Jashore , Friday, 23 October 2026
সর্বশেষ:
যশোরে ঢাক-কাঁসরের শব্দে প্রতিমা বিসর্জন রংপুর মেডিকেলে শর্টসার্কিট থেকে আগুন; আহত ৪০ হেফাজতে ইসলামের মধ্যস্থতায় ৭ কওমি দলের নতুন রাজনৈতিক জোট ‘সমমনা ইসলামি দল’ সৌদিতে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতার অভিযোগে সিপিবির বিক্ষোভ সাত দশকের ঐতিহ্যবাহী ‘জামাই মেলা’! কোটি টাকার মাছ কেনাবেচার উৎসব যশোরে সার ডিলার নিয়োগে চরম দলীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগ বিরোধী দলের ৫ এমপির অস্ত্র নিয়ে হামলা ও জমি দখলের হুমকি; যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন জামায়াত জুলাইকে ধারণ করে না, বিএনপির এমন অভিযোগ হাস্যকর: গোলাম পরওয়ার সরকার চায় ঐক্য, কিন্তু একটি মহল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি : প্রধানমন্ত্রী যশোরে চিহ্নিত চোর ও চাঁদাবাজ মনিরুল ইসলাম সাগর আটক

যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিবের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজের এক শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে অভিযুক্ত সচিবের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ এবং বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে এমএম কলেজ ক্যাম্পাসের ‘চেতনায় চিরঞ্জীব’ ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় সেখানে সমাবেশ মিলিত হয়। উক্ত কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে যশোর জেলা ছাত্রদল ও এমএম কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন।

শিক্ষার্থীদের দেওয়া স্মারকলিপি ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এমএম কলেজের ইতিহাস বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের (২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষ) নিয়মিত শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান সেজান গত ১৬ আগস্ট সার্টিফিকেটে বাবা-মায়ের নাম সংশোধনের কাজে যশোর শিক্ষা বোর্ডে যান। সচিবের কক্ষে প্রবেশের পর উপস্থিত এক শিক্ষক তাকে বসতে বললে তিনি বসেন। তবে তার গলায় থাকা নেকব্যান্ড দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে বোর্ড সচিব প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিন তার শার্টের কলার চেপে ধরে পরপর চার-পাঁচটি থাপ্পড় মারেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান সেজান বলেন, আমি শুধু সার্টিফিকেট সংশোধনের প্রশাসনিক কাজের জন্য গিয়েছিলাম। কোনো অপরাধ না করেও আমাকে অন্যায়ভাবে অপমান ও মারধরের শিকার হতে হয়েছে। স্যারকে প্রতিবাদ জানিয়ে বললে তিনি বলেন, ‘মেরেছি, তাতে কী হয়েছে?’ আমি এই অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার চাই।

সমাবেশে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, একজন শিক্ষার্থী প্রশাসনিক সেবা নিতে গিয়ে যদি শিক্ষা বোর্ডের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার হাতে শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হন, তবে তা শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও লজ্জাজনক।

সমাবেশে উপস্থিত জেলা ও কলেজ ছাত্রদলের নেতারা বলেন, একজন পদস্থ সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন বেআইনি আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযুক্ত সচিবকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। এতে তারা উল্লেখ করেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংবেদনশীল ও মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রশাসনিক প্রতিশ্রুতি থাকলেও সচিবের এমন কান্ড শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। স্মারকলিপিতে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিনকে অবিলম্বে অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 08:26 pm, Monday, 17 August 2026
65 Time View

যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিবের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি

Update Time : 08:26 pm, Monday, 17 August 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজের এক শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে অভিযুক্ত সচিবের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ এবং বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে এমএম কলেজ ক্যাম্পাসের ‘চেতনায় চিরঞ্জীব’ ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় সেখানে সমাবেশ মিলিত হয়। উক্ত কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে যশোর জেলা ছাত্রদল ও এমএম কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন।

শিক্ষার্থীদের দেওয়া স্মারকলিপি ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এমএম কলেজের ইতিহাস বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের (২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষ) নিয়মিত শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান সেজান গত ১৬ আগস্ট সার্টিফিকেটে বাবা-মায়ের নাম সংশোধনের কাজে যশোর শিক্ষা বোর্ডে যান। সচিবের কক্ষে প্রবেশের পর উপস্থিত এক শিক্ষক তাকে বসতে বললে তিনি বসেন। তবে তার গলায় থাকা নেকব্যান্ড দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে বোর্ড সচিব প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিন তার শার্টের কলার চেপে ধরে পরপর চার-পাঁচটি থাপ্পড় মারেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান সেজান বলেন, আমি শুধু সার্টিফিকেট সংশোধনের প্রশাসনিক কাজের জন্য গিয়েছিলাম। কোনো অপরাধ না করেও আমাকে অন্যায়ভাবে অপমান ও মারধরের শিকার হতে হয়েছে। স্যারকে প্রতিবাদ জানিয়ে বললে তিনি বলেন, ‘মেরেছি, তাতে কী হয়েছে?’ আমি এই অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার চাই।

সমাবেশে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, একজন শিক্ষার্থী প্রশাসনিক সেবা নিতে গিয়ে যদি শিক্ষা বোর্ডের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার হাতে শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হন, তবে তা শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও লজ্জাজনক।

সমাবেশে উপস্থিত জেলা ও কলেজ ছাত্রদলের নেতারা বলেন, একজন পদস্থ সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন বেআইনি আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযুক্ত সচিবকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। এতে তারা উল্লেখ করেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংবেদনশীল ও মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রশাসনিক প্রতিশ্রুতি থাকলেও সচিবের এমন কান্ড শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। স্মারকলিপিতে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিনকে অবিলম্বে অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক শাস্তির দাবি জানানো হয়।