Jashore , Friday, 23 October 2026
সর্বশেষ:
যশোরে ঢাক-কাঁসরের শব্দে প্রতিমা বিসর্জন রংপুর মেডিকেলে শর্টসার্কিট থেকে আগুন; আহত ৪০ হেফাজতে ইসলামের মধ্যস্থতায় ৭ কওমি দলের নতুন রাজনৈতিক জোট ‘সমমনা ইসলামি দল’ সৌদিতে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতার অভিযোগে সিপিবির বিক্ষোভ সাত দশকের ঐতিহ্যবাহী ‘জামাই মেলা’! কোটি টাকার মাছ কেনাবেচার উৎসব যশোরে সার ডিলার নিয়োগে চরম দলীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগ বিরোধী দলের ৫ এমপির অস্ত্র নিয়ে হামলা ও জমি দখলের হুমকি; যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন জামায়াত জুলাইকে ধারণ করে না, বিএনপির এমন অভিযোগ হাস্যকর: গোলাম পরওয়ার সরকার চায় ঐক্য, কিন্তু একটি মহল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি : প্রধানমন্ত্রী যশোরে চিহ্নিত চোর ও চাঁদাবাজ মনিরুল ইসলাম সাগর আটক

চরফ্যাশনে পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলা-সংঘর্ষ: অজ্ঞাত ১০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
ভোলার চরফ্যাশনে এইচএসসি পরীক্ষায় নকল করতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র ভাঙচুর, হামলা ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ১০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষকসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

গত শনিবার (১১ জুলাই) রাতে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মো. মহিউদ্দিন বাদী হয়ে চরফ্যাশন থানায় এই মামলাটি করেন।

আজ রবিবার (১২ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করে সহকারী পুলিশ সুপার (চরফ্যাশন সার্কেল) মো. মেহেদী হাসান বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় শতাধিক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে, তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে চরফ্যাশন সরকারি কলেজের ৮৮৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। শনিবার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পরীক্ষা চলাকালে একটি কক্ষের পরীক্ষার্থীরা প্রশ্ন কমন পড়েনি বলে দাবি করেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, এমসিকিউ পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর কয়েকজন পরীক্ষার্থী অসদুপায় (নকল) অবলম্বনের চেষ্টা করলে দায়িত্বরত শিক্ষকরা বাধা দেন। এতে পরীক্ষার্থীরা নকলের সুযোগ দেওয়ার দাবি তুলে শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

পরবর্তীতে পরীক্ষা শেষে দুপুর ১টার দিকে একদল পরীক্ষার্থী ও বহিরাগত যুবক কলেজের পকেট গেট ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় পরীক্ষার উত্তরপত্র (খাতা) ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

হামলাকারীদের ইটপাটকেলের আঘাতে পরীক্ষা কক্ষে দায়িত্ব পালনকারী সাত শিক্ষক এবং কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা লাঠিচার্জ করেন এবং দুই রাউন্ড টিয়ারশেল (কাঁদানে গ্যাস) নিক্ষেপ করেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকে পরীক্ষা কেন্দ্র ও সংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মামলার তদন্ত ও জড়িতদের শনাক্তের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 03:04 pm, Monday, 13 July 2026
68 Time View

চরফ্যাশনে পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলা-সংঘর্ষ: অজ্ঞাত ১০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

Update Time : 03:04 pm, Monday, 13 July 2026

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
ভোলার চরফ্যাশনে এইচএসসি পরীক্ষায় নকল করতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র ভাঙচুর, হামলা ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ১০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষকসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

গত শনিবার (১১ জুলাই) রাতে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মো. মহিউদ্দিন বাদী হয়ে চরফ্যাশন থানায় এই মামলাটি করেন।

আজ রবিবার (১২ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করে সহকারী পুলিশ সুপার (চরফ্যাশন সার্কেল) মো. মেহেদী হাসান বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় শতাধিক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে, তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে চরফ্যাশন সরকারি কলেজের ৮৮৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। শনিবার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পরীক্ষা চলাকালে একটি কক্ষের পরীক্ষার্থীরা প্রশ্ন কমন পড়েনি বলে দাবি করেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, এমসিকিউ পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর কয়েকজন পরীক্ষার্থী অসদুপায় (নকল) অবলম্বনের চেষ্টা করলে দায়িত্বরত শিক্ষকরা বাধা দেন। এতে পরীক্ষার্থীরা নকলের সুযোগ দেওয়ার দাবি তুলে শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

পরবর্তীতে পরীক্ষা শেষে দুপুর ১টার দিকে একদল পরীক্ষার্থী ও বহিরাগত যুবক কলেজের পকেট গেট ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় পরীক্ষার উত্তরপত্র (খাতা) ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

হামলাকারীদের ইটপাটকেলের আঘাতে পরীক্ষা কক্ষে দায়িত্ব পালনকারী সাত শিক্ষক এবং কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা লাঠিচার্জ করেন এবং দুই রাউন্ড টিয়ারশেল (কাঁদানে গ্যাস) নিক্ষেপ করেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকে পরীক্ষা কেন্দ্র ও সংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মামলার তদন্ত ও জড়িতদের শনাক্তের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।