Jashore , Sunday, 25 October 2026
সর্বশেষ:
৩১ অক্টোবরের লংমার্চ সফল করতে যশোরে এনসিপির লিফলেট বিতরণ চার দিনের সরকারি সফরে জাপানের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ মাস পর খুলছে সেন্টমার্টিন: পর্যটকদের জন্য নতুন নিয়ম ও শত টাকা ফি নির্ধারণ যশোরে অনুমতি ছাড়াই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছের ডাল কেটে বিক্রির অভিযোগ বেনাপোল সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মাদক ও ভারতীয় মালামাল আটক দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ন্যানো-ইউরিয়ার পেটেন্ট পেলেন যবিপ্রবির গবেষক ড. জাভেদ যশোরে কলিমুদ্দিন সরদার ট্রাস্টের উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাক্যাম্প অনুষ্ঠিত যশোরে মাদ্রাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে জমজ শিশুদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ টানা আট দিনের ছুটি শেষে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরে পুরোদমে আমদানি-রপ্তানি শুরু জাতিসংঘের অর্থবহ সংস্কারে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

ইন্দোনেশিয়াকে ‘ব্রহ্মোস’ ও ‘অ্যাস্ট্রা’ ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বহুমাত্রিক উৎক্ষেপণযোগ্য বিশ্বের দ্রুততম সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ‘ব্রহ্মোস’ এবং আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ‘অ্যাস্ট্রা’ ইন্দোনেশিয়াকে সরবরাহ করতে যাচ্ছে ভারত। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজধানী জাকার্তা সফরকালে দুই দেশের মধ্যে এই প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পন্ন হতে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন এক ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তা।

ভারতীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, প্রায় ৬৩ কোটি মার্কিন ডলারের (প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা) এই বিশাল প্রতিরক্ষা চুক্তিটি মোদির দুই দিনের ইন্দোনেশিয়া সফরেই সই হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এই চুক্তি সম্পন্ন হলে ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামের পর ইন্দোনেশিয়া হবে ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র কেনা তৃতীয় দেশ। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রেক্ষাপটে এই সামরিক সহযোগিতাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি ‘ব্রহ্মোস’ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। এটি স্থল, সমুদ্র ও আকাশ—তিনটি প্ল্যাটফর্ম থেকেই নিখুঁতভাবে উৎক্ষেপণ করা যায়। অন্যদিকে, ‘অ্যাস্ট্রা’ হলো দৃষ্টিসীমার বাইরে (বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ) লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ইন্দোনেশিয়ার বিমানবাহিনীর রুশ নির্মিত ‘সুখোই’ যুদ্ধবিমানে সহজেই সংযুক্ত করা সম্ভব।

এর আগে গত মার্চ মাসে ইন্দোনেশিয়া জানিয়েছিল, তারা ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনার বিষয়ে ভারতের সঙ্গে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে। তখন সম্ভাব্য চুক্তিটির মূল্য ২০ থেকে ৩৫ কোটি ডলারের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হলেও, চূড়ান্ত চুক্তিতে এর পরিধি ও মূল্য আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর পাকিস্তানের সঙ্গে ৪ দিনের সংঘাতে প্রথমবারের মতো যুদ্ধক্ষেত্রে ব্রহ্মোসের ব্যবহারের পর আন্তর্জাতিক বাজারে এই ক্ষেপণাস্ত্রটির চাহিদা ও আকর্ষণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ (ইউএই) আরও বেশ কয়েকটি দেশ এটি কেনার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

জাকার্তা সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন। বৈঠকে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা, আঞ্চলিক সংযোগ এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত সমন্বয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

ভারতীয় সূত্র জানিয়েছে, ব্রহ্মোস চুক্তির আওতায় ধাপে ধাপে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করা হবে। এর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ছাড়াও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ, ইন্দোনেশীয় অপারেটরদের প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ সেবা এবং দীর্ঘমেয়াদি কারিগরি সহায়তাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ২৮.১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া বর্তমানে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার।

এই সফরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফর ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতি, ইন্দো-প্যাসিফিকে অবাধ, উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অঞ্চল গড়ে তোলার অঙ্গীকার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 09:09 pm, Tuesday, 7 July 2026
70 Time View

ইন্দোনেশিয়াকে ‘ব্রহ্মোস’ ও ‘অ্যাস্ট্রা’ ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে ভারত

Update Time : 09:09 pm, Tuesday, 7 July 2026

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বহুমাত্রিক উৎক্ষেপণযোগ্য বিশ্বের দ্রুততম সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ‘ব্রহ্মোস’ এবং আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ‘অ্যাস্ট্রা’ ইন্দোনেশিয়াকে সরবরাহ করতে যাচ্ছে ভারত। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজধানী জাকার্তা সফরকালে দুই দেশের মধ্যে এই প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পন্ন হতে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন এক ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তা।

ভারতীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, প্রায় ৬৩ কোটি মার্কিন ডলারের (প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা) এই বিশাল প্রতিরক্ষা চুক্তিটি মোদির দুই দিনের ইন্দোনেশিয়া সফরেই সই হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এই চুক্তি সম্পন্ন হলে ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামের পর ইন্দোনেশিয়া হবে ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র কেনা তৃতীয় দেশ। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রেক্ষাপটে এই সামরিক সহযোগিতাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি ‘ব্রহ্মোস’ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। এটি স্থল, সমুদ্র ও আকাশ—তিনটি প্ল্যাটফর্ম থেকেই নিখুঁতভাবে উৎক্ষেপণ করা যায়। অন্যদিকে, ‘অ্যাস্ট্রা’ হলো দৃষ্টিসীমার বাইরে (বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ) লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ইন্দোনেশিয়ার বিমানবাহিনীর রুশ নির্মিত ‘সুখোই’ যুদ্ধবিমানে সহজেই সংযুক্ত করা সম্ভব।

এর আগে গত মার্চ মাসে ইন্দোনেশিয়া জানিয়েছিল, তারা ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনার বিষয়ে ভারতের সঙ্গে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে। তখন সম্ভাব্য চুক্তিটির মূল্য ২০ থেকে ৩৫ কোটি ডলারের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হলেও, চূড়ান্ত চুক্তিতে এর পরিধি ও মূল্য আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর পাকিস্তানের সঙ্গে ৪ দিনের সংঘাতে প্রথমবারের মতো যুদ্ধক্ষেত্রে ব্রহ্মোসের ব্যবহারের পর আন্তর্জাতিক বাজারে এই ক্ষেপণাস্ত্রটির চাহিদা ও আকর্ষণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ (ইউএই) আরও বেশ কয়েকটি দেশ এটি কেনার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

জাকার্তা সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন। বৈঠকে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা, আঞ্চলিক সংযোগ এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত সমন্বয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

ভারতীয় সূত্র জানিয়েছে, ব্রহ্মোস চুক্তির আওতায় ধাপে ধাপে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করা হবে। এর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ছাড়াও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ, ইন্দোনেশীয় অপারেটরদের প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ সেবা এবং দীর্ঘমেয়াদি কারিগরি সহায়তাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ২৮.১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া বর্তমানে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার।

এই সফরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফর ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতি, ইন্দো-প্যাসিফিকে অবাধ, উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অঞ্চল গড়ে তোলার অঙ্গীকার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে।