Jashore , Sunday, 25 October 2026
সর্বশেষ:
৩১ অক্টোবরের লংমার্চ সফল করতে যশোরে এনসিপির লিফলেট বিতরণ চার দিনের সরকারি সফরে জাপানের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ মাস পর খুলছে সেন্টমার্টিন: পর্যটকদের জন্য নতুন নিয়ম ও শত টাকা ফি নির্ধারণ যশোরে অনুমতি ছাড়াই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছের ডাল কেটে বিক্রির অভিযোগ বেনাপোল সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মাদক ও ভারতীয় মালামাল আটক দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ন্যানো-ইউরিয়ার পেটেন্ট পেলেন যবিপ্রবির গবেষক ড. জাভেদ যশোরে কলিমুদ্দিন সরদার ট্রাস্টের উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাক্যাম্প অনুষ্ঠিত যশোরে মাদ্রাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে জমজ শিশুদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ টানা আট দিনের ছুটি শেষে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরে পুরোদমে আমদানি-রপ্তানি শুরু জাতিসংঘের অর্থবহ সংস্কারে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

ইসরায়েলে আরও মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান পাঠানোর ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার প্রস্তুতি হিসেবে ইসরায়েলে আরও কয়েক ডজন রিফুয়েলিং (আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী) বিমান পাঠানোর কথা জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তিনজন কর্মকর্তার বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বেশ কয়েকটি নতুন সামরিক পরিকল্পনা উপস্থাপনের পর, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর একটি বড় ধরনের হামলার কথা বিবেচনা করছেন। এই হামলার পরিধি হরমুজ প্রণালির চারপাশে চলমান বর্তমান সংঘাতের চেয়েও অনেক বড় হতে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসনের বিবেচনাধীন বিকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোতে বোমাবর্ষণ করা, দেশটির পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো এবং ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামের একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় বোমাবর্ষণ করা, যা একটি নির্মাণাধীন পারমাণবিক স্থাপনা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি, তবে তিনি ইরান সরকারকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে এবং মার্কিন পারমাণবিক শর্তাবলি মেনে নিতে বাধ্য করার জন্য বড় ধরনের ক্ষতিসাধন করতে প্রস্তুত। কর্মকর্তাদের মতে, আগামী দিনগুলোতে ট্রাম্প এই হামলার নির্দেশ দিতে পারেন।

গত শুক্রবার মার্কিন সামরিক বাহিনী টানা ষষ্ঠ দিনের মতো হরমুজ প্রণালি এবং ইরানের দক্ষিণ উপকূলে ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা বন্দর আব্বাস শহরের চারপাশের অন্তত সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে বোমাবর্ষণ করেছেন, যা আইআরজিসি-এর রসদ ও সেনা সরবরাহের মূল কেন্দ্র। এর জবাবে ইরানও জর্ডান, কাতার, বাহরাইন, ইরাক এবং কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা জোরদার করেছে। এমনকি সিরিয়ায় কয়েক মাস আগে খালি করা একটি মার্কিন ঘাঁটিতেও আইআরজিসি হামলা চালানোর দাবি করেছে।

বর্তমানে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩০টি এবং দক্ষিণ ইসরায়েলের রামন বিমানবন্দরে সমসংখ্যক সামরিক রিফুয়েলিং বিমান অবস্থান করছে। যুক্তরাষ্ট্র এই সংখ্যা আরও বাড়িয়ে যুদ্ধের শুরুর দিকের পর্যায়ে নিয়ে যেতে চায়। মার্কিন সামরিক বাহিনী বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর ব্যবহার করতে বেশি আগ্রহী, কারণ অঞ্চলের অন্য ঘাঁটিগুলো ইরানি হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে।

তবে এই রিফুয়েলিং বিমানগুলোর উপস্থিতি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। গ্রীষ্মকালীন ছুটির কারণে বিমানবন্দর উন্মুক্ত হওয়ায় অতিরিক্ত সামরিক বিমানের কারণে গণহারে বাণিজ্যিক ফ্লাইট বাতিল হতে পারে, যা আসন্ন নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর জোট সরকারের জন্য রাজনৈতিক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। ইসরায়েলের পরিবহনমন্ত্রী মিরি রেজেভ এই বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়ার বা সংখ্যা সীমিত করার পক্ষে চাপ দিলেও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও আইডিএফ এর বিরোধিতা করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই অতিরিক্ত বিমান মোতায়েনের অনুরোধের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

এদিকে, মঙ্গলবার এক বক্তৃতায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আপনারা যদি আমাদের ওপর হামলা চালান, তবে পরিস্থিতি শান্ত থাকবে বলে আশা করবেন না। এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং অনেক বেশি শক্তিশালী ঘটনা ঘটবে।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 02:16 pm, Saturday, 18 July 2026
76 Time View

ইসরায়েলে আরও মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান পাঠানোর ঘোষণা

Update Time : 02:16 pm, Saturday, 18 July 2026

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার প্রস্তুতি হিসেবে ইসরায়েলে আরও কয়েক ডজন রিফুয়েলিং (আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী) বিমান পাঠানোর কথা জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তিনজন কর্মকর্তার বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বেশ কয়েকটি নতুন সামরিক পরিকল্পনা উপস্থাপনের পর, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর একটি বড় ধরনের হামলার কথা বিবেচনা করছেন। এই হামলার পরিধি হরমুজ প্রণালির চারপাশে চলমান বর্তমান সংঘাতের চেয়েও অনেক বড় হতে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসনের বিবেচনাধীন বিকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোতে বোমাবর্ষণ করা, দেশটির পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো এবং ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামের একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় বোমাবর্ষণ করা, যা একটি নির্মাণাধীন পারমাণবিক স্থাপনা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি, তবে তিনি ইরান সরকারকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে এবং মার্কিন পারমাণবিক শর্তাবলি মেনে নিতে বাধ্য করার জন্য বড় ধরনের ক্ষতিসাধন করতে প্রস্তুত। কর্মকর্তাদের মতে, আগামী দিনগুলোতে ট্রাম্প এই হামলার নির্দেশ দিতে পারেন।

গত শুক্রবার মার্কিন সামরিক বাহিনী টানা ষষ্ঠ দিনের মতো হরমুজ প্রণালি এবং ইরানের দক্ষিণ উপকূলে ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা বন্দর আব্বাস শহরের চারপাশের অন্তত সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে বোমাবর্ষণ করেছেন, যা আইআরজিসি-এর রসদ ও সেনা সরবরাহের মূল কেন্দ্র। এর জবাবে ইরানও জর্ডান, কাতার, বাহরাইন, ইরাক এবং কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা জোরদার করেছে। এমনকি সিরিয়ায় কয়েক মাস আগে খালি করা একটি মার্কিন ঘাঁটিতেও আইআরজিসি হামলা চালানোর দাবি করেছে।

বর্তমানে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩০টি এবং দক্ষিণ ইসরায়েলের রামন বিমানবন্দরে সমসংখ্যক সামরিক রিফুয়েলিং বিমান অবস্থান করছে। যুক্তরাষ্ট্র এই সংখ্যা আরও বাড়িয়ে যুদ্ধের শুরুর দিকের পর্যায়ে নিয়ে যেতে চায়। মার্কিন সামরিক বাহিনী বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর ব্যবহার করতে বেশি আগ্রহী, কারণ অঞ্চলের অন্য ঘাঁটিগুলো ইরানি হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে।

তবে এই রিফুয়েলিং বিমানগুলোর উপস্থিতি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। গ্রীষ্মকালীন ছুটির কারণে বিমানবন্দর উন্মুক্ত হওয়ায় অতিরিক্ত সামরিক বিমানের কারণে গণহারে বাণিজ্যিক ফ্লাইট বাতিল হতে পারে, যা আসন্ন নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর জোট সরকারের জন্য রাজনৈতিক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। ইসরায়েলের পরিবহনমন্ত্রী মিরি রেজেভ এই বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়ার বা সংখ্যা সীমিত করার পক্ষে চাপ দিলেও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও আইডিএফ এর বিরোধিতা করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই অতিরিক্ত বিমান মোতায়েনের অনুরোধের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

এদিকে, মঙ্গলবার এক বক্তৃতায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আপনারা যদি আমাদের ওপর হামলা চালান, তবে পরিস্থিতি শান্ত থাকবে বলে আশা করবেন না। এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং অনেক বেশি শক্তিশালী ঘটনা ঘটবে।