Jashore , Friday, 23 October 2026
সর্বশেষ:
যশোরে ঢাক-কাঁসরের শব্দে প্রতিমা বিসর্জন রংপুর মেডিকেলে শর্টসার্কিট থেকে আগুন; আহত ৪০ হেফাজতে ইসলামের মধ্যস্থতায় ৭ কওমি দলের নতুন রাজনৈতিক জোট ‘সমমনা ইসলামি দল’ সৌদিতে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতার অভিযোগে সিপিবির বিক্ষোভ সাত দশকের ঐতিহ্যবাহী ‘জামাই মেলা’! কোটি টাকার মাছ কেনাবেচার উৎসব যশোরে সার ডিলার নিয়োগে চরম দলীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগ বিরোধী দলের ৫ এমপির অস্ত্র নিয়ে হামলা ও জমি দখলের হুমকি; যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন জামায়াত জুলাইকে ধারণ করে না, বিএনপির এমন অভিযোগ হাস্যকর: গোলাম পরওয়ার সরকার চায় ঐক্য, কিন্তু একটি মহল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি : প্রধানমন্ত্রী যশোরে চিহ্নিত চোর ও চাঁদাবাজ মনিরুল ইসলাম সাগর আটক

বেনাপোলের ইউনুস হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা গ্রেপ্তার

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
যশোরের বেনাপোলে চাঞ্চল্যকর ইউনুস আলী হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রধান আসামি সোহেল রানা (২৬)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একই সাথে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গামছা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামি মঙ্গলবার আদালতে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছে। গ্রেপ্তারকৃত সোহেল রানা বেনাপোল পোর্ট থানার রহমতপুর গ্রামের কুদ্দুস সিকদারের ছেলে।

পিবিআই সূত্র জানায়, পিবিআই প্রধান অ্যাডিশনাল আইজিপি মোস্তফা কামালের দিক-নির্দেশনায় এবং পিবিআই যশোর জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান-এর নেতৃত্বে একটি চৌকস দল গত ২৪ মে রাত ১১ টা ১৫ মিনিটে যশোরের শার্শা থানাধীন গোগা এলাকায় অভিযান চালিয়ে পলাতক আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্য ও স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গামছাটি অপর পলাতক আসামি আনোয়ার হোসেনের বসতঘর থেকে উদ্ধার করা হয়।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, নিহত ইউনুস আলী বেনাপোল পোর্ট থানার গাতিপাডায় শ্বশুরবাড়িতে মা ও স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন। গত ২২ এপ্রিল তাঁর স্ত্রী তাসলীমা খাতুন খুলনায় মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান। ওই দিন দুপুরে আরেক আসামি তরিকুল ইসলাম কাজের কথা বলে ইউনুসকে বাড়ি থেকে ডেকে রহমতপুর গ্রামের রানার বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা মূল আসামি আনোয়ার হোসেন ও রানা ইউনুসকে জোরপূর্বক ঘরের ভেতর টেনে নিয়ে যায়। তাঁর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং একপর্যায়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়।

হত্যাকাণ্ডটি ধামাচাপা দিতে ওই রাতেই আসামি সবুজ হোসেনের মোটরসাইকেলে করে ইউনুসের লাশ বেনাপোল টু পুটখালী রোডের ‘চারা বটতলা’ নামক স্থানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। ২৩ এপ্রিল লাশ উদ্ধারের পর নিহতের ভাই ইউসুফ আলী বাদী হয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি পিবিআই যশোর জেলা স্বউদ্যোগে গ্রহণ করে তদন্তের দায়িত্ব দেয় এসআই রতন মিয়াকে। তদন্তের শুরুতেই গত ২৭ এপ্রিল এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই আসামি তরিকুল ইসলাম (৪০) ও সবুজ হোসেন (২১)-কে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। এর মধ্যে তরিকুল ইসলাম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন।

পিবিআই যশোর জেলা ইউনিট ইনচার্জ কামরুজ্জামান জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং স্থানীয় সোর্সের সহায়তায় অন্যতম প্রধান আসামি সোহেল রানার অবস্থান নিশ্চিত করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সোপর্দ করা হলে সে স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের ধরতেও পিবিআই-এর আভিযানিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 07:58 pm, Monday, 25 May 2026
80 Time View

বেনাপোলের ইউনুস হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা গ্রেপ্তার

Update Time : 07:58 pm, Monday, 25 May 2026

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
যশোরের বেনাপোলে চাঞ্চল্যকর ইউনুস আলী হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রধান আসামি সোহেল রানা (২৬)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একই সাথে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গামছা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামি মঙ্গলবার আদালতে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছে। গ্রেপ্তারকৃত সোহেল রানা বেনাপোল পোর্ট থানার রহমতপুর গ্রামের কুদ্দুস সিকদারের ছেলে।

পিবিআই সূত্র জানায়, পিবিআই প্রধান অ্যাডিশনাল আইজিপি মোস্তফা কামালের দিক-নির্দেশনায় এবং পিবিআই যশোর জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান-এর নেতৃত্বে একটি চৌকস দল গত ২৪ মে রাত ১১ টা ১৫ মিনিটে যশোরের শার্শা থানাধীন গোগা এলাকায় অভিযান চালিয়ে পলাতক আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্য ও স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গামছাটি অপর পলাতক আসামি আনোয়ার হোসেনের বসতঘর থেকে উদ্ধার করা হয়।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, নিহত ইউনুস আলী বেনাপোল পোর্ট থানার গাতিপাডায় শ্বশুরবাড়িতে মা ও স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন। গত ২২ এপ্রিল তাঁর স্ত্রী তাসলীমা খাতুন খুলনায় মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান। ওই দিন দুপুরে আরেক আসামি তরিকুল ইসলাম কাজের কথা বলে ইউনুসকে বাড়ি থেকে ডেকে রহমতপুর গ্রামের রানার বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা মূল আসামি আনোয়ার হোসেন ও রানা ইউনুসকে জোরপূর্বক ঘরের ভেতর টেনে নিয়ে যায়। তাঁর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং একপর্যায়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়।

হত্যাকাণ্ডটি ধামাচাপা দিতে ওই রাতেই আসামি সবুজ হোসেনের মোটরসাইকেলে করে ইউনুসের লাশ বেনাপোল টু পুটখালী রোডের ‘চারা বটতলা’ নামক স্থানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। ২৩ এপ্রিল লাশ উদ্ধারের পর নিহতের ভাই ইউসুফ আলী বাদী হয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি পিবিআই যশোর জেলা স্বউদ্যোগে গ্রহণ করে তদন্তের দায়িত্ব দেয় এসআই রতন মিয়াকে। তদন্তের শুরুতেই গত ২৭ এপ্রিল এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই আসামি তরিকুল ইসলাম (৪০) ও সবুজ হোসেন (২১)-কে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। এর মধ্যে তরিকুল ইসলাম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন।

পিবিআই যশোর জেলা ইউনিট ইনচার্জ কামরুজ্জামান জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং স্থানীয় সোর্সের সহায়তায় অন্যতম প্রধান আসামি সোহেল রানার অবস্থান নিশ্চিত করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সোপর্দ করা হলে সে স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের ধরতেও পিবিআই-এর আভিযানিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।