Jashore , Friday, 23 October 2026
সর্বশেষ:
যশোরে ঢাক-কাঁসরের শব্দে প্রতিমা বিসর্জন রংপুর মেডিকেলে শর্টসার্কিট থেকে আগুন; আহত ৪০ হেফাজতে ইসলামের মধ্যস্থতায় ৭ কওমি দলের নতুন রাজনৈতিক জোট ‘সমমনা ইসলামি দল’ সৌদিতে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতার অভিযোগে সিপিবির বিক্ষোভ সাত দশকের ঐতিহ্যবাহী ‘জামাই মেলা’! কোটি টাকার মাছ কেনাবেচার উৎসব যশোরে সার ডিলার নিয়োগে চরম দলীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগ বিরোধী দলের ৫ এমপির অস্ত্র নিয়ে হামলা ও জমি দখলের হুমকি; যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন জামায়াত জুলাইকে ধারণ করে না, বিএনপির এমন অভিযোগ হাস্যকর: গোলাম পরওয়ার সরকার চায় ঐক্য, কিন্তু একটি মহল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি : প্রধানমন্ত্রী যশোরে চিহ্নিত চোর ও চাঁদাবাজ মনিরুল ইসলাম সাগর আটক

যশোরের মণিরামপুরে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের মণিরামপুরে তাসলিমা খাতুন ময়না (২৩) নামে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে পৌর শহরের মোহনপুর ওয়াবদা মোড় এলাকায় বাবার বাড়ির নির্মাণাধীন একটি ঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের মুখ ও কানে রক্তের দাগ থাকায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।

নিহত তাসলিমা খাতুন ময়না মোহনপুর এলাকার মৃত ইব্রাহিম গাজীর মেয়ে এবং উপজেলার মনোহরপুর কুমারঘাটা গ্রামের হেলাল উদ্দিনের স্ত্রী। প্রায় সাত থেকে আট বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। তাদের চার বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। পারিবারিক কলহের জেরে তিন থেকে চার দিন আগে ময়না বাবার বাড়িতে চলে আসেন। ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্বামী হেলাল উদ্দিন ও সৎবাবা রফিকুল ইসলামকে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ময়নার বাবার মৃত্যুর পর তার মা তাহেরা বেগম দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বর্তমান স্বামী রফিকুল ইসলাম ঘটনার রাতে বাড়িতেই ছিলেন। নিহতের বোন মারুফা জানান, হেলাল উদ্দিনের এটি তৃতীয় বিয়ে। এর আগে তিনি আরও দুটি বিয়ে করেছিলেন। প্রায়ই তিনি ময়নাকে নির্যাতন করতেন। চার থেকে পাঁচ দিন আগে হেলাল নিজেই ময়নাকে তার মায়ের বাড়িতে রেখে যান। শুক্রবার তাকে আবার শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল।

মারুফা জানান, রাতে তার মা ঘরের ভেতরে ঘুমিয়েছিলেন এবং ময়না বারান্দায় ঘুমাচ্ছিলেন। ভোরে নামাজ পড়তে উঠে তিনি দেখতে পান তার কক্ষের দরজা বাইরে থেকে আটকানো। ময়নাকে অনেক ডাকাডাকির পরও সাড়া না পেয়ে ছেলে সাইফুল্লাহকে খবর দেন। পরে দরজা খুলে দেখা যায় ময়না সেখানে নেই। কিছুক্ষণ পর ময়লা ফেলতে গিয়ে নির্মাণাধীন ঘরের ভেতরে ময়নাকে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন তার মা।

তিনি আরও জানান, সকালে ময়নার মৃত্যুর খবর দিতে হেলাল উদ্দিনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে অন্য মাধ্যমে খবর দেওয়ার পর সকাল ৯টার দিকে তিনি ঘটনাস্থলে আসেন।

মারুফার অভিযোগ, হেলাল উদ্দিন সম্প্রতি আরেকটি বিয়ে করেছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। নতুন স্ত্রীকে ঘরে তোলার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ময়নাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তাদের ধারণা, রাতে মোবাইল ফোনে ডেকে ময়নাকে ঘর থেকে বের করে নেওয়া হয়। যাতে তার মা বিষয়টি বুঝতে না পারেন, সেজন্য ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকানো হয়েছিল। পরে নির্মাণাধীন ঘরে নিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

তবে অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

মণিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বদরুজ্জামান বলেন, তাসলিমার মৃত্যু রহস্যজনক। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় তার স্বামী ও সৎবাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 05:38 pm, Thursday, 18 June 2026
56 Time View

যশোরের মণিরামপুরে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার

Update Time : 05:38 pm, Thursday, 18 June 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের মণিরামপুরে তাসলিমা খাতুন ময়না (২৩) নামে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে পৌর শহরের মোহনপুর ওয়াবদা মোড় এলাকায় বাবার বাড়ির নির্মাণাধীন একটি ঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের মুখ ও কানে রক্তের দাগ থাকায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।

নিহত তাসলিমা খাতুন ময়না মোহনপুর এলাকার মৃত ইব্রাহিম গাজীর মেয়ে এবং উপজেলার মনোহরপুর কুমারঘাটা গ্রামের হেলাল উদ্দিনের স্ত্রী। প্রায় সাত থেকে আট বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। তাদের চার বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। পারিবারিক কলহের জেরে তিন থেকে চার দিন আগে ময়না বাবার বাড়িতে চলে আসেন। ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্বামী হেলাল উদ্দিন ও সৎবাবা রফিকুল ইসলামকে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ময়নার বাবার মৃত্যুর পর তার মা তাহেরা বেগম দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বর্তমান স্বামী রফিকুল ইসলাম ঘটনার রাতে বাড়িতেই ছিলেন। নিহতের বোন মারুফা জানান, হেলাল উদ্দিনের এটি তৃতীয় বিয়ে। এর আগে তিনি আরও দুটি বিয়ে করেছিলেন। প্রায়ই তিনি ময়নাকে নির্যাতন করতেন। চার থেকে পাঁচ দিন আগে হেলাল নিজেই ময়নাকে তার মায়ের বাড়িতে রেখে যান। শুক্রবার তাকে আবার শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল।

মারুফা জানান, রাতে তার মা ঘরের ভেতরে ঘুমিয়েছিলেন এবং ময়না বারান্দায় ঘুমাচ্ছিলেন। ভোরে নামাজ পড়তে উঠে তিনি দেখতে পান তার কক্ষের দরজা বাইরে থেকে আটকানো। ময়নাকে অনেক ডাকাডাকির পরও সাড়া না পেয়ে ছেলে সাইফুল্লাহকে খবর দেন। পরে দরজা খুলে দেখা যায় ময়না সেখানে নেই। কিছুক্ষণ পর ময়লা ফেলতে গিয়ে নির্মাণাধীন ঘরের ভেতরে ময়নাকে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন তার মা।

তিনি আরও জানান, সকালে ময়নার মৃত্যুর খবর দিতে হেলাল উদ্দিনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে অন্য মাধ্যমে খবর দেওয়ার পর সকাল ৯টার দিকে তিনি ঘটনাস্থলে আসেন।

মারুফার অভিযোগ, হেলাল উদ্দিন সম্প্রতি আরেকটি বিয়ে করেছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। নতুন স্ত্রীকে ঘরে তোলার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ময়নাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তাদের ধারণা, রাতে মোবাইল ফোনে ডেকে ময়নাকে ঘর থেকে বের করে নেওয়া হয়। যাতে তার মা বিষয়টি বুঝতে না পারেন, সেজন্য ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকানো হয়েছিল। পরে নির্মাণাধীন ঘরে নিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

তবে অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

মণিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বদরুজ্জামান বলেন, তাসলিমার মৃত্যু রহস্যজনক। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় তার স্বামী ও সৎবাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।