Jashore , Thursday, 22 October 2026
সর্বশেষ:
যশোরে ঢাক-কাঁসরের শব্দে প্রতিমা বিসর্জন রংপুর মেডিকেলে শর্টসার্কিট থেকে আগুন; আহত ৪০ হেফাজতে ইসলামের মধ্যস্থতায় ৭ কওমি দলের নতুন রাজনৈতিক জোট ‘সমমনা ইসলামি দল’ সৌদিতে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতার অভিযোগে সিপিবির বিক্ষোভ সাত দশকের ঐতিহ্যবাহী ‘জামাই মেলা’! কোটি টাকার মাছ কেনাবেচার উৎসব যশোরে সার ডিলার নিয়োগে চরম দলীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগ বিরোধী দলের ৫ এমপির অস্ত্র নিয়ে হামলা ও জমি দখলের হুমকি; যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন জামায়াত জুলাইকে ধারণ করে না, বিএনপির এমন অভিযোগ হাস্যকর: গোলাম পরওয়ার সরকার চায় ঐক্য, কিন্তু একটি মহল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি : প্রধানমন্ত্রী যশোরে চিহ্নিত চোর ও চাঁদাবাজ মনিরুল ইসলাম সাগর আটক

ভবদহে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা: ৩ আগস্ট অবস্থান কর্মসূচির আল্টিমেটাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
ভবদহ অঞ্চলের স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন এবং দুর্গত এলাকার মানুষের মানবিক বিপর্যয় থেকে উদ্ধারের দাবিতে পানিসম্পদ মন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি। রোববার দুপুর দেড়টার দিকে যশোরের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি পেশ করা হয়। জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার।

স্মারকলিপি প্রদান শেষে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সংগ্রাম কমিটির নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জমা পানি অপসারণে দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আগামী ৩ আগস্ট জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।

পানিসম্পদ মন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে প্রেরিত স্মারকলিপিতে সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব চৈতন্য কুমার পাল উল্লেখ করেন, যশোরের মণিরামপুর, কেশবপুর, অভয়নগর এবং খুলনার ফুলতলা ও ডুমুরিয়া উপজেলার শতাধিক গ্রাম ইতোমধ্যে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানির উচ্চতা ও প্লাবনভূমি প্রতিদিনই বাড়ছে। বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তলিয়ে যাওয়ায় মানুষ গবাদিপশু নিয়ে রাস্তায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে।

সংগ্রাম কমিটির পক্ষে স্মারকলিপিতে মূল ৪টি দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, দীর্ঘ দুই বছর ধরে আটকে থাকা অভয়নগরের আমডাঙ্গা খালের সংস্কার কাজ দ্রুত শেষ করা এবং দীর্ঘসূত্রতার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা। ডুমুরিয়ার খর্ণিয়া দক্ষিণ পাশের আঁড় বাঁধসহ সব বাঁধ অপসারণ এবং খর্ণিয়া থেকে কুলবাড়িয়া পর্যন্ত নদীর ৭ কিলোমিটার অংশে জমা পলি দ্রুত অপসারণ করা। নদী খননের পাশাপাশি বিলে বিলে পর্যায়ক্রমে টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) দ্রুত বাস্তবায়ন করা ও পানিবন্দী মানুষের জন্য জরুরি খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসার সুব্যবস্থা করা।

সংগ্রাম কমিটির নেতারা অভিযোগ করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দায়িত্বহীনতা ও আমডাঙ্গা খাল সংস্কারে দীর্ঘসূত্রতার কারণেই আজ শত শত গ্রামের মানুষ জলজটে হাবুডুবু খাচ্ছে। অবিলম্বে নদী খনন ও টিআরএম কার্যক্রম একসাথে চালু না করলে সরকারি বরাদ্দের ১৪০ কোটি টাকা জলে যাবে বলে তারা সতর্ক করেন।

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন, ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ, উপদেষ্টা তসলিম-উর-রহমান, সদস্য সচিব চৈতন্য কুমার পাল, সদস্য জিল্লুর রহমান ভিটু, অনিল বিশ্বাস, শেখর রায়, মাসুদ শেখ, সাধন বিশ্বাস, বিকাশ চন্দ্র মল্লিক ও রাজু আহমেদসহ আঞ্চলিক নেতৃবৃন্দ।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 07:45 pm, Sunday, 26 July 2026
73 Time View

ভবদহে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা: ৩ আগস্ট অবস্থান কর্মসূচির আল্টিমেটাম

Update Time : 07:45 pm, Sunday, 26 July 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক
ভবদহ অঞ্চলের স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন এবং দুর্গত এলাকার মানুষের মানবিক বিপর্যয় থেকে উদ্ধারের দাবিতে পানিসম্পদ মন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি। রোববার দুপুর দেড়টার দিকে যশোরের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি পেশ করা হয়। জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার।

স্মারকলিপি প্রদান শেষে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সংগ্রাম কমিটির নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জমা পানি অপসারণে দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আগামী ৩ আগস্ট জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।

পানিসম্পদ মন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে প্রেরিত স্মারকলিপিতে সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব চৈতন্য কুমার পাল উল্লেখ করেন, যশোরের মণিরামপুর, কেশবপুর, অভয়নগর এবং খুলনার ফুলতলা ও ডুমুরিয়া উপজেলার শতাধিক গ্রাম ইতোমধ্যে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানির উচ্চতা ও প্লাবনভূমি প্রতিদিনই বাড়ছে। বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তলিয়ে যাওয়ায় মানুষ গবাদিপশু নিয়ে রাস্তায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে।

সংগ্রাম কমিটির পক্ষে স্মারকলিপিতে মূল ৪টি দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, দীর্ঘ দুই বছর ধরে আটকে থাকা অভয়নগরের আমডাঙ্গা খালের সংস্কার কাজ দ্রুত শেষ করা এবং দীর্ঘসূত্রতার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা। ডুমুরিয়ার খর্ণিয়া দক্ষিণ পাশের আঁড় বাঁধসহ সব বাঁধ অপসারণ এবং খর্ণিয়া থেকে কুলবাড়িয়া পর্যন্ত নদীর ৭ কিলোমিটার অংশে জমা পলি দ্রুত অপসারণ করা। নদী খননের পাশাপাশি বিলে বিলে পর্যায়ক্রমে টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) দ্রুত বাস্তবায়ন করা ও পানিবন্দী মানুষের জন্য জরুরি খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসার সুব্যবস্থা করা।

সংগ্রাম কমিটির নেতারা অভিযোগ করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দায়িত্বহীনতা ও আমডাঙ্গা খাল সংস্কারে দীর্ঘসূত্রতার কারণেই আজ শত শত গ্রামের মানুষ জলজটে হাবুডুবু খাচ্ছে। অবিলম্বে নদী খনন ও টিআরএম কার্যক্রম একসাথে চালু না করলে সরকারি বরাদ্দের ১৪০ কোটি টাকা জলে যাবে বলে তারা সতর্ক করেন।

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন, ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ, উপদেষ্টা তসলিম-উর-রহমান, সদস্য সচিব চৈতন্য কুমার পাল, সদস্য জিল্লুর রহমান ভিটু, অনিল বিশ্বাস, শেখর রায়, মাসুদ শেখ, সাধন বিশ্বাস, বিকাশ চন্দ্র মল্লিক ও রাজু আহমেদসহ আঞ্চলিক নেতৃবৃন্দ।