শার্শায় এসিল্যান্ড ও ভূমি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের শার্শা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়াজ মাখদুম এবং স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরকারি জমি ও জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা নিয়ে আদালতে ‘মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ প্রতিবেদন দাখিলের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বেনাপোলের ভবেরবেড় গ্রামের সাইফুল ইসলাম লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করে, বেনাপোল পৌরসভার ৮৮ নম্বর ভবেরবেড় মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের সিএস ও এসএ ২৮২ নম্বর দাগের ৫১ শতক সরকারি জমিতে স্থানীয়দের চলাচলের দীর্ঘদিনের পথ রয়েছে। বর্তমানে উক্ত জমি স্থানীয় মাসুম নামে এক ব্যক্তি অবৈধভাবে দখলে রেখেছেন। এ নিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করা হলে শার্শার সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযোগ করা হয়, শার্শার এসিল্যান্ড ও ভূমি কার্যালয়ের অসাধু কর্মকর্তারা অবৈধ দখলদার মাসুমের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সত্য গোপন করে আদালতে একটি মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিল করেছেন, যার ফলে ভুক্তভোগীরা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, স্থানীয় বেনাপোল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা ও অফিস সহায়কের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেও কোনো সুফল মেলেনি। এমনকি অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে পথ অবমুক্ত করতে যশোরের জেলা প্রশাসকের দেওয়া নির্দেশনা বাস্তবায়নেও এসিল্যান্ডের চরম অসহযোগিতা লক্ষ করা গেছে। ফলে ওই এলাকার ৯টি পরিবারের প্রায় ৪০ জন সদস্য চলাচলের পথ হারিয়ে বর্তমানে অবরুদ্ধ অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
উল্লেখ্য, এর আগে গত মার্চে রাস্তা অবমুক্ত করা এবং হামলার বিচার চেয়ে ভুক্তভোগীরা সংবাদ সম্মেলন ও আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে দাখিল করা এসিল্যান্ডের প্রতিবেদনে পূর্ববর্তী নায়েবের প্রতিবেদনের সাথে স্পষ্ট অসংগতি পাওয়া গেছে এবং জনগণের চলাচলের অধিকারের বিষয়টি সুকৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
পরিস্থিতি নিরসনে অবরুদ্ধ পরিবারের সদস্যরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সিএস ও এসএ ম্যাপ অনুযায়ী সরকারি জমির প্রকৃত অবস্থান উন্মোচন এবং রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করতে জেলা প্রশাসকের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শার্শা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়াজ মাখদুমকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আব্দুর রাজ্জাক, মর্জিনা বেগম ও শাহানাজ খাতুন।

























