Jashore , Friday, 23 October 2026
সর্বশেষ:
যশোরে ঢাক-কাঁসরের শব্দে প্রতিমা বিসর্জন রংপুর মেডিকেলে শর্টসার্কিট থেকে আগুন; আহত ৪০ হেফাজতে ইসলামের মধ্যস্থতায় ৭ কওমি দলের নতুন রাজনৈতিক জোট ‘সমমনা ইসলামি দল’ সৌদিতে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতার অভিযোগে সিপিবির বিক্ষোভ সাত দশকের ঐতিহ্যবাহী ‘জামাই মেলা’! কোটি টাকার মাছ কেনাবেচার উৎসব যশোরে সার ডিলার নিয়োগে চরম দলীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগ বিরোধী দলের ৫ এমপির অস্ত্র নিয়ে হামলা ও জমি দখলের হুমকি; যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন জামায়াত জুলাইকে ধারণ করে না, বিএনপির এমন অভিযোগ হাস্যকর: গোলাম পরওয়ার সরকার চায় ঐক্য, কিন্তু একটি মহল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি : প্রধানমন্ত্রী যশোরে চিহ্নিত চোর ও চাঁদাবাজ মনিরুল ইসলাম সাগর আটক

গৃহবধূ রিমুর মৃত্যু রহস্য উদঘাটনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
যশোরে সাবিয়া ইয়াসমিন রিমু (২০) নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। বুধবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে নিহতের পিতা মো. শফিকুল ইসলাম লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি দাবি করেন, তার মেয়ের মৃত্যু আত্মহত্যা নয়; বরং এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, যা আত্মহত্যা হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

লিখিত বক্তব্যে শফিকুল ইসলাম জানান, ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার হাজিরবাগ ইউনিয়নের রায়পটন গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে শিহাব শাহরিয়ার রিয়াদের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার মেয়ে রিমুর বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য করা হয়েছিল। বিয়ের পর প্রথমদিকে সংসার স্বাভাবিক থাকলেও কিছুদিনের মধ্যেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পারিবারিক অশান্তি শুরু হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, বিয়ের পর রিমু তার স্বামীর আচরণ ও পারিবারিক কিছু বিষয় নিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এসব কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই বিরোধ সৃষ্টি হতো। একপর্যায়ে পারিবারিক কলহের জেরে রিমু বাবার বাড়িতে চলে আসে এবং দীর্ঘ সময় সেখানে অবস্থান করে। পরে দুই পরিবারের সদস্যদের উদ্যোগে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে তাকে আবার শ্বশুরবাড়িতে পাঠানো হয়।

শফিকুল ইসলাম জানান, শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যাওয়ার কয়েকদিনের মাথায় গত ৩ জুন তার মেয়ের মৃত্যুর খবর আসে। শ্বশুরবাড়ির লোকজন ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করলেও পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন অসঙ্গতি দেখতে পান বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তার দাবি, রিমুর মরদেহ সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় নয়, বরং খাটের ওপর শোয়ানো অবস্থায় দেখতে পান স্বজনরা। এছাড়া মরদেহের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব আলামত তাদের কাছে মৃত্যুর ঘটনাকে সন্দেহজনক করে তুলেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার প্রকৃত রহস্য আড়াল করার চেষ্টা চলছে এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি তদন্ত ও ময়নাতদন্ত কার্যক্রম নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।গৃহবধূ রিমুর মৃত্যু রহস্য উদঘাটনের দাবিতে

সংবাদ সম্মেলনে আবেগঘন বক্তব্যে শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে দোষারোপ করতে চাই না। একজন অসহায় বাবা হিসেবে আমার একমাত্র চাওয়া, আমার মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসুক। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন হোক এবং কেউ যদি দোষী হয়, তবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

তিনি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, মানবাধিকার সংগঠন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন রিমুর মা নার্গিস খাতুন, সবুজ হুসাইন, নাইমুর রহমান ও ইমরানসহ নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা।

উল্লেখ্য, রিমুর মৃত্যুর ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত এবং ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে পরিবার ও এলাকাবাসী।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 04:10 pm, Wednesday, 10 June 2026
56 Time View

গৃহবধূ রিমুর মৃত্যু রহস্য উদঘাটনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

Update Time : 04:10 pm, Wednesday, 10 June 2026

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
যশোরে সাবিয়া ইয়াসমিন রিমু (২০) নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। বুধবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে নিহতের পিতা মো. শফিকুল ইসলাম লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি দাবি করেন, তার মেয়ের মৃত্যু আত্মহত্যা নয়; বরং এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, যা আত্মহত্যা হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

লিখিত বক্তব্যে শফিকুল ইসলাম জানান, ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার হাজিরবাগ ইউনিয়নের রায়পটন গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে শিহাব শাহরিয়ার রিয়াদের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার মেয়ে রিমুর বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য করা হয়েছিল। বিয়ের পর প্রথমদিকে সংসার স্বাভাবিক থাকলেও কিছুদিনের মধ্যেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পারিবারিক অশান্তি শুরু হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, বিয়ের পর রিমু তার স্বামীর আচরণ ও পারিবারিক কিছু বিষয় নিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এসব কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই বিরোধ সৃষ্টি হতো। একপর্যায়ে পারিবারিক কলহের জেরে রিমু বাবার বাড়িতে চলে আসে এবং দীর্ঘ সময় সেখানে অবস্থান করে। পরে দুই পরিবারের সদস্যদের উদ্যোগে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে তাকে আবার শ্বশুরবাড়িতে পাঠানো হয়।

শফিকুল ইসলাম জানান, শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যাওয়ার কয়েকদিনের মাথায় গত ৩ জুন তার মেয়ের মৃত্যুর খবর আসে। শ্বশুরবাড়ির লোকজন ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করলেও পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন অসঙ্গতি দেখতে পান বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তার দাবি, রিমুর মরদেহ সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় নয়, বরং খাটের ওপর শোয়ানো অবস্থায় দেখতে পান স্বজনরা। এছাড়া মরদেহের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব আলামত তাদের কাছে মৃত্যুর ঘটনাকে সন্দেহজনক করে তুলেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার প্রকৃত রহস্য আড়াল করার চেষ্টা চলছে এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি তদন্ত ও ময়নাতদন্ত কার্যক্রম নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।গৃহবধূ রিমুর মৃত্যু রহস্য উদঘাটনের দাবিতে

সংবাদ সম্মেলনে আবেগঘন বক্তব্যে শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে দোষারোপ করতে চাই না। একজন অসহায় বাবা হিসেবে আমার একমাত্র চাওয়া, আমার মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসুক। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন হোক এবং কেউ যদি দোষী হয়, তবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

তিনি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, মানবাধিকার সংগঠন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন রিমুর মা নার্গিস খাতুন, সবুজ হুসাইন, নাইমুর রহমান ও ইমরানসহ নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা।

উল্লেখ্য, রিমুর মৃত্যুর ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত এবং ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে পরিবার ও এলাকাবাসী।