Jashore , Friday, 23 October 2026
সর্বশেষ:
জাতীয় নাগরিক পার্টির পুনর্গঠিত কমিটির আহ্বায়ক নাহিদ, সদস্যসচিব আখতার মণিরামপুরে পাঁচ শহীদ বিপ্লবীর ৫৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত যশোর জেনারেল হাসপাতালে ৪০ লাখ টাকার চিকিৎসাসামগ্রী বিতরণ বিশ্ব পোলিও দিবস উপলক্ষে যশোরে রোটারির সচেতনতামূলক র‍্যালি কাল যশোরে ঢাক-কাঁসরের শব্দে প্রতিমা বিসর্জন রংপুর মেডিকেলে শর্টসার্কিট থেকে আগুন; আহত ৪০ হেফাজতে ইসলামের মধ্যস্থতায় ৭ কওমি দলের নতুন রাজনৈতিক জোট ‘সমমনা ইসলামি দল’ সৌদিতে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতার অভিযোগে সিপিবির বিক্ষোভ সাত দশকের ঐতিহ্যবাহী ‘জামাই মেলা’! কোটি টাকার মাছ কেনাবেচার উৎসব যশোরে সার ডিলার নিয়োগে চরম দলীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগ বিরোধী দলের ৫ এমপির

ফুলবাড়ী দিবসে যশোরে শহীদ মিনারে বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের শ্রদ্ধা ও সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফুলবাড়ী দিবস উপলক্ষে বুধবার সকালে যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এম এম) কলেজ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুলবাড়ীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ, যশোর জেলা শাখা। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

পরবর্তীতে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, ফুলবাড়ীর রক্ত এবং ত্যাগ শুধু কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের নয়, তা পুরো দেশের জাতীয় সম্পদ রক্ষার লড়াইয়ের প্রতীক।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড ইকবাল কবির জাহিদ তৎকালীন ও বর্তমান সরকারের কয়লা উত্তোলন নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের আমলে প্রথম উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের চুক্তি করা হয় এবং ১৩৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারও সেই চুক্তি নবায়ন করে। পরবর্তীতে বিএনপি সরকার এশিয়া এনার্জির সাথে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের জন্য নতুন করে চুক্তি স্বাক্ষর করে। এর প্রতিবাদে আজকের এই দিনে ফুলবাড়ীর বিক্ষুব্ধ জনগণ এশিয়া এনার্জির কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করে।

তৎকালীন ট্র্যাজেডির ইতিহাস তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, সেই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে তৎকালীন বিডিআর অতর্কিতভাবে হামলা ও গুলি বর্ষণ করে। গুলিতে আল-আমিন, সালেকিন ও তরিকুল নির্মমভাবে নিহত হন এবং দশ হাজারের অধিক মানুষ আহত হন। আজও কয়েক হাজার মানুষ সেই হামলার কারণে পঙ্গুত্ব বরণ করে দিন কাটাচ্ছেন। আল-আমিন, সালেকিন ও তরিকুলের রক্তের ওপর দিয়েই ফুলবাড়ীর ঐতিহাসিক বিজয় অর্জিত হয়েছিল।

বর্তমান সরকারের নীতির কঠোর সমালোচনা করে কমরেড তসলিম উর রহমান হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বর্তমান সরকার অতীত থেকে কোনো শিক্ষা না নিয়ে নতুন করে আবার উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে যদি এই উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত পরিহার করা না হয়, তাহলে এবার শুধু ফুলবাড়ী থেকেই সরকারকে পিছু হটতে হবে না—জাতীয় সম্পদ বিদেশীদের হাতে তুলে দেওয়া এবং ফুলবাড়ীর শহীদদের সাথে বেইমানি করার অপরাধে সাধারণ জনগণ তাদের এ দেশ থেকেই বিতাড়িত করবে।

তিনি উল্লেখ করেন, সারা দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের জাতীয় সম্পদ বিদেশীদের হাতে তুলে দেওয়ার যেকোনো চক্রান্ত রুখে দেবে এবং উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন প্রতিরোধ করবে।
শ্রদ্ধা নিবেদন ও উক্ত প্রতিবাদী সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইকবল কবির জাহিদ, কেন্দ্রীয় নেতা ও যশোর জেলা সম্পাদক কমরেড তসলিমুর রহমান, যশোর জেলা কমিটির নেতা পলাশ বিশ্বাস, শহর শাখার নেতা হাবিবুর রহমান মোহন, এনামুল কবির মুক্তি, যশোর জেলার বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী ছায়হাম বিশ্বাস অর্ক, সাবেক ছাত্রনেতা শিমুল বিশ্বাস ও প্রদীপ বিশ্বাস।

কর্মসূচি থেকে জাতীয় সম্পদ রক্ষা এবং বহুজাতিক কোম্পানির চক্রান্ত প্রতিহত করতে সর্বস্তরের জনগণকে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 09:14 pm, Thursday, 27 August 2026
48 Time View

ফুলবাড়ী দিবসে যশোরে শহীদ মিনারে বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের শ্রদ্ধা ও সমাবেশ

Update Time : 09:14 pm, Thursday, 27 August 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফুলবাড়ী দিবস উপলক্ষে বুধবার সকালে যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এম এম) কলেজ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুলবাড়ীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ, যশোর জেলা শাখা। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

পরবর্তীতে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, ফুলবাড়ীর রক্ত এবং ত্যাগ শুধু কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের নয়, তা পুরো দেশের জাতীয় সম্পদ রক্ষার লড়াইয়ের প্রতীক।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড ইকবাল কবির জাহিদ তৎকালীন ও বর্তমান সরকারের কয়লা উত্তোলন নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের আমলে প্রথম উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের চুক্তি করা হয় এবং ১৩৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারও সেই চুক্তি নবায়ন করে। পরবর্তীতে বিএনপি সরকার এশিয়া এনার্জির সাথে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের জন্য নতুন করে চুক্তি স্বাক্ষর করে। এর প্রতিবাদে আজকের এই দিনে ফুলবাড়ীর বিক্ষুব্ধ জনগণ এশিয়া এনার্জির কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করে।

তৎকালীন ট্র্যাজেডির ইতিহাস তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, সেই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে তৎকালীন বিডিআর অতর্কিতভাবে হামলা ও গুলি বর্ষণ করে। গুলিতে আল-আমিন, সালেকিন ও তরিকুল নির্মমভাবে নিহত হন এবং দশ হাজারের অধিক মানুষ আহত হন। আজও কয়েক হাজার মানুষ সেই হামলার কারণে পঙ্গুত্ব বরণ করে দিন কাটাচ্ছেন। আল-আমিন, সালেকিন ও তরিকুলের রক্তের ওপর দিয়েই ফুলবাড়ীর ঐতিহাসিক বিজয় অর্জিত হয়েছিল।

বর্তমান সরকারের নীতির কঠোর সমালোচনা করে কমরেড তসলিম উর রহমান হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বর্তমান সরকার অতীত থেকে কোনো শিক্ষা না নিয়ে নতুন করে আবার উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে যদি এই উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত পরিহার করা না হয়, তাহলে এবার শুধু ফুলবাড়ী থেকেই সরকারকে পিছু হটতে হবে না—জাতীয় সম্পদ বিদেশীদের হাতে তুলে দেওয়া এবং ফুলবাড়ীর শহীদদের সাথে বেইমানি করার অপরাধে সাধারণ জনগণ তাদের এ দেশ থেকেই বিতাড়িত করবে।

তিনি উল্লেখ করেন, সারা দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের জাতীয় সম্পদ বিদেশীদের হাতে তুলে দেওয়ার যেকোনো চক্রান্ত রুখে দেবে এবং উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন প্রতিরোধ করবে।
শ্রদ্ধা নিবেদন ও উক্ত প্রতিবাদী সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইকবল কবির জাহিদ, কেন্দ্রীয় নেতা ও যশোর জেলা সম্পাদক কমরেড তসলিমুর রহমান, যশোর জেলা কমিটির নেতা পলাশ বিশ্বাস, শহর শাখার নেতা হাবিবুর রহমান মোহন, এনামুল কবির মুক্তি, যশোর জেলার বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী ছায়হাম বিশ্বাস অর্ক, সাবেক ছাত্রনেতা শিমুল বিশ্বাস ও প্রদীপ বিশ্বাস।

কর্মসূচি থেকে জাতীয় সম্পদ রক্ষা এবং বহুজাতিক কোম্পানির চক্রান্ত প্রতিহত করতে সর্বস্তরের জনগণকে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।