কেশবপুরে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অনিয়ম: স্বাস্থ্য বিভাগের আল্টিমেটাম
স্বাধীন কণ্ঠ ডেস্ক
যশোরের কেশবপুর উপজেলা-এ লাইসেন্সবিহীন ও অব্যবস্থাপনায় পরিচালিত বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। সম্প্রতি ২২টি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন এ বিষয়ে তৎপর হয়ে ওঠে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তালিকাভুক্ত ২২টি প্রতিষ্ঠানের বৈধ কাগজপত্র ও হালনাগাদ লাইসেন্স না থাকার বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টিকে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে তদন্ত শুরু করে স্বাস্থ্য বিভাগ। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বৈধ রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকগুলো পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে দেখা যায়, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে ল্যাব টেকনিশিয়ান নেই, ডিউটি ডাক্তার অনুপস্থিত এবং কোনো স্বাক্ষর ছাড়াই রোগীদের রিপোর্ট সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে বছরের পর বছর লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ রেহেনেওয়াজ স্বাক্ষরিত এক আদেশে চিহ্নিত অনিয়ম দ্রুত সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে টেকনিশিয়ান নিয়োগ, সার্বক্ষণিক চিকিৎসক উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং বৈধ লাইসেন্স প্রদর্শনের জন্য কড়া নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ডা. রেহেনেওয়াজ বলেন, জনস্বার্থ রক্ষায় এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনিয়ম দূর না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ নির্দেশনার অনুলিপি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, খুলনা বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক এবং যশোরের সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
প্রশাসনের এই তড়িৎ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সচেতন মহলের মতে, দীর্ঘদিন ধরে মানহীন ক্লিনিকগুলোর কারণে সাধারণ মানুষ প্রতারিত ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছিল। কঠোর নজরদারির মাধ্যমে এ খাতে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তারা।























