বিজয়স্তম্ভ পরিষ্কার রাখে। কিন্তু এ বছর বিজয়স্তম্ভকে মলিন ও নোংরা অবস্থায় রাখা হয়েছে। এছাড়া কাপড় দিয়ে উদ্বোধনের স্মারকটি ঢেকে দেওয়া হয়েছে। সেখানে বঙ্গবন্ধুর নাম থাকায় এটি ইচ্ছাকৃত বলে মনে হচ্ছে। যারা এ ঘটনার সাথে জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিৎ।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক আব্দুল মালেক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি চোখ বন্ধ করে গিয়েছিলাম এবং চোখ বন্ধ করেই ফিরে এসেছি। প্রশাসন এ চেতনার মানুষ নন।
সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মযহারুল ইসলাম মন্টু বিষয়টিকে ‘নোংরামি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ইতিহাস কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা যায় না। এ কারণেই একটি পক্ষ বিজয়স্তম্ভে শ্রদ্ধা জানাতে যায়নি।
বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ যশোরের সম্পাদক তসলিমুর রহমান বলেন, ৫ অগাস্টের পর যে চেতনার উদ্ভব হয়েছিল, ২৬ মার্চের কর্মসূচিতে এমন দৃশ্য আমরা আশা করিনি।
স্থানীয় সংবাদকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, বিজয়স্তম্ভের মূল ফলকে লেখা রয়েছে— ‘মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মদানকারী বীর শহীদদের স্মরণে বিজয়স্তম্ভ/ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন/ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান/ ১৯৭২ সাল, ২৬ ডিসেম্বর’। এই ফলকটিই বর্তমানে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।
পুরো বিষয়টি নিয়ে যশোরের জেলা প্রশাসক আশেক হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিজয়স্তম্ভের সংস্কার কাজ হবে, সেজন্যই এখন পর্যন্ত কোনো পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়নি।
স্মারকফলক ঢেকে রাখার কারণ জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, এটিও সংস্কার কাজেরই অংশ।
উল্লেখ্য যে, জেলা প্রশাসকের নিজের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলায় হওয়া সত্ত্বেও মহান স্বাধীনতার স্থপতির স্মৃতিবিজড়িত এমন একটি স্তম্ভের প্রতি এ ধরনের অবহেলা ও আচরণ স্থানীয় জনমনে গভীর ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
