মাদক নিয়ন্ত্রণ ও যানজট নিরসনে যশোর জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির কঠোর সিদ্ধান্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর শহরকে পুরোপুরি যানজটমুক্ত করা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নে একগুচ্ছ কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটি। সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে পৌরসভা, ট্রাফিক বিভাগ ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্ট সদস্যদের সাথে নিয়ে আগামী সাত দিনের মধ্যে যানজট নিরসনে মাঠপর্যায়ে সমন্বিত অভিযানে নামছে। এছাড়া আগামী ১ তারিখ থেকে পৌরসভার অনুমোদন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া যশোর শহরে কোনো ইজিবাইক, ভ্যান বা রিকশা চলাচল করতে দেওয়া হবে না।
রোববার (০৯ আগস্ট) সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান।
সভার শুরুতেই গত জুলাই মাসের অপরাধচিত্র ও কার্যবিবরণী উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কমলেশ মজুমদার। তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, জেলায় পূর্বে তুলনায় ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদকের ঘটনা কিছুটা বাড়লেও সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক। তবে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ও সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান বৃদ্ধি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন কমিটির সদস্যরা।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, যশোরকে পূর্ণাঙ্গভাবে মাদকমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় সব কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ কাজে সর্বস্তরের নাগরিকদের সহযোগী হিসেবে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি জানান, কিশোর গ্যাং, ইভটিজিং ও মাদক নিয়ন্ত্রণে গত তিন মাস ধরে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। কেবল গত এক মাসেই ২০৪ জনকে বিভিন্ন অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক আরও নির্দেশ দেন, ভৈরব নদের পাড়ে অবস্থিত ৬৪টি বেসরকারি হাসপাতালের পরিবেশ অধিদপ্তরের নীতিমালা অনুযায়ী ইটিপি ও ডব্লিউটিপি আছে কি না তা কঠোরভাবে খতিয়ে দেখে লাইসেন্স দিতে হবে। পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে তাদের লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়া দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত করার নির্দেশ দেন তিনি।
পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম জানান, যশোর শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সুসংহত করতে পুলিশ সদস্যের সংখ্যা বাড়ানো হবে এবং রাস্তার দুই পাশের অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান আরও জোরদার করা হবে। এ সময় তিনি নাগরিকদের আইন মেনে চলার মানসিকতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (ডিডিএলজি) সৈয়দ রফিকুল হাসান জানান, শহরের যানজট নিরসনের পাশাপাশি কিশোর গ্যাং রোধ, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও পৌর পার্কের সার্বিক নিরাপত্তা বাড়াতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
সভায় সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিজিবি ও পুলিশের যৌথ অভিযান অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে এনএসআই-এর যুগ্ম পরিচালক আবুতাহের মোহাম্মদ পারভেজ, সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা, জেলা পাবলিক প্রসেকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, জেলা পরিষদ প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হোসেন সাফায়াত, জেলা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খান এবং ৪৯ ও ২১ বিজিবির ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাপনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আইন সবার জন্য সমান। শহরকে সুন্দর, নিরাপদ ও পরিকল্পিত করতে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে।

























