সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে যশোরে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ
স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
যশোরে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং বিদ্যমান সংবিধান সংস্কারের দাবিতে রাজপথে শক্তি প্রদর্শন করেছে ১১ দলীয় জোট। শনিবার বিকেলে শহরের কেন্দ্রস্থল ঈদগাহ মোড়ে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক গোলাম রসুল।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক গোলাম রসুল ১৯৭৭ ও ১৯৯১ সালের গণভোটের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জনগণ বারবার সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। বাহাত্তরের সংবিধানে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের কথা কাগজে-কলমে থাকলেও গত ৫৪ বছরে তা বাস্তবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বর্তমান সংবিধানের আমূল সংস্কার ছাড়া দেশে প্রকৃত সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
সরকারের তীব্র সমালোচনা করে গোলাম রসুল অভিযোগ করেন যে, বর্তমানে সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ এমনকি উচ্চ আদালতসহ প্রতিটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় আখড়ায় পরিণত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি একে এটা জনগণের সাথে প্রতারণা করা। এছাড়া বিচারক নিয়োগে রাজনৈতিক বিবেচনা এবং পুলিশের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি অবিলম্বে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি রেজাউল করিম ও শামসুজ্জামানের যৌথ সঞ্চালনায় সমাবেশে জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বক্তাদের মধ্যে ছিলেন, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু জাফর, নায়েবে আমীর হাবিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি গোলাম কুদ্দুস, এনসিপির জেলা সমন্বয়কারী মো.নুরুজ্জামান প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের ঈদগাহ মোড় থেকে শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ দড়াটানা মোড় প্রদক্ষিণ করে এবং মনিহার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে যশোর জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা ১১ দলীয় জোটের শত শত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তারা সংবিধান সংস্কার ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন।























